সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার মহাকাশপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে দারুণ রোমাঞ্চ। নতুন বছরে মহাকাশে মোট চারটি গ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। এর মধ্যে দু’টি সূর্যগ্রহণ এবং দু’টি চন্দ্রগ্রহণ। কিন্তু ভারতের আকাশে সব ক’টি দেখার সৌভাগ্য হবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চারটি গ্রহণের মধ্যে কেবল একটিই ভারত থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। বাকি তিনটি গ্রহণ এ দেশ থেকে দৃশ্যমান হবে না। কিংবা দৃশ্যমান হলেও অতি সামান্য।
বছরের প্রথম মহাজাগতিক চমক দেখা যাবে ১৭ ফেব্রুয়ারি। এটি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘রিং অফ ফায়ার’ বলে থাকেন। এদিন সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাবে চাঁদের ছায়ায়। প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে এই বিরল মুহূর্ত। তবে মন খারাপের খবর এই যে, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে দেখা গেলেও ভারতের আকাশ থেকে এই ‘অগ্নিবলয়’ দেখা যাবে না।
আক্ষেপ মিটবে ৩ মার্চ। এদিন ভারতবাসী প্রত্যক্ষ করবে বছরের একমাত্র দৃশ্যমান গ্রহণ— একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। প্রায় ৫৮ মিনিট ধরে চলবে এই মহাজাগতিক লীলা। পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করবে, যাকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’। জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং বিজ্ঞান উভয় দিক থেকেই এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৯ সালের আগে এটিই হবে পৃথিবীর শেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। ভারতে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ায় সুতক কালও মানা হবে।
মহাকাশ গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই গ্রহণগুলি বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার নতুন পথ খুলে দেবে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি যেমন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার হাতছানি, তেমনই জ্যোতিষ মতেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২৬ সালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভারতের আকাশ থেকে ওই দিন লাল রঙের চাঁদের মায়াবী রূপ দেখা যাবে। সব মিলিয়ে মহাকাশ চর্চার আঙিনায় ২০২৬ এক উল্লেখযোগ্য বছর হতে চলেছে।
