সময়ের জলছাপ! নাকি আদিমতর এক শিল্পরূপ? কী নামে ডাকা যায় পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা চিত্রকলাকে? ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে সন্ধান মিলেছে এমনই আদিম সব চিহ্নের! মনে করা হচ্ছে এগুলি আঁকা হয়েছে অন্তত ৬৭ হাজার ৮০০ বছর আগে। যা প্রমাণ করে দিচ্ছে আধুনিক মানুষের পা ভারত-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পড়েছিল ৬৫ হাজার বছরেরও আগে। এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্র।
গবেষকরা বুধবার জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসির মুনা দ্বীপের চুনাপাথরের গুহায় হাতের ছাপের চিহ্ন মিলেছে। এর উপরের খনিজ স্তরগুলি থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি অন্তত ৬৭,৮০০ বছরের পুরনো, যা স্পেনের ৬৬,৭০০ বছর পুরোনো নিয়ান্ডারথাল মানুষের হাতের ছাপটির চেয়েও প্রাচীন। স্বভাবতই বিস্ময় জাগছে এই শিল্পকর্ম দেখে।
সব মিলিয়ে ১৩টি শিল্পকর্মের সন্ধান মিলেছে। যার মধ্যে ৭টিতে পশুর ও ৩টিতে মানুষের ছবি রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, এই ছবিগুলি নতুন করে বুঝিয়ে দিচ্ছে, নেহাতই শখে নিজের হাতে রং মেখে তা গুহার দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা নয়। বরং এই প্রথা এক দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা শিল্পচর্চা।
প্রসঙ্গত, সুলাওয়েসির বিভিন্ন অঞ্চলে ৪ হাজার থেকে ৫১ হাজার বছর পুরনো গুহাচিত্রের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু এত প্রাচীন সময়ের গুহাচিত্রের সন্ধান মিলল এই প্রথম। সব মিলিয়ে ১৩টি শিল্পকর্মের সন্ধান মিলেছে। যার মধ্যে ৭টিতে পশুর ও ৩টিতে মানুষের ছবি রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, এই ছবিগুলি নতুন করে বুঝিয়ে দিচ্ছে, নেহাতই শখে নিজের হাতে রং মেখে তা গুহার দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা নয়। বরং এই প্রথা এক দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা শিল্পচর্চা। যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আদিম গুহাবাসী মানুষ অনুসরণ করে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ম্যাক্সিম অবার্ট বলছেন, ''গুহার চিত্রকর্মগুলি থেকে বোঝা যায়, ওরা (আদিম মানুষ) এটার সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে চিহ্নিত করতে, আত্মপরিচয় বা প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কগুলি প্রকাশ করতেই এমন করত।''
মুনা দ্বীপের গুহাচিত্রের প্রাচীনত্ব আর আগের জেনেটিক গবেষণার প্রমাণকেই আরও জোরালো করে তুলল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আফ্রিকা থেকে অভিবাসী আধুনিক মানুষেরা প্রায় ৬৫,০০০ বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল বলেই আগেই মনে করা হত। সেই ধারণাই আরও স্পষ্ট হল এবার।
