দুলাল দে, নয়াদিল্লি: প্রথম দু’টি ম্যাচে লড়াই করে হার। তাই ঘানার বিরুদ্ধে ম্যাচে যেভাবেই হোক জয় চাইছেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের কোচ মাতোস। লিগ টেবিলের যা পরিস্থিতি, তাতে এখনও বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের। কিন্তু তার জন্য রয়েছে অনেক জটিল অঙ্ক। কিন্তু মাতোসের কাছে মোদ্দা কথা এটাই, নিজেদের কাজটা ত্রুটিহীনভাবে সেরে রাখা। তারপর যাবতীয় অঙ্ক-হিসাব নিয়ে মাথা ঘামাবেন তিনি। তাঁকে ভরসা জোগাচ্ছে বরিস সিং-ধীরাজ-জিকসনদের লড়াকু মানসিকতা। প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, লড়াই করতে প্রস্তুত সকলেই।
[এশিয়া কাপের শুরুতেই বাজিমাত, জাপানকে হারাল ভারত]
যদিও ঘানার বিরুদ্ধে খেলা মোটেই সহজ হবে না ভারতের। কারণ আফ্রিকার এই দেশের পকেটে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তকমা রয়েছে। তার থেকেও বড় কথা, ভারতের সঙ্গে প্রায় এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তারাও। হিসাব বলছে, আমেরিকা যদি কলম্বিয়াকে অন্তত দু’গোলে হারাতে পারে, আর ভারত যদি ঘানাকে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে হারাতে পারে, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে ভারত। কারণ ঘানা শেষ ম্যাচে হেরেছে আমেরিকার কাছে। গোল পার্থক্যের ব্যাপারটা ফ্যাক্টর হয়ে যাবে তখন। ঘানা কোচের সঙ্গে তাই কথা বলে মনে হল, তিনি যেন বেশ চাপে। কেন? তিনি বলছিলেন, “সবই ঠিক আছে। কিন্তু ওদের বিরুদ্ধে হারলে দেশে ফিরে মুখ দেখাতে পারব না। ভারত ইদানীং ফুটবলে খুব উন্নতি করেছে। সেটা ওদের গত দুটো ম্যাচ দেখলেই বোঝা যায়। তাই চাপে আছি।” অর্থাৎ এখানে খবর এটাই যে, ঘানার মতো টিমও এখনও ভয় পেতে শুরু করেছে ভারতকে।
এমন হাই ভোল্টেজ ম্যাচের আগে ভারতের কোচ মাতোসের ভূমিকা কী? জানা গেল, তিনি মানছেন এই গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন দল ঘানা। কিন্তু তাদের খেলার সিডি দেখানোর বদলে তিনি নাকি কলম্বিয়া ম্যাচের সিডি দেখিয়েছেন ছেলেদের। উদ্দেশ্য, সেই ম্যাচের ভুল যাতে ঘানা ম্যাচে না হয়। তাঁর টিমের ফুটবলাররাও তেতে রয়েছেন শেষ ম্যাচের আগে। ঘানার ফুটবলারদের গতি, শারীরিক ক্ষমতা অনেক বেশি। তাতে কী? রহিম আলি বলছিলেন, “লড়াই তো একের বিরুদ্ধে এক। এগারোজনের বিরুদ্ধে এগারোজন। যারা ভাল খেলবে জিতবে। ফেভারিটের মতো ব্যাপার বলে কিছু হয় না। নির্দিষ্ট দিনে যে ভাল খেলবে সে জিতবে। অতএব, আমাদের ভাল খেলতে হবে।” সাইড ব্যাক পজিশনে কলম্বিয়া ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করা বরিস সিং আবার ভাগ্যকে ভয় পাচ্ছেন। “কলম্বিয়া ম্যাচটায় কীভাবে পোস্টে লেগে বল ফিরল দেখলেন? ঘানা শারীরিক দিক থেকে এগিয়ে। কিন্তু সেটাই সব নয়। বাকি দিকগুলিতে আমরা-ওরা সমান জায়গায়।” কলম্বিয়া ম্যাচে গোল করা জিকসনও যেন তেতে রয়েছেন। তার মুখেও এক কথা।
[ঘরের মাঠে ম্যাকাওকে উড়িয়ে এএফসি এশিয়া কাপের মূলপর্বে সুনীলরা]
এদিকে, ভারতীয় সমর্থকদের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু, ভারত কী করলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারে? আসলে কলম্বিয়া ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পর অমরজিৎ, বরিসদের উপর প্রত্যাশার পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। দেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ। সেখানে ছেলেদের দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখা গেলে ব্যাপারটাই আলাদা। স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত হতে দেখার জন্য যেন আর তর সইছে না দেশের মানুষের। দিল্লিতে ব্যাপারটা আরও বেশি করে চোখে পড়ার কারণ এটাই, মাতোস বাহিনী রাজধানীর চেনা মাঠেই যে যুদ্ধে নামতে চলেছে। এখন শুধু দেখার নতুন কোনও ইতিহাস সত্যিই তৈরি হয় কিনা দিল্লির জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে।
