উত্থান-পতন নিয়েই জীবন। ভালো সময় যেমন আসে তেমনই আসে দুঃসময়ও। চোয়াল শক্ত রেখে তা পার করা কিন্তু মুখের কথা নয়। এই কঠিন সময়গুলোতে সকলেই চায় একটা ভরসার হাত। ঈশ্বরের উপর আস্থা রেথে এই কঠিন সময়েও লড়াই চালিয়ে যান সকলে। অনেকেই আবার সংখ্যাতত্ত্ব ও জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্য নেন। অনেকেই অ্যাঞ্জেল নম্বর দেখলেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। মনোবাঞ্ছা জানিয়ে ভাবেন অন্ধকার কেটে এবার আলোর দেখা মিলবে। কিন্তু সত্যিই কি মনোস্কামনা পূরণ করে অ্যাঞ্জেল নম্বর? জানেন ১১:১১-এর গুরুত্ব ঠিক কতটা?
চলুন আগে জেনে নেওয়া যাক কী এই অ্যাঞ্জেল নম্বর? সংখ্যার পুনরাবৃত্তিতে যে বিশেষ সংখ্যা তৈরি হয় তাকে ঐশ্বরিক সংকেত বলে ধরে নেওয়া হয়। যেমন ১১১, ২২২, ৩৩৩। অর্থাৎ একই সংখ্যা পরপর দু'বার বা তিনবার বসলে তাকে অ্যাঞ্জেল নম্বর মনে করা হয়। তবে ঘড়িতে ১১ টা বেজে ১১ মিনিট নিয়ে সকলেই একটু স্পর্শকাতর। মোবাইল স্ক্রিনে ১১:১১ দেখলেই প্রায় সকলেই প্রার্থনা সেরে ফেলেন। কেউ কেউ ১১:১১-এর স্ক্রিনশটও পোস্ট করেন। বারবার যদি এই অ্যাঞ্জেল নম্বর চোখে পড়ে যায় তাকে সৌভাগ্যই মনে করেন সকলে। সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে তা সত্যি হলেও রয়েছে এর মনোস্তাত্বিক ব্যাখ্যাও।
সত্যিই মনোবাঞ্ছা পূরণ করে অ্যাঞ্জেল নম্বর ১১:১১?
কী বলছে সংখ্যাতত্ত্ব? মনে করা হয়, এই নম্বর দেবতার সংকেত। ১১ সংখ্যাটি মাস্টার নম্বর। পরপর দু'বার ১১ এলে তাকে সৌভাগ্যের বার্তা বলে ধরে নেওয়া হয়। অনেকেই মনে করেন এই নম্বরটি বারবার দেখার অর্থ, সুসময় আসতে চলেছেন। এই সময়ে নাকি প্রার্থনা করলে তা পূরণ হয়। অনেকেই সোশাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, এই নির্দিষ্ট নম্বর দেখে প্রার্থনা করে তা পূরণ হয়েছে। ফলে এটা একটা বড় অংশের মানুষের বিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা বিজ্ঞান, যুক্তির উর্ধ্বে।
তবে মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা হল, মানুষ যে কোনও নতুন বিষয়ের মধ্যেই অর্থ খুঁজতে ভালোবাসে। আবার আমরা যে বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হই, তা বারবার আমাদের চোখের সামনে চলে আসে। ধরুন কিছু খাওয়ার কথা ভাবলেন, দেখবেন বারবার সোশাল মিডিয়ার ওয়ালে চলে আসবে সেই সংক্রান্ত ছবি, খবর। ঠিক একইভাবে বারবার নজরে পড়ে যায় ১১:১১। হতাশাগ্রস্ত যে কেউ তার মধ্যেই আশার আলো খুঁজতে ভালোবাসে।
