আজও নিরামিষ? শুনলেই ঠোঁট উলটায় অনেক বাড়ির বাচ্চারাই। বড়দেরও প্রায়শই মুখ ভার হয়। পুষ্টিবিদরা যদিও বলছেন, সপ্তাহের একটা দিন অন্তত নিরামিষ খাবার রাখতেই হবে মেনুতে। প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া হয়ে গেলে, তা থেকেও রোগের উৎপত্তি ঘটতে পারে। সামঞ্জস্য রক্ষায় খুবই দরকার নিরামিষ খাবার। আর কে বলেছে যে নিরামিষ মানেই স্বাদহীন, পানসে খাবার? বরং জিভে জল আনা নানা পদে খাবারের পাত সাজিয়ে তোলা যাবে এমন দিনে।
কী কী খাবার? রইল একগুচ্ছ আইডিয়া (vegetarian recipes)।
পনির র্যাপ। স্পিন্যাচ-কর্ন স্যান্ডউইচ।
১। পনির র্যাপ
পনিরের ছোট কিউবের সঙ্গে সাঁতলে নিন ডুমো করে কাটা পিঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, টোম্যাটো। গরমকালে গাজর-বিনস-মটরশুঁটি পেলেও, তেমন স্বাদু লাগে না। নয়তো ইচ্ছেমতন দেওয়াই যায়। নুন, গোলমরিচ, সোয়া ও চিলি সসের সঙ্গে টস করে নিন। রুটির ভিতরে পুড়ে, রোল করে নিন রুটি। সহজ, অথচ স্বাদে ভরপুর।
২। স্পিন্যাচ-কর্ন স্যান্ডউইচ
অল্প মাখনে সৌতে করে নিন পিঁয়াজ, কুচানো পালং শাক, আগে থেকেই সিদ্ধ করা রাখা ভুট্টার দানা। স্বাদ মতো নুন, গোলমরিচ, চিলি ফ্লেক্স দিয়ে দিন। মাখো মাখো হয়ে এলে, নামিয়ে অল্প মেয়োনিজ বা ক্রিম চিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিন বাটিতে। তারপর সমানভাবে চাড়িয়ে দিন দুই খণ্ড সাঁতলান পাউরুটির মাঝে।
৩। ভেজ ফ্রায়েড রাইস
ঘরোয়া সংস্করণ বলা চলে! আগের রান্না ভাতের সঙ্গে টস করে নিন ঘরে থাকা সবজি, রসুন কুচি, সোয়া সস। উপরে কাঁচা লঙ্কার কুচি ছড়িয়ে দিন। যারা ডায়েট করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভাত না হলে চলে না একেবারেই, তাঁরা খেয়ে দেখতে পারেন। মন ও খিদে দুই-ই জুড়াবে।
৪। স্যালাড বোল
ডুমো করে কাটা শশা, পিঁয়াজ, টমেটোর সঙ্গে পনির (সৌতে করা)/ সিদ্ধ কর্ন/ মটর/ ছোলা একসঙ্গে নিয়ে নিন। বানিয়ে নিন বিশেষ স্যালাড ড্রেসিং— পাত্রে টক দই, এক চা-চামচ মধু, লেবুর রস, অলিভ অয়েল, নুন, চিলি ফ্লেক্স, গোলমরিচ মিশিয়ে নিন। ছড়িয়ে দিন স্যালাডের উপর। অল্পতেই অনেকখানি খিদে মেটে।
ভেজ ফ্রায়েড রাইস। টোম্যাটো পাস্তা।
৫। টোম্যাটো পাস্তা
অল্প মাখনে রসুন কুচি, এক চামচ ময়দা দিয়ে অল্প অল্প জলে দ্রুত নাড়তে থাকুন। টোম্যাটো সস, নুন, গোলমরিচ, চিলি ফ্লেক্স দিয়ে দিন তাতেই। ফুটে উঠলে সিদ্ধ পাস্তা দিয়ে নেড়ে নিন সমস্তটা। নামানোর পর ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
জলখাবার, লাঞ্চ, ডিনার— যে কোনও সময়েই খাওয়া যেতে পারে এই সমস্ত খাবারের কোনওটা। নিয়ে যাওয়া যায় অফিসের দুপুরের খাবারেও। হালকা, তাই বানাতে বা খেতে অতিরিক্ত সময় লাগবে না। আর স্বাদ এমনই, যে নিরামিষ খেতে হচ্ছে বলে দুঃখ লাগার জায়গাও থাকবে না মোটে!
