মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যাবে ভারত থেকেও। সোমবার গভীর রাতে দেখা যাবে এই দৃশ্য। সূর্যের বুকে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর সেই কারণেই আমাদের নীল রঙ্রে গ্রহের বুকে আছড়ে পড়বে সৌরশিখা। আর সেই কারণেই আকাশে দেখা যাবে আলোর 'অপার্থিব' নাচ! হ্যাঁ, এদেশ থেকেই দেখা যাবে সেই অনুপম সৌন্দর্য। স্বাভাবিক ভাবেই উন্মুখ আকাশপ্রেমীরা।
গত সপ্তাহ থেকেই সূর্যকে 'রেগে' থাকতে দেখা গিয়েছে। এই কারণেই বিরাট আগুনের গোলা উগরে দিতে দেখা গিয়েছে তাকে। এবার সূর্য থেকে নির্গত সৌরশিখা ছুটে আসছে পৃথিবীর দিকে। গতি সেকেন্ডে ১৪০০ কিলোমিটার। সোমবারই তা আছড়ে পড়বে পৃথিবীর বুকে। যে কারণেই আকাশে দৃশ্যমান হবে মেরুজ্যোতির অমল বিভা!
ভারতের কোন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে ওই দৃশ্য? আসলে দূষণমুক্ত অঞ্চল হলেই চমৎকার দেখা যাবে এই দৃশ্য। সেই কারণে আকাশপ্রেমীরা এই দৃশ্য দেখতে পাবেন লাদাখের হানলে ডার্ক স্কাই রিজার্ভ থেকে। সবুজ ও বেগুনি আলোর মেলা এখান থেকেই সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। এছাড়া কার্গিলের দ্রাস, অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকেও এই দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে পারবেন সকলে। তবে লাদাখ থেকেই সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।
কোন সময়ে দেখা যাবে মেরুজ্যোতি? মধ্যরাতে উত্তর দিকে মুখ করে এই দৃশ্য দেখতে পাবেন। তবে ধৈর্য রাখতে হবে। অবশ্য আকাশপ্রেমীরা জানেন, এই ধরনের অসামান্য অভিজ্ঞতার জন্য অপেক্ষা করতেই হয়। মোটামুটি ভারতীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটা থেকে মধ্যপাত আড়াইটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে আকাশের রঙের খেলা। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসেও এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। এবারের তীব্রতা অবশ্য ততটা থাকবে না। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আকাশপ্রেমীরা এই দৃশ্য দেখতে পাবেন লাদাখের হানলে ডার্ক স্কাই রিজার্ভ থেকে। সবুজ ও বেগুনি আলোর মেলা এখান থেকেই সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।
ভারত ছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেই মেরুজ্যোতি দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার মিনিয়াপোলিস, সিয়াটেল, ব্যাঙ্গর এবং কানাডার বিস্তৃত অঞ্চল থেকে তা দৃশ্যমান হবে। এছাড়া ইউরোপের স্কটল্যান্ড এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে এই দৃশ্য দেখার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। জার্মানি এবং পোল্যান্ড থেকেও তা দেখা যাবে। স্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া, নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা ও চিলির দক্ষিণ প্রান্তের বাসিন্দারাও এই দৃশ্যের সাক্ষী হবেন।
