shono
Advertisement
Bird

বিলে চোরাশিকারিদের থাবা! বিরল প্রজাতির পাখিকে বাঁচিয়ে 'হিরো' মৎস্যজীবীর দল

তেহট্টের চাঁদবিলের ঘটনায় পলাতক চোরাশিকারির দল। মৎস্যজীবীদের এই পরিবেশ সচেতনতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে সর্বস্তরে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:31 PM Jun 11, 2026Updated: 05:31 PM Jun 11, 2026

বিলের বুকে চোরাশিকারিদের থাবা! আর তাদের হাত থেকে বিরল প্রজাতির এক পাখিকে উদ্ধার করলেন মৎস্যজীবীরা। 'গ্রেট হোয়াইট হেরন' নামে ওই বিরল পাখি শিকার করতে না পেরে পলাতক চোরাশিকারির দল। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে পাখির চোরাশিকার রুখে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনন্য নজির গড়লেন নদিয়ার তেহট্টের বেয়াইয়ের একদল মৎস্যজীবী। তেহট্ট থানা এলাকার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী বেতাই চাঁদবিলে ফাঁদ পেতে বিভিন্ন পাখির পাশাপাশি একটি বিরল প্রজাতির 'গ্রেট হোয়াইট হেরন' অর্থাৎ সাদা বক জাতীয় পাখিটিকে শিকারের জন্য টার্গেট করেছিল চোরাশিকারীরা। কিন্তু স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বাসিন্দাদের তৎপরতায় পাখি শিকারে ব্যর্থ হয় তারা। সাদা পাখিটিকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরে খবর দেন মৎস্যজীবীরা। তাঁদের এই পরিবেশ সচেতনতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে সর্বস্তরে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই এদিন সকালেও বেতাই চাঁদবিলে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ঠিক সেই সময় বিলের এক নির্জন প্রান্তে কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। আচমকাই দেখা যায়, বিলের চরে বসে থাকা একটি ধবধবে সাদা বড় আকারের বক পাখি ফাঁদে আটকে ছটফট করছে এবং এক ব্যক্তি পাখিটিকে জখম অবস্থায় খাঁচাবন্দি করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি নজরে আসতেই আর সময় নষ্ট করেননি মৎস্যজীবীরা। তাঁরা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললে ওই শিকারি পালিয়ে যায় এবং জখম পাখিটিকে উদ্ধার করেন।

বিরল প্রজাতির 'গ্রেট হোয়াইট হেরন' পাখিটি শিকারির জালে পড়ে কিছুটা আঘাত পেয়েছে। নিজস্ব ছবি

খবর দেওয়া হয় তেহট্ট বনদপ্তরকে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। মৎস্যজীবীরা উদ্ধার হওয়া পাখি বনদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পাখিটি সাধারণ বক নয়, এটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির একটি 'গ্রেট হোয়াইট হেরন'। শিকারির জালে পড়ার কারণে পাখিটি কিছুটা আঘাত পেয়েছে। বর্তমানে বনদপ্তরের কার্যালয়ে রেঞ্জ অফিসারদের তত্ত্বাবধানে পাখিটির চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষা চলছে। বনদপ্তরের আধিকারিক সুদিন দাসের বক্তব্য, “পাখিটি এখন আমাদের নজরদারিতে সুস্থ হয়ে উঠছে। সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ওড়ার উপযোগী হলেই তাকে আবার তার চেনা প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হবে।”

এলাকার পক্ষীপ্রেমী শুভঙ্কর ঘোষ জানান, ​শীতকাল না হলেও বেতাইয়ের চাঁদবিলের মতো জলাশয়গুলিতে সারা বছরই দেশি-বিদেশি প্রচুর জলজ পাখির আনাগোনা থাকে। আর এই পাখিদের লোভেই কিছু অসাধু শিকারি মাঝেমধ্যেই বিলের আশেপাশে ফাঁদ পাতে। তবে এবার মৎস্যজীবীদের এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার জেরে একটি নিরীহ বন্যপ্রাণের প্রাণ বাঁচল। বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা পরিবেশপ্রেমীদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement