সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ২১৬ /৬ (ইশান ৯১, হেনরিখ ক্লাসেন ৪০, প্রফুল ৩৪/৪, শাকিব ২৪/৪ )
রাজস্থান রয়্যালস: ১৫৯/১০ (ফেরেইরা ৬৯, জাদেজা ৪৫, আর্চার ৩৭/২)
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৫৭ রানে জয়ী।
হায়দরাবাদের ‘রানস্বর্গে’ ব্যর্থ পনেরো বছরের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। এবং আইপিএল ২০২৬ -এ প্রথমবার হারের সঙ্গেও দেখা রাজস্থান রয়্যালসের। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ঘরের মাঠে ২১৬ রান তুলেছিল হায়দরাবাদ। সেই রান তাড়া করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজস্থান। বৈভবের পরে যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেল, লুয়ান-ড্রে প্রেটোরিয়াস, অধিনায়ক রিয়ান পরাগ... পর পর উইকেট পড়ল। রানের খাতাই খুলতে পারেননি এদের মধ্যে ধ্রুব ও প্রেটোরিয়াস। এক সময় ৫০ রানে পাঁচ উইকটে পড়ে গিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন রবীন্দ্র জাদেজা এবং ডোনোভান ফেরেইরা। তবে হার আটকাতে পারেননি তাঁরাও। ১৫৯ রানে থমকায় রাজস্থানের ইনিংস। ফলে ৫৭ রানে জয় পেল হায়দরাবাদ।
এবার পাওয়ার প্লে-তে আগুনে ব্যাটিং করাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন যশস্বী জয়সওয়াল এবং বৈভব সূর্যবংশী। বিশেষত দ্বিতীয় জনকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। যেভাবে শেষ দু’ম্যাচে জশপ্রীত বুমরাহ এবং জশ হাজেলউডের মতো তারকাদের পাড়ার বোলারের স্তরে নামিয়ে এনেছেন মাত্র ১৫ বছরের এই ব্যাটার, মুগ্ধ সবাই। শুধু তাই নয়, যে বয়সে এতদিন বড়জোর মাঠের পাশে বলবয় হওয়া যেত (এক-আধটা ব্যতিক্রম ছাড়া), সেই বয়সে আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপ মাথায় দিয়ে বসে আছেন বৈভব (চার ম্যাচে ২০০ রান)। স্ট্রাইক রেট ২৬৭ মাত্র! বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে মাত্র ২৬ বলে ৭৮ রানের টর্নেডো-সম ইনিংস খেলেছে বৈভব। কিন্তু সোমবার ক্রিকেট দেবতা বার্তা দিলেন--- এখনও অনেক শেখার বাকি ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারকার।
চেনা মাঠে আবেগপ্রবণ দর্শকের সামনে শুরুটা ভালো হয়নি হায়দরাবাদের। বিধ্বংসী দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং ট্রাভিস হেড দ্রুত ফিরে যান। কিন্তু অধিনায়ক ইশান স্বপ্নের ফর্মে। ভারতের জার্সি গায়ে যার শুরু হয়েছিল। সোমবার ৪৪ রানে ৯১ রানের স্মার্ট ইনিংস খেললেন তিনি। মারলেন ৬টি ওভার বাউন্ডারি এবং ৪টি বাউন্ডারি। ৪০ রানের জরুরি ইনিংস খেলে তাঁকে সঙ্গে দিলেন ক্লাসেন। শেষে দিকে ২৮ ও ২৪ করে গেলেন নীতীশ রেড্ডি এবং সলিল অরোরা। সব মিলিয়ে যাকে বলে দলগত পারফরম্যান্স। ২০ ওভার শেষ হায়দরাবাদের রান দাঁড়ায় ২১৬।
রাজস্থানের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এই রানকেই মনে হচ্ছিল তিনশোরও বেশি। নেপথ্যে হায়দরাবাদের দুই বোলার প্রফুল হিঙ্গে এবং সাকিব হুসেন। অনামী দুই বোলারের দাপটে ৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় রাজস্থানের। প্রথম ওভারেই তিন উইকেট হারায় দলটি। দ্বিতীয় বলে বৈভবের আউট হওয়া দিয়ে শুরু। এদিন ক্রিকেট দেবতা নাবালক ব্যাটারের সহায় না হলেও তিনি যে বিরাট কোহলি পরবর্তী নতুন তারকা, তা বুঝিয়ে দিল হায়দরাবাদের দর্শকরা। বৈভব আউট হতেই যেভাবে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল স্টেডিয়াম, তা ছিল দেখার মতো। সেই উচ্ছ্বাস নিশ্চিত জয়ের আনন্দ হয়ে উঠল তাসের ঘরের মতো গোলাপি জার্সির ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায়।
এক সময় মনে হচ্ছিল একশো রানেই বুঝি গুটিয়ে যাবে ম্যাচ। তা হতে দেননি রবীন্দ্র জাদেজা (৩২ বলে ৪৫ করেন) এবং ফেরেইরা (৪৪ বলে ৬৯ রান করেন)। কয়েক বলের ব্যবধানে দু’জনে ফিরতেই রাজস্থানের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। আনন্দের কথা হল, ব্যাটারদের এই লিগে দুই অনামী বোলার নায়ক হয়ে ওঠা। প্রফুল হিঙ্গে নিলেন ৩৪ রানে ৪টি উইকেট এবং শাকিব হুসেন পেলেন ২৪ রানে ৪টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানে শেষ হয়ে যায় রাজস্থানের ইনিংস। ফলে ৫৭ রানে জয় পেল হায়দরাবাদ।
