দুলাল দে, নয়াদিল্লি: আমেরিকার কাছে প্রথম ম্যাচে হারলেও গোটা দেশের কাছে জয়ী হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ ভারতীয় দলের প্রত্যেকটি খেলোয়াড়।তাঁদের লড়াই মন জিতে নিয়েছে ১৩০ কোটি দেশবাসীর। ম্যাচের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া হোক কিংবা অন্যত্র সবাই কোমল থাতাল, অনিকেত যাদবদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাই দিয়েছেন। প্রশংসা করেছেন তাদের লড়াইয়ের। আর দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে এটাই যেন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে খুদেদের। প্রথম ম্যাচের মতো ভুল আর যেন না হয়, সেদিকেই আপাতত সতর্ক মাতোসের ছেলেরা। কিন্তু প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া যে কম শক্তিশালী নয়, তাহলে! গতি দিয়ে মারো কলম্বিয়াকে। দিল্লির ঝাঁ চকচকে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে আপাতত কোমল থাতাল, অমরজিৎ, ধীরাজদের এমনই সব মন্ত্র দিচ্ছেন ভারতের অনূর্ধ্ব ১৭ দলের কোচ মাতোস। এবং ভারতীয় টিমের শরীরী ভাষা দেখে এটাও মনে হচ্ছে, ডু অর ডাই ম্যাচে একটা মারণ কামড় দিতে যেন তর সইছে না জুনিয়রদের।
[তুমুল চাহিদা সত্ত্বেও ভরল না যুবভারতী, আভাস টিকিট দুর্নীতির]
কেন ডু অর ডাই ম্যাচ? ভারতের সামনে আপাতত দু’টি ম্যাচ বাকি। কলোম্বিয়া আর ঘানা। কলোম্বিয়ার কাছে হার মানেই বিশ্বকাপ অভিযানে দাঁড়ি পরে যাবে। আর ড্র বা জয় মানে, শেষ একটি সুযোগ থাকবে অন্তিম ম্যাচে। কলোম্বিয়ারও এক হাল। তারাও প্রথম ম্যাচে হেরেছে। ভারতের বিরুদ্ধে আটকালে, পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন তাদেরও শেষ হয়ে যাবে। মাতোসের প্ল্যান কী? জানা গিয়েছে, কলোম্বিয়ার বিরুদ্ধে গতিময় ফুটবল খেলতে চাইছেন তিনি। আমেরিকার বিরুদ্ধে যে খেলাটা খেলেছে, তার থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। নিখুঁতভাবে হোম ওয়ার্কও নাকি সারা হয়ে গিয়েছে। কলোম্বিয়া-ঘানা ম্যাচের সিডি দেখিয়েছেন অভিজিৎ, রহিমদের। এই কলম্বিয়াকে কেমন মনে হচ্ছে তাঁর? মাতোস ব্যাখা দিয়েছেন, “মাস দুয়েক আগের টিমের সঙ্গে এই টিমের ফারাক অনেক। এই টিমটা বড় বেশি ফিজিক্যাল ফুটবল খেলছে। গতি সেই অর্থে আহামরি কিছু নয়। তাই ওদের হারানোর উপায় একটাই। গতি দিয়ে।” ভারতীয় টিমের কী মনোভাব? কোমলের কথায় আত্মবিশ্বাসের সুর। বলে, “আজ ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।”
[বিরাট কোহলির এই কাজটি অবাক করল মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও]
এদিকে ভারতীয় শিবিরের খবর অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচে যে এগারো জনকে মাঠে নামিয়েছিলেন, সেখানে বেশ কিছু বদল আনতে পারেন মাতোস। যা খবর তাতে সোমবার দলে অন্তত দু’টি পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারেন ভারতের কোচ। শোনা যাচ্ছে, ভারতের কোচ হয়তো ডিফেন্স সামলানোর জন্য লম্বা ফুটবলারদের এই ম্যাচে সুযোগ দিতে পারেন। প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়া নমিত দেশপাণ্ডে ও জিকসন সিংকে কলোম্বিয়ার বিরুদ্ধে শুরু থেকে নামিয়ে দিতে পারেন মাতোস। প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি বরিস সিংও। নির্বাসনে ছিল সে। তাকেও হয়তো দেখা যাবে এই ম্যাচে। আপাতত কিছু করে দেখানোর জেদ এবং গোটা দেশের সমর্থন তাতিয়ে তুলছে ভারতীয় খেলোয়াড়দের।
[প্রথম ম্যাচেই উত্তীর্ণ যুবভারতী, চিলির বিরুদ্ধে বড় জয় ইংল্যান্ডের]
The post ডু অর ডাই ম্যাচ! কোচ মাতোসের ছেলেদের কাছে এখন এটাই মন্ত্র appeared first on Sangbad Pratidin.
