দুধ খেলেই মানবদেহ পায় ভরপুর শক্তি, এ কথা সকলেই জানেন। প্রোটিনের এমন প্রাকৃতিক উৎস খুব কমই রয়েছে। নিয়মিত গরুর দুধ পান করতে পারলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি কমে। গরুর দুধের বিকল্প অন্য কোনও খাবারই হতে পারে না বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। তবে সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে এমন এক তথ্য, যা হয়রান করে দিয়েছে তামাম বিজ্ঞানীদের। খোঁজ মিলেছে এমন এক প্রাণীর, যার দুধে গরুর দুধের চাইতেও বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। ফলে তা পান করলে প্রায় তিনগুণ বেশি শক্তি পাওয়া যাবে! এমনকী সরাসরি ‘সুপারফুড’ তকমা দেওয়া যেতে পারে এই দুধকে।
আসলে প্রাণী নয়, এক বিশেষ পতঙ্গকে ঘিরে এই আলোচনা। আর সে পতঙ্গ এক আরশোলা! অর্থাৎ, যদি বলা যায় যে আরশোলার দুধে (Cockroach Milk) গরুর দুধের চাইতেও উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে, তবে তা ভুল হয় না! এই গবেষণার ফলে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রসায়নে ‘আইজি নোবেল প্রাইজ’ লাভ করেছেন বিজ্ঞানীদের দলটি। সে দলে রয়েছেন ভারতীয় বিজ্ঞানী সঞ্চারী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই নোবেল জয়ের কাহিনী সামনে আসতে তা রীতিমতো ‘ভাইরাল’ হয়েছে অল্প সময়েই।
সত্যিই কি এমনটা সম্ভব? গবেষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনাও। আসলে সব আরশোলার দেহে দুধ তৈরি হয় না। এই আশ্চর্য দুধ পাওয়া যায় ‘প্যাসিফিক বিটল ককরোচ’ নামের এক বিশেষ আরশোলার দেহে। এই পতঙ্গের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘ডিপলপটেরা পাংকটাটা’। এই প্রজাতি অন্যান্য প্রজাতির আরশোলাদের মতো ডিম পাড়ে না, বরং স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো সন্তানের জন্ম দেয়। মায়ের শরীর নিঃসৃত দুধই হয় সেই সন্তানের প্রথম খাদ্য ও প্রধান পুষ্টির উৎস। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গরুর দুধের তুলনায় তিনগুণ বেশি শক্তি সঞ্চিত থাকে এই আরশোলার দুধের প্রোটিন ক্রিস্টালে।
প্যাসিফিক বিটল ককরোচ
তবে মানুষ কি এই দুধ পান করতে পারে? এইখানে এসে থামে আসল প্রশ্ন। এই দুধ বর্তমানে মানুষের জন্য সাধারণ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না এবং মানুষের খাওয়ার জন্য নিরাপদ বলেও প্রমাণিত হয়নি। তাই তা আরশোলার সদ্যোজাত সন্তানের জন্য সুপারফুড হলেও মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণীর ক্ষেত্রে কতখানি কার্যকর, সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
