সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিহাসের মুখোমুখি বাঙালি। আর সেই ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে এখন শুধুই হাপিত্যেশ! প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ব ফুটবলের অনূর্ধ্ব ১৭-র মহারণ শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এবার জমকালো শো অফের অপেক্ষায় ফুটবলের মক্কা। রবিবার যুবভারতীতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ। খেলবে চিলি ও ইংল্যান্ড এবং ইরাক ও মেক্সিকো। ঝা-চকচকে যুবভারতীর এই ম্যাচের সাক্ষী থাকতে চাইছে তামাম বাঙালি। তাই তুঙ্গে উঠেছে টিকিটের চাহিদা।
[মেসি ছাড়াই কি বিশ্বকাপ? সুতোয় ঝুলছে আর্জেন্টিনার ভাগ্য]
আট থেকে আশি, উত্তেজনা চরমে প্রায় সবার। রীতিমতো ফুটবল জ্বরে কাবু গোটা বাংলা। ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে মুখ গুঁজে থাকা টেকস্যাভি তরুণ প্রজন্মও ফুটবেলর মহাযুদ্ধ চাক্ষুষ করতে মুখিয়ে রয়েছে। কিন্তু এই ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে চাই একটি প্রবেশপত্র। শনিবার সকাল থেকে তাই একটি পাস হাতে পাওয়ার জন্য উসখুস করছে বাঙালি। সর্বত্র একটাই কথা, টিকিট চাই। বিশ্বকাপের জন্য ভোলবদলে গিয়েছে যুবভারতীর। মেকওভারের পর যুবভারতীকে নতুন করে চিনতে হবে। এমনিতে যুব বিশ্বকাপের টিকিট অনলাইনে বিলি শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু আগে থেকে টিকিট বুকিং করে রাখতে পারেননি অনেকেই। কিন্তু তা বলে তো আর এখন ছাড়া যায় না। তাই শনিবার সকাল থেকে মন্ত্রী-মেয়র-মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যে যেখানে পেরেছেন টিকিটের খোঁজে মোবাইল হাতড়েছেন। কারণ বারবার ইতিহাসের সাক্ষী থাকা যায় না।
[পরাজয়েও ভারতীয় ফুটবলের মশাল জ্বালল ছোটরা]
শুধু সাধারণ মানুষরাই নন, আইএফএ অফিসের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছেন প্রাক্তন ফুটবলাররাও। বিশ্বকাপের একটি টিকিটের জন্য যা হাহাকার তাতে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, এই সমস্যা থাকবে আরও বেশ কিছুদিন। যেমন নিখিল নন্দী। তাঁকে টিকিটের জন্য আইএফএ-তে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সকলেই বিস্মিত। রবিবারের ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিটের জন্য আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যুবভারতীতে রবিবার দু’টি ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড খেলবে চিলির বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে ইরাক ও মেক্সিকো। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের টিকিট পাবেন ওলিম্পিয়ান, অর্জুন ও ফুটবলে পদ্মশ্রীরা। নিখিল নন্দীর সঙ্গে আইএফএ অফিসে এসেছিলেন একসময় ভারতীয় দলে খেলা বিক্রমজিৎ দেবনাথও। তিনিও টিকিট পাননি।
[অমানবিক! মৃত শিশুর দেহ নিয়েও মা-বাবা’র টানাহেঁচড়া]
টিকিট নিয়ে ক্ষোভ প্রায় সর্বত্র। টিকিটের জন্য অনেক ক্লাবের কর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আইএফএর সচিব জানালেন, যাঁরা ক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই টিকিটের পুরো টাকা দেননি। ক্লাবগুলোর জন্য ৪০ লক্ষ টাকার টিকিট কেনা হয়েছে। তার মধ্যে আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় নিজের পকেট থেকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে জানালেন। বলেন, “পুরো টিকিট টাকা দিয়ে কিনতে হবে। না হলে টিকিট কী করে পাওয়া যাবে?”
The post টিকিট কই! যুবভারতীতে ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে মুখিয়ে গোটা বাংলা appeared first on Sangbad Pratidin.
