বদলে গিয়েছে মানুষের জীবন। প্রযুক্তি আরও বেশি করে ঢুকে পড়েছে অন্দরমহলে। চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবট হয়ে উঠছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। কিন্তু এত 'কাজের' হয়েও থেকে যাচ্ছে একটা মস্ত সমস্যা। নতুন ট্যাব খুললেই আগের সব ভুলে যায় চ্যাটজিপিটি। এই 'ডিজিটাল স্মৃতিভ্রংশ' কাটাতে মরিয়া ওপেনএআই।
ইতিমধ্যেই তারা চালু করেছে 'মেমরি আর্কিটেকচার'। যার ফলে চ্যাটজিপিটি আপনার সঙ্গে কথোপকথন শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পরেও তা মনে রাখবে। নীরবেই তা আপডেট করবে। এবং আগের তথ্যের সঙ্গে পরেরটি মিশিয়ে নিজেকে তৈরি রাখবে। একে বলা হচ্ছে 'ড্রিমিং'! শব্দটা শুনে সাইফি বলে মনে হলেও আসলে এটা একটা অভ্যন্তরীণ 'টার্ম' মাত্র। এর সঙ্গে সত্যিকারের স্বপ্ন দেখার কোনও সম্পর্ক নেই। এর আগে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার সময় আলাদা করে 'রিমেম্বার দিস' বলে দেগে না দিলে সে কিছুই মনে রাখত না। এতে প্রবল সমস্যা হত।
নতুন এই ব্যবস্থাটি পুরো প্রক্রিয়াটিকেই বদলে দিয়েছে। এখন কোনও চ্যাট বা কথোপকথন বন্ধ করার পর, চ্যাটজিপিটি সেই কথোপকথনের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে। আলোচনার ফাঁকে উল্লেখ করা কোনও স্মার্টফোনের মডেল কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যাটিং গ্রিপের (ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাট ধরার ভঙ্গি) মতো সাধারণ বিষয়গুলোও খুঁজে বের করে। এই প্রক্রিয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে সঠিক তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে এআই-এর সক্ষমতা ৮৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এদিকে এতদিন মানুষ চ্যাটজিপিটির কাছে সঞ্চয় বা বিনিয়োগের নানা পরামর্শ চাইতেন। তবে এবার শুধু শুকনো পরামর্শতেই থেমে থাকবে না কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা। ইউজারের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এবার সে তৈরি করবে খেরোর খাতা। আসলে আমেরিকার কয়েকজন ‘প্রো’ গ্রাহকদের জন্য এই নতুন ফিচার নিয়ে এসেছে সংস্থাটি। জানা গিয়েছে, চ্যাটজিপিটি এবার সরাসরি যুক্ত হতে পারবে গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে। প্রায় ১২ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে তারা। প্লেড প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সংযোগ করা হবে। ভবিষ্যতে ইনটুইট ব্যবস্থার সুবিধাও মিলবে।
