সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহাকাশ থেকে ভারতকে কেমন লাগছে? প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী রাকেশ শর্মাকে প্রশ্ন করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে রাকেশ বলেন, 'সারে জাঁহা সে আচ্ছা'। তারপর কেটে গিয়েছে ৪১ বছর। কিন্তু অন্তরীক্ষ থেকে ভারতকে আজও অসাধারণ লাগে। মহাকাশ থেকে সেরকমটাই জানালেন আরেক 'ভারতীয়'- সুনীতা উইলিয়ামস।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারীকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। পৃথিবীতে ফেরার পর সোমবার প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুনীতা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, মহাকাশ থেকে ভারতকে কেমন দেখলেন? প্রশ্ন শুনেই মহাকাশচারীর জবাব, ভারত অসাধারণ। হিমালয় পর্বতমালা থেকে শুরু করে গুজরাট-মুম্বইয়ের মতো শহর- সমস্তকিছুই নজর করেছেন সুনীতারা।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী জানান, "যখনই হিমালয়ের উপর দিয়ে গিয়েছি, অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি। উপর থেকে দেখে মনে পর্বতমালা যেন তরঙ্গ হয়ে ভারতে নেমে গিয়েছে। হিমালয়ের নিচেই প্রচুর রং। পূর্ব থেকে গুজরাট বা মুম্বইয়ের দিকে গেলে মাছধরা নৌকাও দেখতে পেয়েছি, সেটা অবশ্য ছোট্ট একটা পাখির মতো দেখতে লাগে। আলো ঝলমলে বড় শহর থেকে ধীরে ধীরে ছোট শহর হচ্ছে, বোঝা যায়। দিন হোক বা রাত, সবসময়ই ভারতকে দেখতে অসাধারণ লাগে।" নিজের মহাকাশ অভিজ্ঞতা ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতেও মুখিয়ে রয়েছেন সুনীতা।
প্রসঙ্গত, বারবার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষপর্যন্ত সুনীতা উইলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফিরতে ফিরতে লেগে যায় ২৮৬ দিন। অবশেষে ভারতীয় সময় ১৬ মার্চ ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ফ্লোরিডার সমুদ্রে অবতরণ করে ‘ড্রাগন ফ্রিডম’। গোটা ঘটনার লাইভ সম্প্রচার করে নাসা। সুনীতাদের ঘরে ফেরার পর উৎসবে মেতেছে গোটা বিশ্ব। আলাদা উন্মাদনা দেখা গিয়েছে ভারতের বিভিন্ন জায়গাতেও। সুনীতার পৈতৃক গ্রাম গুজরাটের ঝুলাসানেও দেখা যায় সাধারণ মানুষ নেমে এসেছেন পথে। প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুনীতার কণ্ঠেও শোনা গেল সেই ভারতের কথা।