বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝে স্বস্তির হাওয়া দেশের গাড়ি চালকদের মধ্যে। খনিজ তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে যখন যুদ্ধের মেঘ, তখনই বিকল্প জ্বালানির দিশা দেখাল ভারত। রাজধানী দিল্লির এক পেট্রোল পাম্পে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী নিজে গাড়িতে তেল ভরে সূচনা করলেন এক নতুন অধ্যায়ের। দেশের বাজারে সরকারি ভাবে পা রাখল ‘ইথানল ৮৫’ বা সংক্ষেপে ‘E85’ জ্বালানি (E85 Fuel)। এক ধাক্কায় কমবে যাতায়াতের খরচ। কমবে বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতাও।
আসল বিষয় হল, দেশের সিংহভাগ গাড়িই এই অতি মাত্রার ইথানল মিশ্রিত তেল ব্যবহারের উপযোগী নয়। E85 মূলত তৈরি হয়েছে বিশেষ প্রযুক্তির ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ বা এফএফভি (FFV) গাড়ির জন্য। এই তেলের ম্যাজিক এর উপাদানে। সাধারণ পেট্রোল কমিয়ে এতে মেশানো থাকছে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ইথানল। আর পেট্রোলের পরিমাণ মাত্র ১৪ থেকে ১৯ শতাংশ।
কিন্তু এই খুশির খবরের পিঠোপিঠই সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে একরাশ আশঙ্কা। সোশাল মিডিয়া জুড়ে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি লাখ লাখ টাকা খরচ করে কেনা পুরনো গাড়িগুলো এবার বাতিল হয়ে যাবে? স্ক্র্যাপ বা খেলনায় পরিণত হবে গ্যারেজে থাকা সাধের যানবাহন? সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগ দূর করতে ময়দানে নেমেছে খোদ কেন্দ্র সরকার। আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে, এখনই ভয়ের কোনও কারণ নেই। পুরনো গাড়ি বাতিল হচ্ছে না।
আসল বিষয় হল, দেশের সিংহভাগ গাড়িই এই অতি মাত্রার ইথানল মিশ্রিত তেল ব্যবহারের উপযোগী নয়। E85 মূলত তৈরি হয়েছে বিশেষ প্রযুক্তির ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ বা এফএফভি (FFV) গাড়ির জন্য। এই তেলের ম্যাজিক এর উপাদানে। সাধারণ পেট্রোল কমিয়ে এতে মেশানো থাকছে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ইথানল। আর পেট্রোলের পরিমাণ মাত্র ১৪ থেকে ১৯ শতাংশ। এই মুহূর্তে ভারতের বাজারে হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল, হিরো এইচএফ ডিলাক্স ফ্লেক্স মোটরবাইক এবং মারুতি সুজুকির ওয়াগনআর ফ্লেক্স ফুয়েল মডেলে এই তেল অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে। টাটা মোটর্স-সহ অন্যান্য সংস্থাও খুব দ্রুত এই প্রযুক্তির গাড়ি বাজারে আনতে চলেছে।
সাধারণ মানুষের পকেটের কথা ভেবেই এই জ্বালানির দাম রাখা হয়েছে প্রতি লিটারে মাত্র ৮২.১২ টাকা। যা প্রচলিত পেট্রোলের তুলনায় অনেকটাই সস্তা। প্রাথমিক ভাবে দেশের ৮৫টি সরকারি পেট্রোল পাম্পে এই তেল মিলবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। পরবর্তী ধাপে তা ৫০০০-এ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তা হলে সাধারণ গাড়ির কী হবে? মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরনো গাড়ির মালিকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাঁদের গাড়ি আগের মতোই ‘E20’ বা ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলেই চলবে। পাম্পে স্পষ্ট করে লেখা থাকবে তেলের ধরন। জোর করে কারও গাড়িতে এই তেল দেওয়া হবে না। ফলে নতুন প্রযুক্তি যেমন পরিবেশ ও পকেট বাঁচাবে, তেমনই সুরক্ষিত থাকবে আপনার পুরনো গাড়িও।
