সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী গ্রহে কি শেষমেশ 'প্রতিবেশী'দের দেখা মিলবে? লালগ্রহ নিয়ে ফের এই কৌতূহল উসকে উঠল চিনা বিজ্ঞানীদের একটি দাবি ঘিরে। সম্প্রতি তাঁদের গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, মঙ্গল গ্রহের বিখ্যাত 'হিব্রাস ভ্যালি'তে (Hebrus Valles) অন্তত ৮ টি এমন গহ্বর পাওয়া গিয়েছে, যা নাকি জলে তৈরি হয়েছিল। আগে মনে করা হয়েছিল, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এসব গুহামুখের জন্ম। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, আগ্নেয়গিরির লাভা নয়, বরং জলের মতো কোনও তরলে পাথরখণ্ড খানিকটা দ্রবীভূত হয়ে এসব গুহা তৈরি হয়। আর চিনা বিজ্ঞানীদের এই দাবি মঙ্গল সম্পর্কে আমাদের ধারণা আমূল বদলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কৌতূহলীদের স্বাভাবিক প্রশ্ন, তাহলে কি মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব এবার মিলবে?
লালগ্রহের 'হিব্রাস ভ্যালি'তে সম্প্রতি গবেষণা চালিয়েছিলেন চিনের একদল বিজ্ঞানী। তাতেই যুগান্তকারী বিষয় তাঁদের নজরে এসেছে বলে দাবি। গত অক্টোবরে 'দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স'এ প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। তাতে নাসার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে মঙ্গলের নতুন আবিষ্কৃত গুহা বা গহ্বরগুলি সম্পর্কে। নাসার উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্র থার্মাল এমিশন স্পেকট্রোমিটারের ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হচ্ছে, লালগ্রহের ওই অংশের প্রতিটি গহ্বর নিটোল গোল এবং গভীর। তাতে অভিনব কিছু পাথরখণ্ড পাওয়া গিয়েছে। যার রাসায়নিক পরীক্ষা করে কার্বনেট এবং সালফেটের উপস্থিতি দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
আরও পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীদের দাবি, এ ধরনের গহ্বর তৈরি হয়েছিল পৃথিবী সৃষ্টির সময়। কিন্তু মঙ্গলের বুকে একইভাবে সৃষ্ট গহ্বরের সন্ধান এই প্রথম। সৌর বিকিরণ, ধুলোর ঝড় এবং তাপমাত্রার চরম পরিবর্তনের জেরে এমন পরিস্থিতি বলে দাবি। এধরনের গুহায় অণুজীব থাকার মতো পরিবেশ থাকে বলে মত বিজ্ঞানীদের। তবে কি প্রতিবেশী গ্রহেও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে? এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। যদি তেমনটাই হয়, সেক্ষেত্রে মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে গবেষণা নয়া মাত্রা পাবে নিঃসন্দেহে।
