ধরা যাক, পাশাপাশি তিনটি কাচের গ্লাসে ঢালা আছে অ্যালকোহল! এর মধ্যে একটি গ্লাসে রাম, একটিতে হুইস্কি, একটিতে ভদকা। এবার গ্লাসগুলির দিকে তাকালে আপনি এমন তিনটি পানীয় দেখতে পাবেন, যাদের মধ্যে রাসায়নিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও পার্থক্যই নেই বললেই চলে। তাহলে তফাত তৈরি হয় কী করে?
উল্লেখ্য, ইথানল একটি ক্ষুদ্র ও বেশ সাধারণ ধাঁচের অণু। যেখানে দুটি কার্বন, ছয়টি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু রয়েছে। সংকেত C2H5OH। এর কোনও যমজ রূপ নেই। কিংবা উল্লেখযোগ্য কোনও বিকল্প বিন্যাসও নেই। ইথানল বলতে কেবল একটিই নির্দিষ্ট অণুকেই বোঝায়। আখ, বার্লি, আঙুর কিংবা পেট্রোকেমিক্যাল রিঅ্যাক্টর, যেখান থেকেই এটি আসুক না কেন, তা আসলে একই বস্তু।
বলে রাখা ভালো, এগুলোর প্রতিটিতেই অ্যালকোহলের অণু একই এবং এর পরিমাণও প্রায় সমান। এমনকী, এগুলো আপনার লিভারের নির্দিষ্ট কিছু এনজাইমের উপরে হুবহু একই প্রভাব ফেলে। এদের স্বাদে যে পার্থক্য পাওয়া যায়, বা যে কারণে আপনি জোর দিয়ে বলতে পারেন যে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন পানীয়, তা আসলে ওই তরলের এক অতি ক্ষুদ্র অংশের মধ্যে নিহিত! কনজেনার নামের স্বল্পমাত্রার সেই যৌগই গড়ে দেয় ফারাক। ল্যাবরেটরি রিপোর্টেও কিন্তু খুব একটা ধরা পড়ে না এই যৌগের উপস্থিতি। অথচ আসল 'নাটের গুরু' এই যৌগই। বিজ্ঞানীরা বলছেন রাম, হুইস্কি এবং ভদকায় একই ইথানল অণু দৃশ্যমান। তবু তা গেঁজিয়ে মদত তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ পাতনের সময় কিছু ক্ষুদ্র উপজাত বা কেমিক্যাল তৈরি হয়। এগুলোকেই কনজেনার বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মেথানল, অ্যাসিটোন, এস্টার এবং ট্যানিন। এদেরই বলে কনজেনার।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কনজেনার শুধুমাত্র স্বাদ বা গন্ধই বদলায় না, তা আপনার শরীরের উপরেও প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে অ্যালকোহলে কনজেনার যত বেশি (যেমন গাঢ় রঙের রাম বা হুইস্কি), সেটি পানের পরদিন হ্যাংওভার (মাথাব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তি) তত বেশি হতে পারে। ভদকার মতো পরিষ্কার অ্যালকোহলে কনজেনার কম থাকায় হ্যাংওভার তুলনামূলক কম হয়।
