সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আরও একটা মওকা। আবার মিস!
পাকিস্তান কি জিততে পারবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কমেন্ট্রি বক্সে বসে বীরেন্দ্র শেহবাগ বলছিলেন, জিতল তো। ওই যে টসে জিতল। ওটাই তো যথেষ্ট। আবার কী? ভুল কিছু বলেননি তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ১০ বারের মধ্যে একবারও টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দাঁত ফোটাতে পারেনি তারা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার বড়াই করতে পিছু পা হয় না পাকিস্তান। এবার সেই গর্বেও জল ঢেলে দিলেন বিরাট কোহলি। ২০০৪ সালে এই এজবাস্টনেই ভারতকে হারিয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা। সেই বাইশ গজেই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অধিনায়কের তকমা গায়ে চাপিয়ে নয়া ইতিহাস গড়লেন বিরাট। ১২৪ রানে জয়ী ভারত।
[গ্যালারিতে বসে ভারত-পাক ম্যাচ দেখলেন ‘পলাতক’ বিজয় মালিয়া]
বউয়ের মেজাজ আর ইংল্যান্ডের বৃষ্টি অনেকটা একই রকম। কখন কী হয়, বলা যায় না। বৃষ্টির আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই হয়তো টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংকে বেছে নিয়েছিলেন পাক নেতা সরফরাজ। ভাগ্য যে খুব সহায় হয়নি, তা বললে ঠিক বলা হবে না। ভারতীয় ইনিংসে দুবার বৃষ্টি হল। ব্যাটসম্যানদের খেলায় ছন্দও কাটল। কিন্তু রোহিত, যুবরাজরা তো ভুলে যাননি, তাঁরা কোন দলের বিরুদ্ধে খেলছেন। যে দুই দেশের মধ্যে হামেশাই যুদ্ধের বাতাবরণ বিরাজ করছে, তাঁদের কাছে বাইশ গজও যুদ্ধক্ষেত্রের থেকে কম কী। তাই শনিবার রাতে সেন্ট্রাল লন্ডনের জঙ্গি হামলা হোক কিংবা বারবার বৃষ্টির চোখরাঙানি, টিম ইন্ডিয়ার জেদ আর আত্মবিশ্বাসের সামনে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারল না। আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা একটু বেশিই চার্জড আপ থাকেন, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘মওকা মওকা’র নতুন ভিডিওটির উদাহরণ টেনে বলা যেতে পারে, দেশ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের জন্য প্রমাণ চাইতে পারে। কিন্তু একমাত্র বাইশ গজে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে হারালে কেউ প্রমাণ দাবি করে না। তাই রোহিত থেকে যুবি, বিরাট থেকে ধাওয়ান, সকলেই জ্বলে উঠলেন। আর সেই আগুনেই ভস্ম হল পাকিস্তানের সাজানো সংসার।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোহিত শর্মা বড় ম্যাচের ব্যাটসম্যান। ভারত-পাক লড়াইয়ের চেয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় ম্যাচ আর আছে নাকি? তাই চোট সারিয়ে সময় মতোই ঝলসে উঠল রোহিতের ব্যাট। সঙ্গী ছিলেন ধাওয়ান। দু’জনে ১৩৬ রানে দুর্দান্ত পার্টনারশিপ তৈরি করে পাক বোলারদের বার্তা দিলেন, এই টিম ইন্ডিয়ার চেয়ে অনেকটাই অনভিজ্ঞ তাঁরা। শুরুতেই মেডেন ওভার নিয়ে অবশ্য নজর কেড়েছিলেন মহম্মদ আমের। দুরন্ত ফর্মে থাকা এই বোলারকে এড়িয়ে চলারই চেষ্টা করছিলেন ভারতীয় ওপেনাররা। তবে দল ১০০-র গণ্ডি পেরোলেই রানের গতিও বাড়ে। রোহিত-ধাওয়ানের পর গিয়ার বদলে আরও খানিকটা গতি বাড়ান বিরাট ও যুবরাজ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুবির ট্র্যাক রেকর্ড অনবদ্য। এদিন ধরা দিলেন পুরনো ছন্দে। আউট হলেন ৫৩ রান করে। আর নেতা? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমবার নেতা হিসেবে নেমে ব্যাট হাতে নিজের পারফরম্যান্স বিরাটকে আজ নিঃসন্দেহে তুষ্ট করবে।
পাকিস্তানের ইনিংসেও বাধা হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি। ওভারের পাশাপাশি কমে গিয়েছিল টার্গেটও। তবে হারার আগেই যেন হেরে গিয়েছিলেন সরফরাজরা। আজহার আলি (৫০) ছাড়া কেউ ক্রিজে টিকতেই পারলেন না। ভারতীয় দলের তুরুপের তাস হিসেবে ধরা হয়েছিল হার্দিক পাণ্ডিয়াকে। একটুও ভুল ভাবা হয়নি। ব্যাটে বলে কামাল করলেন তিনি। নিলেন দুটি উইকেট। আর ব্যাট হাতে তিনটি ছয় হাঁকিয়ে ছয় বলে ২০ রানে ছিলেন অপরাজিত। চোটের কারণে মাঠে নামতে পারলেন না ওয়াহাব রিয়াজ। তাই ১৬৪ রানেই হয়ে গেল পাক ইনিংস।
ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে বিরাটবাহিনী বুঝিয়ে দিল ভারতীয় শিবিরে কোচ নিয়ে জলঘোলা কোনওভাবেই বাইশ গজে প্রভাব ফেলবে না। কারণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মর্যাদা ও আবেগের লড়াই ক্রিকেটারদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
The post পাকিস্তানকে দুরমুশ করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিযান শুরু ভারতের appeared first on Sangbad Pratidin.
