বর্তমানে আট থেকে আশি সকলেই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। কাজের ফাঁকে সময় পেলেই মজে যান রিলে। আর এই আসক্তিকেই কাজে লাগান অসাধুরা। বিভিন্ন কৌশলে ইউজারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি পেলেই ভ্যানিশ করে দেয় টাকা-পয়সা। এনিয়ে বারবার পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে আমজনতাকে সতর্ক করা হলেও বিশেষ লাভ হয় না। সবটা জানা সত্ত্বেও অসতর্কতাবশত বহু মানুষ পা দেন প্রতারকদের ফাঁদে। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন পদ্ধতিতে প্রতারণা চক্র কাজ চালায় ইনস্টাগ্রামে।
১. অনেকেই ইনস্টাগ্রামে এমন মেসেজ পান, যেখানে বলা হয় তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে, টাকা তছরূপ করা হয়েছে। উলটোদিকে মানুষটা বিপদে পড়েছে ভেবে সহযোগিতার হাত বাড়ালেই কেলেঙ্কারি।
২. প্রতারকরা প্রায়শই বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। এরপর সেই অ্যাকাউন্টের মালিকের বন্ধুদের মেসেজ করে জানায়, সে বিপদে পড়েছে। প্রতারণার ফাঁদ না বুঝেই বন্ধুরা হাত বাড়ায়। এক্ষেত্রে টাকা বা ওটিপি দিলেই সর্বনাশ। মাথায় রাখবেন, এসব ক্ষেত্রে প্রতারকরা অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করতে বাধ্য করে। যাতে আপনি ঠিক-ভুল বিচার করতে না পারেন।
৩. ইনস্টাগ্রাম সাপোর্টের নামেও প্রতারণার জাল বিস্তার করে প্রতারকরা। হয়তো আচমকা মেসেজ পেলেন, কপিরাইট সমস্যার কারণে আপনার অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হবে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে লিঙ্ক পাঠিয়ে লগইন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা। একবার আপনি আপনার তথ্য সেই লিঙ্কে ক্লিক করে দিলেই বিপদ।
৪. দামি উপহার বা ব্র্যান্ড কোলাবোরেশনের নামেও ফাঁদ পাতে প্রতারকরা। এক্ষেত্রে মেসেজ করে ব্যক্তিগত বিবরণ বা লগইন অ্যাক্সেস চাওয়া হয়। তা দিলেই ফাঁকা হয়ে যায় অ্যাকাউন্ট।
৫. ধরুন ইনবক্সে কেউ একটা ইনস্টা প্রোফাইলের লিঙ্ক পাঠালো। আপনার তা আসল মনে হওয়ায় ক্লিক করলেই কেলেঙ্কারি! আপনি বুঝতেও পারবেন না কীভাবে হ্যাকারদের দখলে চলে যাবে অ্যাকাউন্ট।
৬. কখনও কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড বা ওটিপি। ভুলেও অজানা নম্বর থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। এসব ক্ষেত্রে প্রথম কাজই হচ্ছে যাচাই করা।
৭. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৌশল বদল করে প্রতারকরা। তাই এক্ষেত্রে সচেতন ও সতর্ক থাকা আবশ্যক। কোনও অ্যাকাউন্ট সন্দেহজনক মনে হলেই রিপোর্ট করুন।
