এখন থেকে গোরালদের রেডিও কলার পরিয়ে জঙ্গলে ছাড়া হবে। তিনমাস তাদের মনিটরিং করা হবে। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদপ্তর। পাহাড়ের নীরব বাসিন্দা গোরাল। পাহাড়ি অরণ্যের খাড়া পাথুরে ঢাল, ঘন জঙ্গল আর দুর্গম পাহাড়ি পথে নিঃশব্দে বিচরণ করে। দেখতে অনেকটা ছাগলের মতো হলেও গোরাল আসলে ছাগল নয়। হিমালয়-সহ ভারতীয় উপমহাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের এই তৃণভোজী প্রাণী প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারে হিমালয়ন এই প্রাণীকে বিপন্নপ্রায় তালিকায় রয়েছে।
দার্জিলিংয়ে উচু এলাকায় এদের দেখা যায়। কার্শিয়াংয়ে ডাওহিল সংরক্ষণ কেন্দ্রে গোরাল প্রজনন হয়। সেখান থেকে মাঝে মাঝে গোরাল ছাড়া হয়ে থাকে। এই মাসে ফের এক জোড়া গোরাল ছাড়তে চলেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই প্রথম রেডিও কলার পরিয়ে তাদের ছাড়া হবে। রাজ্য জু অথরিটি সূত্রে খবর, আগেও জঙ্গলে গোরাল ছাড়া হয়েছে। তখন রেডিও কলার ছাড়াই ছাড়া হত। যে কারণে জঙ্গলে ছাড়ার পর তাদের পরিস্থিতি কী হয়েছে? তারা সেখানে মানিয়ে নিতে পারছে কি না তা জানা যেত না। তাই এখন থেকে গোরালকেও রেডিও কলার পরিয়ে জঙ্গলে ছাড়া হবে।
বর্তমানে ডাওহিল সংরক্ষণকেন্দ্রে ৩০টি মতো গোরাল রয়েছে। এদের মধ্যে ১০টি গোরাল লাটপাঞ্চার জঙ্গলে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধাপে ধাপে এদের ছাড়া হবে। এই মাসে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী গোরাল ছাড়ার কথা। জঙ্গলে যাতে খাপ খাইয়ে নিতে পারে তার জন্য তাদের খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ছোলা, ভুসি, যবের পরিমাণ কমিয়ে বেশি করে পাতা দেওয়া হচ্ছে। সারাদিন রেডিও কলার পরে থাকছে তারা।
