সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: 'একথালা সুপারি গুনিতে না পারি।' শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের কাছেই বিস্ময়ের এক অনন্ত খনি মহাকাশ। অথচ আমরা তার কতটুকু খবর রাখি? বিজ্ঞান মানেই তো মনে ভিড় করে আসে কঠিন সব সমীকরণ আর ব্যাখ্য়া। তাই প্রয়োজন হয়ে পড়ে একজন 'গাইড'-এর। যাঁর হাত ধরে বেড়িয়ে পড়া যায় অনন্ত অন্তরীক্ষ সফরে। তেমনই একজন অসামান্য গাইড দেবীপ্রসাদ দুয়ারী (Debiprosad Duari)। মহাকাশবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মানুষটি এম পি বিড়লা তারামণ্ডলের প্রাক্তন পরিচালক। আইএএসইএসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। সেই তিনিই হাজির ছিলেন জেআইএস নিবেদিত সংবাদ প্রতিদিন 'সহজ পাঠ ২০২৬'-এ (Sahaj Path 2026)।
তিনি বললেন, ''আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে 'সহজ পাঠ ২০২৬'-এ। রথীন্দ্র মঞ্চে পড়ুয়াদের সামনে তিনি মঞ্চেই হাজির করলেন মহাকাশ! মুহূর্তে সৌরজগৎ হয়ে সকলে মিলে পাড়ি জমানো গেল ইন্টারস্টেলার জগতে।যখন আমাদের পূর্বপুরুষরা রাতের আকাশের দিকে তাকাতেন তাঁদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগত। আকাশটা কোথায়, কেমন ইত্াদি. এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জন্ম হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের। এই বিষয়টির এমন ক্ষমতা আজ লক্ষ কোটি বছর আগে... এই ধরো এই রথীন্দ্র মঞ্চে তোমরা বসে আছো, এটা কেমন ছিল বলে দিতে পারে। আবার আজ থেকে কয়েক কোটি বছর পরে এই জায়গাটার অবস্থা কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা করে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন শিগগিরি একবিংশ শতাব্দীকে চিহ্নিত করা হবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের শতক হিসেবে। ১৯০১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালে জ্যোতির্বিদ্যা, ব্রহ্মাণ্ডতত্ত্ব অর্থাৎ কসমোলজি, জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা এই সব বিষয়ে মাত্র সাড়ে তিনটে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০০০ থেকে ২০২৫- এই সময়ের মধ্যেই এই বিষয়ে দেওযা হয়েছে ৬টি নোবেল! পুরস্কার পেয়েছেন ১৭ জন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এই বিষয়গুলি নিয়ে কী পরিমাণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।''
ছবি: কৌশিক দত্ত
এরপর তিনি পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরলেন মহাকাশের নানা রহস্য। আলোর গতিবেগ থেকে শুরু করে সূর্য, মঙ্গল থেকে শুরু করে সৌরজগৎ, তাকে পেরিয়ে ইন্টারস্টেলার দুনিয়া... বহুদূর পর্যন্ত সকলকে নিয়ে গেলেন তিনি. তারার জন্মমৃত্যু থেকে শুরু করে আমাদের শরীর যে আসলে তারার ধুলো দিয়ে তৈরি অনায়াসে সেই কথাও শোনালেন গল্পের মেজাজে। বিষয় কঠিন, অথচ কী সহজে সরস ভঙ্গিতেই সেটা তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান বিজ্ঞানসাধক দেবীপ্রসাদ।
তাঁর বক্তব্যের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারত। বিজ্ঞানে আমাদের দেশ স্বাধীনতার মাত্র ৮০ বছরে কী কী করেছে সেকথা বলতে বলতে তিনি গর্বিত স্বরে জানান, ''ইন্ডিয়া হ্যাজ অ্যারাইভড। ভারত কিন্তু এসে গিয়েছে। এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীর নিরিখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম দেশ হল ভারত। অথচ আমরা সেসব খেয়াল রাখি না। খালি বলি নাসার কথা। ভুললে চলবে না আমরাই প্রথম দেশ যারা প্রথম প্রচেষ্টাতেই মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করতে পেরেছি। আমরাই প্রথম যারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নেমেছি। চাঁদের মাটেতে যে ছবি ইসরো তুলতে পেরেছে, তা অন্যদের থেকে অনেক বেশি পরিষ্কার।''
ছবি: কৌশিক দত্ত
ভারত আগামী দিনগুলোয় মহাকাশে কোন কোন মাইলফলক ছোঁবে, সেকথাও জানালেন তিনি। পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ করলেন মগজাস্ত্রে শান দিতে। মনে করালেন তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। স্বপ্ন দেখালেন এক সোনালি ভবিষ্যতের। জানিয়ে দিলেন, আমরা সকলেই নিজেদের মধ্যে ধারণ করে রেখেছি তারার জীবাশ্ম। অনুষ্ঠানশেষে পড়ুয়াদের উচ্ছ্বসিত হাততালি বুঝিয়ে দিচ্ছিল ছোটদের মনের ভিতরে মহাকাশের অনন্ত বিস্তার কীভাবে তিনি বুনে দিতে পেরেছেন মাত্র ঘণ্টাখানেকের এক বক্তৃতাতেই।
