মহাদেবের পুজোয় কেবল ফুল-বেলপাতাই যথেষ্ট নয়। সঠিক মন্ত্রোচ্চারণে দেবাদিদেবকে তুষ্ট করুন আসন্ন মহাশিবরাত্রিতে। কোন মন্ত্রে প্রসন্ন হবেন ত্রিকালজ্ঞ? জেনে নেওয়া যাক।
ধর্মীয় বিশ্বাস, মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে মিলিত হন শিব-পার্বতী। এ-রাতেই বিধ্বংসী তাণ্ডব নৃত্যে মেতেছিলেন মহাদেব। তাই শিবরাত্রির মাহাত্ম অবর্ণনীয়। সঠিক পূজা-উপাচারে মিলতে পারে ঈশ্বরের অপার কৃপা। দেহ-মন-আত্মা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মহাজাগতিক শক্তির পরশে।
ওঁ নম শিবায়
শিবভক্ত মাত্রেই জানেন এই মন্ত্রখানি। মহাদেবের কাছে আশীর্বাদ চেয়ে, রোজের জীবনে শান্তি ও সুরক্ষার কামনা করা যায় এই মন্ত্র বলে। ভক্তের সঙ্গে ঈশ্বরের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এ’মন্ত্র। শিবভক্তদের একান্ত বিশ্বাস, শিবের মতো বর চাইতে হলে নাকি এ মন্ত্র অব্যর্থ! নিবিষ্ট মনে এই মন্ত্র পাঠ করলে মেলে শিবের মতোই স্বামী, যিনি একাধারে আধ্যাত্মিক ও শৌর্যবান।
ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।
উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।
সমস্ত মৃত্যুভয় ও বিপদ থেকে মুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করতে, মহাদেবের পুজোয় পাঠ করা যেতে পারে এই মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র। মন হয় আলোকিত, দূর হয় সমস্ত ভয় ও জীবনের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব।
ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ
সবচাইতে শক্তিশালী মন্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম এই রুদ্র গায়ত্রী মন্ত্র। যা পাঠে, মনন শুদ্ধ হয়। আধ্যাত্মিক জাগরণ ও প্রজ্ঞালাভের পথ প্রশস্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের রোগমুক্তি ও শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও কার্যকরী এই মন্ত্র, বিশ্বাস ভক্তকুলের।
ওঁ নমো ভগবতে রুদ্রায় নমঃ
উক্ত রুদ্র মন্ত্রের জপ, এনে দেয় মানসিক প্রশান্তি। এ যেন মহাকালের উদ্দেশে আত্মসমর্পণকেই সহজ করে দেয়। অন্য মন্ত্রগুলির মতোই আধ্যাত্মিক উন্নতি ও সার্বিক সুরক্ষা প্রার্থনায় কাজে দেয় এই মন্ত্র। তবে তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ করতে, ১০৮ বার জপ করা যেতে পারে রুদ্রাক্ষের মালা।
ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতংসং
রত্নাকল্পোজ্জ্বলঙ্গং পরশুমৃগবরাভীতিহস্তং প্রসন্নম্।
পদ্মাসীং সমস্তাৎ স্ততমমরগণৈ ব্যাঘ্রকৃত্তিং বসানং
বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিলভয়হরং পঞ্চবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্।।
নিয়ম মেনে শিব ধ্যান মন্ত্রের জপ ভক্তের পাপক্ষয় করে। একাগ্রতা বাড়ায়। দুঃখ হরণ করে। এই মন্ত্রপাঠ অবশ্য করা হয় নটরাজ, ভৈরব অথবা দক্ষিণামূর্তির সম্মুখে।
তবে মন্ত্র যাই হোক না কেন, ভক্ত যদি মন থেকে আহ্বান করে, তবে পশুপতিনাথ অতিঅবশ্যই সে ডাকে সাড়া দেবেন।
