সুলয়া সিংহ: দু’বছর আগেই তাকে চেলসি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসে লিভারপুল। চেলসির অ্যাকাডেমিতে সাত বছর কাটানো এই অনুর্ধ্ব ১৭ ফুটবলারের মধ্যে প্রতিভা খুঁজে পেয়েছিলেন লিভারপুলের কর্তারা। এমনকী ক্লাবের ম্যানেজার বিশ্বখ্যাত য়ুরগেন ক্লপও তাকে ভবিষ্যতের তারকা আখ্যা দিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, একবছর ধরে ওকে ফলো করছেন। এই বয়সে ওর মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী, স্কিলফুল, দুর্দান্ত ফিনিশার খুব কমই দেখেছেন। বুধবারের যুবভারতীর সাম্বা ছন্দকে রীতিমতো স্তব্ধ করে দেওয়া রিয়ান ব্রিউস্টারকে নিয়ে খুব একটা ভুল মনে হয় বলেননি ক্লপ। ১৭ বছরের কিশোরের পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে গেল গোটা স্টে়ডিয়াম। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও হ্যাটট্রিকের সুবাদে ব্রাজিলকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের জন্য যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল ইংরেজরা। ফুটবলের জন্মদাতা দেশে এখন খুশির জোয়ার। ১৯৬৬-র পর বড়রা যা দীর্ঘদিন করতে পারেনি, তাই করে দেখিয়েছে ছোটরা।
[যুব বিশ্বকাপের সাম্বা ছন্দে ইতি টানল ব্রিউস্টারের হ্যাটট্রিক]
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রিউস্টার বলল, মা আর পরিবারকে গোলগুলি উৎসর্গ করলাম। দলকে ফাইনালে তুলতে পেরে খুব স্বস্তি পেলাম।’ ফাইনালে স্পেন না মালি কাকে দেখতে চাওয়ার প্রশ্নে ব্রিউস্টারের প্রত্যয়ী মন্তব্য, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে ভাবছি না। জিততেই নামব।’ এতেই স্পষ্ট ফাইনালে যে টিমই উঠুক, ইংল্যান্ড কিন্তু ছেড়ে কথা বলবে না। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে ধরাশায়ী করার পর বড্ড বেশি আত্মবিশ্বাসে ফুটছিল কি ব্রাজিল? কারণ এদিন কোথাও যেন ইংল্যান্ডের ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের কাছে নতজানু লাগল সাম্বার দেশের ফুটবলারদের। ব্রিউস্টারদের গতির কাছে পাউলিনহোদের স্কিলনির্ভর ফুটবল যেন আত্মসমর্পণ করে গেল। সাংবাদিক বৈঠকে তাই ব্রাজিলের হেডস্যার আমাদিউ বলে গেলেন, ‘আমরা আজ জেতার যোগ্য দল ছিলাম না। যোগ্য দল হিসাবেই এদিন ইংল্যান্ড ফাইনালে গিয়েছে। কলকাতার সমর্থন আমাদের বাড়তি পাওনা। তবে ব্রিউস্টার ভবিষ্যতের তারকা। বড় ফুটবলার হওয়ার মতো সব মশলাই রয়েছে ওর মধ্যে।’ হেরে যাওয়ায় ছেলেরা মুহ্যমান হয়ে পড়লেও হাল ছাড়তে নারাজ আমাদিউ। তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচের আগে চাইছেন না ফুটবলাররা হতাশ হয়ে বসে থাকুক। বরং সেই ম্যাচের জন্য আবার পুরো দমে চাগিয়ে উঠুক।
ইংল্যান্ড কোচ কুপারের খুশি বাঁধ মানছে না কোনও। সাংবাদিকদের বললেন, ‘স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন না করেই কাজে দিয়েছে। ছেলেদের উপর ভরসা ছিল, ওরা সেটার মান রেখেছে। তবে আলাদা করে ব্রিউস্টারের কথা বলতেই হয়। বিশ্বমানের ফুটবলার। যেমন ভাল টিমম্যান তেমনই ভাল মানুষ।’ কলকাতার মাঠ ও দর্শক দুটোই ব্রাজিলের পয়া ছিল। এমনকী মাঠে দূরবীন দিয়েও এদিন ব্রিটিশ সমর্থক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। ফাইনালের দিন এমন সমর্থনেরই আশায় রয়েছেন কুপার, সেকথা জানাতে ভোলেননি। তবে এদিনের সব আলোচনা একজনকে দিয়ে শুরু আর তাকে দিয়েই শেষ হওয়া উচিত। ভবিষ্যতের তারকা রিয়ান ব্রিউস্টার এখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। তার কিশোর কাঁধে ভর করেই দীর্ঘ ৫১ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। হোক না অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেটাই বা কম কী? লিনেকার, গ্যাসকোয়েন, বেকহ্যাম, শিয়ারার, ওয়েন, রুনিরা যা পারেননি। তাই করে দেখাল ব্রিউস্টাররা। আজ তাই বহুদিনের জ্বালা মেটানোর দিন ব্রিটিশদের। বিশ্বকাপের রঙ্গমঞ্চে সাম্বা ছন্দের যবনিকা পতন করল শেক্সপিয়রের দেশের কিশোররা। এও এক সমাপতন।
ছবি- অচিন্ত্য রায়
The post মা ও পরিবারকে হ্যাটট্রিক উৎসর্গ করল ভবিষ্যতের তারকা ব্রিউস্টার appeared first on Sangbad Pratidin.
