আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতে পৃথিবীতে শুরু হয় এক আদিম উৎসব। সনাতন বিশ্বাস মতে, এই সময়ে ঋতুমতী হন মা ধরিত্রী। দেবীর এই রজস্বলা হওয়ার দশাকে অম্বুবাচী বলে। এবার পালা অম্বুবাচী নিবৃত্তি। অম্বুবাচী চলাকালীন যেমন কয়েকটি নিয়ম মানা প্রয়োজন। তেমন আবার নিবৃত্তির সময়েও দরকার কিছুটা নিয়ম মেনে চলার। নইলে হতে পারে ঘোর সর্বনাশ!
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক, অম্বুবাচী নিবৃত্তির নির্ঘণ্ট। অম্বুবাচী শুরু হয়েছিল গত সোমবার রাত ৭টা ৩৮ মিনিটে। শেষ হবে আগামী শুক্রবার রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে। হিন্দুমতে ও সনাতন শাস্ত্র অনুসারে মানা হয়, সূর্যদেব আর্দ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করলে বর্ষার শুরু। বর্ষাকালে পৃথিবী সিক্ত হলে তা ঋতুস্রাবের সঙ্গে তুলনা হয়। কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে ঋতুস্রাবের মিল কোথায়? সনাতন ধর্মে পৃথিবীকে মা রূপে মানা হয়। সেই থেকেই পৃথিবী ঋতুমতী বলে মানা হয়। অম্বুবাচীর সঙ্গে কৃষিকাজের গভীর যোগ রয়েছে। তিনদিন কৃষির সমস্ত কাজ বন্ধ থাকে। বীজ রোপন থেকে ফসল ঘরে তোলা- সবই বন্ধ থাকে। তাছাড়া এই সময়কালে কোনও শুভকাজ যেমন, বিয়ে, উপনয়ন, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ, গৃহারম্ভ কোনও কিছুই করা হয় না।
অম্বুবাচীর সময়টিকে অনেকেই মনে করে পৃথিবী অশুচি। তারপর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে কয়েকটি নিয়ম মানা আবশ্যক। সেগুলি হল:
- অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পরদিন সকালে ঘরের সমস্ত জামাকাপড়, বিছানার চাদর ভালো করে কেচে ফেলুন।
- ঘরবাড়ি ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।
- নিজে সাবান ও শ্যাম্পু মেখে স্নান করুন।
- স্নান সেরে শুদ্ধবস্ত্র পরুন।
- ঠাকুরঘরে গিয়ে দেবীদের আসন ও মূর্তি থেকে কাপড় সরিয়ে নিন।
- ভালো করে ঠাকুরের আসন পরিষ্কার করুন।
- এবার ভক্তি ভরে পুজো দিন।
- আবার নতুন করে চাষাবাদের কাজও শুরু করতে পারেন।
- যেকোনও মাঙ্গলিক কাজের ক্ষেত্রেও আর রইল না কোনও বাধা।
