ডিম আগে না মুরগি? এ ক্ষেত্রে বোধহয় সবার আগে কৃত্রিম ডিম, তারপর সেই ডিম থেকে ফুটে বেরোনো মুরগিছানা! আর মুরগিছানার জন্মে, উচ্ছসিত বিজ্ঞানীমহল। কে বানাল এই কৃত্রিম ডিম? কেনই বা কেবল মুরগি উৎপাদনের জন্য এত প্রয়াস? খোলসা করে বলা যাক তবে।
লক্ষ লক্ষ বছর পৃথিবীর বুকে চড়ে বেড়াত এক বিরাটাকায় পাখি। নাম, জায়ান্ট মোয়া (giant moa)। মূলত নিউ জিল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দেখতে পাওয়া যেত এই পাখি। দেখতে খানিক যেন এমু কিংবা অস্ট্রিচের মতো। তবে উচ্চতা মাটি থেকে ১২ ফিট। মনে করা হয়, পৃথিবীর উচ্চতম পাখি এই মোয়া-ই। অবশ্য ওড়ার ক্ষমতা ছিল না তাদের। ডানার গঠনও অসম্পূর্ণ। পায়ে হেঁটে কিংবা দৌড়ে তাদের সমগ্র যাতায়াত। স্ত্রী জায়ান্ট মোয়ারা আবার পুরুষগুলির আকারের প্রায় দ্বিগুণ!
এই পাখির আবার নয় ধরনের ভিন্ন প্রজাতি দেখতে পাওয়া যেত। তবে মানুষের বাড়বাড়ন্ত শুরু হলে, নির্দ্বিধায় তাদের হত্যা চলতে থাকে। তাদের বাসস্থান গুঁড়িয়ে দিয়ে, মানুষের বাসস্থান গড়ে ওঠে। মাত্র ১৫০ বছরেই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় জায়ান্ট মোয়ার ৯টি প্রজাতিই। তারপর কেটে দিয়েছে দীর্ঘ ৬০০ বছর।
এই পাখিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনতে উদ্যত এক মার্কিন সংস্থা। ডিএনএ ব্যবহার করে কৃত্রিম ডিম তৈরি করা হবে প্রথমে, আর তা থেকেই নতুন করে জন্ম নেবে জায়ান্ট মোয়া! বর্তমানে সেই পরীক্ষারই প্রাথমিক ধাপের কাজ চলছে। আর ট্রায়ালের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে মুরগি! মার্কিন বিজ্ঞানী সংস্থাটি তৈরি করেছে একাধিক কৃত্রিম মুরগির ডিম। যা ফুটে সম্প্রতি জন্ম নিয়েছে মোট ২৪টি মুরগিছানা। আর তাদের রকমসকম একেবারেই প্রাকৃতিক উপায়ে জন্মানো মুরগির মতো।
স্বাভাবিকভাবেই এতে উৎফুল্ল বিজ্ঞানীমহল। কারণ এই পরীক্ষা সফল হলে, তবেই এগোনো যাবে পরের ধাপের উদ্দেশে। আশানুরূপ ফল পেলে হয়তো এক সময় সত্যিই পৃথিবীর বুকে আবার পা রাখবে একসময়ে হারিয়ে যাওয়া জায়ান্ট মোয়া। ১২ ফুট উঁচু বিশাল পাখিটি আবারও দৌড়বে এই মাটিতে। আর এখানেই শেষ নয়, মোয়ার প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ হলে বিলুপ্ত পাখি ডোডোর প্রতি মনযোগী হবেন, এখন থেকেই তা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীমহল। এমনকী আরও অনেক প্রাণী, যারা মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে বাধ্যত মুছে গিয়েছিল পৃথিবী থেকে, তাদের ডিএনএ যাতে আবারও প্রতিস্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে সচেষ্ট তাঁরা।
