গত মঙ্গলবার মেটা এনেছিল এআই মডেলের এক সম্পূর্ণ নতুন সিরিজ মিউজ ইমেজ। আর তারপর থেকেই বিতর্ক দানা বেধেছিল। অবশেষে জানা গেল, মেটা হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিয়েছে ফিচারটি। অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামের ওই ফিচারে ইউজারদের গোপনীয়তা ভঙ্গ হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মেটা তাদের ‘মিউজ ইমেজ’ তৈরি করতে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ‘পাবলিক’ করা ছবি ব্যবহার করছিল। আর এতেই বহু ইউজার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দাবি, অনায়াসে সত্যিকারের মানুষকে এই সব এআই ইমেজে অন্তর্ভুক্ত করছে এআই মডেলটি! মেটার নিজস্ব পলিসিতেই উল্লেখ করা আছে ‘ইউজাররা মেটায় কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন এআই ফিচার ব্যবহার করে। এবং মেটায় এআই কনটেন্ট তৈরি করলে আপনাকে জানানোও হবে না।’
নয়া ফিচারে ইনস্টাগ্রামের পাবলিক অ্যাকাউন্টগুলোকে ট্যাগ করা যেত। এবং সেই অ্যাকাউন্টগুলোর কন্টেন্ট ব্যবহার করে দ্রুত এআই-নির্মিত কন্টেন্ট ও ছবি তৈরি করার সুযোগ দিত। আর একে ঘিরেই শুরু হয়েছিল তীব্র সমালোচনা। মেটাও স্বীকার করে নিয়েছে তারা তাদের লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই কারণেই এখন ওই ফিচার 'নো লঙ্গার অ্যাভলেবল' দেখাচ্ছে। অর্থাৎ এখন আর ফিচারটি পাওয়া যাবে না।
সাম্প্রতিক অতীতে মেটাকে ঘিরে আরও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম অর্থের বিনিময়ে ‘ধর্ষণের ভিডিও’ এবং ‘শিশু ভিডিও’-এর মতো শব্দযুক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। ইউজারদের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে এই ধরনের অবৈধ ভিডিও বিক্রি করা হত বলে অভিযোগ। প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরেই পদক্ষেপ করে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নির্দেশ পাওয়ার পরেই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সংস্থার কাছে এ বিষয়ে আগেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে আগেই চিঠি দিয়েছিল সরকার। এই ধরনের বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রাম থেকে সরাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এবার সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় মেটাকে।
