ভাইরাসের কবলে পড়ে গুজরাটের গির অরণ্যে মৃত্যু হল ৭টি সিংহর! এতগুলি মৃত্যুর পর গুজরাট সরকার সতর্ক রয়েছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্তের জন্য এলাকায় শতাধিক বনকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৭টি সিংহকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে আটজনের শরীরে ওই ভাইরাসের সংক্রমণ ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে। ১২ জন পশু চিকিৎসকের একটি দল রীতিমতো ঘড়ি ধরে আক্রান্ত সিংহদের চিকিৎসা করছে বলে জানা গিয়েছে।
এশিয়াটিক লায়ন অর্থাৎ এশীয় সিংহ একসময় এশিয়া জুড়ে দাপিয়ে বেড়াত। কিন্তু আজ তাদের সংখ্যা ৭০০-রও কম। এবং এরা প্রত্যেকেই গির অরণ্যেরই বাসিন্দা। যদি সতর্ক না হওয়া যায় তাহলে এখানে সিংহের মৃত্যু বাড়লে কার্যতই একটি প্রজাতিই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে চিরতরে! আর সেই কারণেই বাড়তি সতর্ক বন দপ্তরের।
ঠিক কোন ধরনের ভাইরাসের আক্রমণে এই অবস্থা সিংহদের? মনে করা হচ্ছে, এর নেপথ্যে রয়েছে সিডিভি। যার পুরো নাম ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস। সাধারণত পশুরাই আক্রান্ত হয় এই ভাইরাসে। যার মধ্যে 'বিগ ক্যাট'রাও রয়েছে। একসময় আফ্রিকায় এই ভাইরাসের কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল অসংখ্য সিংহ ও চিতার। তবে এটা নিশ্চিত নয়, এক্ষেত্রেও সিডিভিও 'ভিলেন' কিনা। বরং শোনা যাচ্ছে বাবেসিয়ার কথাও। এই পরজীবী রক্তকোষকে সংক্রমিত করে দ্রুত বিভিন্ন অসুখে বিপণ্ণ করতে পারে আক্রান্তের প্রাণ। তবে যার কারণেই হোক, বন দপ্তর বাড়তি সতর্ক। কোনওভাবেই যেন সংক্রমিতের সংখ্যা আর না বাড়তে পারে, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এক পর্যালোচনা সভার সভাপতিত্ব করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গির গাধাদা ও বাবরিয়া এলাকার ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত সিংহের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
