ইংল্যান্ড-৩ (ব্রিউস্টার হ্যাটট্রিক)
ব্রাজিল-১ (ওয়েসলি)
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথা ছিল সাম্বার ছন্দে নেচে উঠবে যুবভারতী। শিল্পিত ফুটবলে হলুদ-সবুজ রোমান্সের ভূমি হয়ে উঠবে কলকাতা। মারাকানা হতে তৈরি ছিল মহানগরী। অথচ ব্রাজিলের জন্য সেই সাজানো রঙ্গমঞ্চে নায়কের মর্যাদা ছিনিয়ে নিল বেকহ্যামের দেশের এক খুদে ফুটবলার। তার পায়ের ছোবলেই যুবভারতীর সব গর্জন বারতিনেকের জন্য থমকে গেল। আর এবারের মতো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের। দিনের শেষে বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের সম্বল রইল শুধু দীর্ঘশ্বাস। আর যুবভারতীকে দেখতে হল প্রিয় দলের ৩-১ গোলে হার।
[স্টিং অপারেশনে পিচের রহস্য ফাঁস করে বরখাস্ত পুণের কিউরেটর]
২৪ ঘণ্টা আগেই ফিফা জানিয়েছিল, অনলাইনেই সমস্ত টিকিট শেষ। আর সেই মতোই এদিন গোটা যুবভারতী ভরতি হয়ে উঠেছিল। মাঠে
উপস্থিত ছিল ৬৩ হাজার ৮৮১ জন দর্শক। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল ব্রাজিল-ব্রাজিল চিৎকার। ইংল্যান্ডের সমর্থক যে ছিল না তা নয়, তবুও ব্রাজিলের পক্ষেই সমর্থনের পাল্লা ভারী ছিল। কোথাও একটা বাসনা ছিল, চোখের সামনে ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার। কিন্তু এরই নাম বোধহয় ফুটবল। সব হিসেবনিকেশ তছনছ করে জয়ের বরমাল্য নির্ধারিত হয় অন্য কোনও নায়কের জন্য। আজকের ম্যাচে নিঃসন্দেহে সে নাম রিয়ান ব্রিউস্টার।
[জানেন, ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার রোনাল্ডো নিজে কাকে ভোট দিয়েছিলেন?]
খুব বড়সড় চেহারা নয়, আগ্রাসনও মারাত্মক নয়। চোখে মুখে এখনও কৈশোরের ছাপ কাটেনি। কিন্তু কী হিমশীতল স্নায়ু। কী অসম্ভব সুন্দর ফিনিশিং। ব্রাজিলের হেডস্যার আমাদিউ বোধহয় আলাদা কোনও স্ট্র্যাটেজিও ঠিক করেননি। অথচ ইংল্যান্ড কোচ কুপারের বড় বাজি ছিল এই ব্রিউস্টারই। বক্সের মধ্যে আদ্যান্ত সুযোগ সন্ধানী বড় ম্যাচের নায়ক হওয়ার যে যোগ্যতা থাকা উচিত, সেই সব ঝলকই দেখা গেল তাঁর মধ্যে। একাই তিনটি গোল করে দলকে তুলল ফাইনালে। আমাদিউ বোধহয় সেমিতে পৌঁছেই সন্তুষ্ট ছিলেন। জার্মানির বিরুদ্ধে অতিনাটকীয় জয়েও আত্মতুষ্ট ছিল তাঁর ছেলেরা। সেটাই কাল হল। সাম্বা ঝড় উঠল বটে কিন্তু ইংল্যান্ড তছনছ হল না। বদলে নিখুঁত পরিকল্পনা এবং ঠান্ডা মাথার খেলায় দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিল ব্রিউস্টাররা। ইংল্যান্ডের তিন গোলের জবাবে কেবলমাত্র একটি গোল করেই থামল আমাদিউয়ের ছেলেরা।
[টিম ইন্ডিয়ায় মুসলিম ক্রিকেটার নেই কেন? আইপিএস-এর প্রশ্নে ক্ষুব্ধ ভাজ্জি]
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচটি ছিল ‘আলটিমেট ফাইট অব মিডফিল্ড’। আর সেটাই প্রমাণ হল ম্যাচ শুরু থেকে। এক প্রান্ত থেকে বল তখন অন্য প্রান্তে ছুটছে। কখনও ইংল্যান্ড তো কখনও ব্রাজিল আক্রমণের ঝড় তুলছিল। এর মধ্যেই অবশ্য প্রথম গোলটি করে ব্রিউস্টার। স্পেন, জার্মানির পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও শুরুতে গোল খাওয়ার রেকর্ড বজায় রাখে ব্রাজিল ডিফেন্স। মাত্র ১০ মিনিটেই প্রথম গোল করে সে। যদিও ২১ মিনিটেই সেই গোল শোধ করে দেয় ব্রাজিলের ওয়েসলি। এরপরই আরও একটি গোল করতে পারত ব্রাজিলের ব্রেনার। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারে সে। একদিকে যখন একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছে ব্রাজিল, অপরদিকে নিঃশব্দেই আরও একটি গোল করে ফেলে ব্রিউস্টার। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। তবে যুবভারতীতে উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকরা ভাবছিলেন জার্মানি ম্যাচের মতোই আবারও হয়তো খেলায় ফিরে আসবে অ্যালান, পাওলিনহোরা। কিন্তু দেখা যায় সেটা তো হচ্ছেই না, উলটে অ্যালানদের একের পর এক ভুল পাস, খারাপ রক্ষণের সুযোগে বারবার আক্রমণে উঠছে ইংল্যান্ড। এর মধ্যেও বেশ কয়েকটি সুযোগ হেলায় হারায় লিঙ্কনরা। শেষে ৭৭ মিনিটে ব্রিউস্টারের তিন নম্বর গোলটি ব্রাজিলের জয়ের সব আশা শেষ হয়ে যায়। ওই সময় একেবারে চুপ করে যায় যুবভারতীও। যেন পিন পড়লেও শোনা যাবে। আর অন্যদিকে উল্লাসে ফেটে পড়ে ইংল্যান্ড শিবির। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে ব্রিউস্টার জানান দিয়ে গেল, রুনি-কেন-এর যোগ্য উত্তরসূরীরা পুরোপুরি তৈরি। আগামী ২৮ অক্টোবর রাত আটটায় ফাইনালে তারা খেলবে স্পেনের বিরুদ্ধে। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে বিকেল পাঁচটায় ব্রাজিল খেলবে মালির বিরুদ্ধে। দু’টি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুবভারতীতে।
The post যুব বিশ্বকাপের সাম্বা ছন্দে ইতি টানল ব্রিউস্টারের হ্যাটট্রিক appeared first on Sangbad Pratidin.
