যে সবজি ছাড়া বাঙালি তথা ভারতবাসীর একটি দিনও চলে না, তার নাম নিঃসন্দেহে আলু! সঙ্গের সবজি যাই হোক না কেন, তরকারিতে আলু লাগবেই! এমনকী মাছ-মাংস-ডিমের ঝোলেও। বিরিয়ানির মতো রাজকীয় হোক বা ফুচকা-চাটের মতো অতিসাধারণ— আলু ছাড়া জমবেই না কোনওমতে! আর প্রায় যে কোনও ধরনের রান্নার জন্যই সেদ্ধ (boiled potatoes) করতে হবে আলুকে।
কিন্তু এই সহজ কাজেও হাজার রকমের বাধা। কখনও আলু দীর্ঘ সময় সেদ্ধ করার পরেও কাঁচা থেকে যায়। কখনও তার খোসা ছাড়ানো কঠিন হয়। কখনও আবার সেদ্ধ করার পর মুখে দিয়ে বিস্বাদ মাটি-মাটি লাগে! কী করা যায় তবে? অনেকেই এর দোষ আলুর গুণমানকে দিয়ে থাকেন ঠিকই, কিন্তু জানেন কি, ঠিকমতো সেদ্ধ করতে পারলে, এসব ঝামেলা এড়ানো যায় অনেক ক্ষেত্রেই।
লবণ, সরষের তেল, তেজপাতা, পাতিলেবুর রস... আলু নরম করতে কাজে লাগানো যায় অনেক কিছুই।
এক চিমটি লবণেই বাজিমাত
পাত্রে জল গরম হয়ে উঠলে এক চিমটি লবণ দিয়ে দিন তাতে। এতে আলু নরম হওয়ার সময়েই লবণ ভিতরে ঢুকতে পারে। ফলে স্বাদ বাড়ে। তাছাড়া লবণ-জলে আলুর খোসা আলগা হয়ে আসে। ফলে খোসা ছাড়ানো সহজ হয়।
জলে মেশান তেল!
প্রেসার কুকারে আলু সেদ্ধকরতে হলে, জলের মধ্যে মিশিয়ে দিন এক চা-চামচ সরষের তেল। এতেও আলুর গা থেকে খোসা সহজে খুলে আসে। তবে তেলের পরতে ঢাকা থাকে বলে, নরম তলতলে হয়ে যেতে পারে না আলুর টুকরো।
কাজে দেয় লেবুর রসও
তেলের বদলে পাতিলেবুর রসও মেশানো যেতে পারে গরম জলে। তবে সামান্য কয়েক ফোঁটা। এতে আলুর স্বাদ বজায় থাকে। রঙও ফ্যাকাসে হয়ে যায় না। আলুর স্যালাড বানাতে হলে, এই পদ্ধতি কাজে দেয়।
তেজপাতাও এ কাজে পটু!
এই টোটকা অনেকেই জানেন না, আলু সেদ্ধ করার জলে দুই টুকরো তেজপাতা দেওয়া যেতে পারে। এতে তেজপাতার সুগন্ধ আলুর ভিতর প্রবেশ করে। আলু পরে নিরামিষ তরকারিতে দিলেও স্বাদ খোলতাই হয় আমিষ তরকারির মতোই।
জলে মেশান ভিনিগার
পাতিলেবুর মতোই কাজ দেবে ভিনিগারও। আলু নরম হবে অল্প সময়েই, তবে গলে যাবে না। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা আলুর চাট বানাতে হলে, সরাসরি আলু ভাজার আগে এইভাবে সেদ্ধ করে নেওয়া যায়। তাহলে ভাজতে কম সময় ও তেল প্রয়োজন পড়বে।
সঠিকভাবে সিদ্ধ হওয়া আলুর খোসা ছাড়ানো সহজ হয়।
যে কোনও টোটকা কাজে লাগানোর আগেই দেখতে হবে, আলু তা কতখানি গ্রহণ করতে পারছে! এ জন্য আলুকে মাঝবরাবর ফালি করে কাটার পর জলে ডোবানর আগে, কাঁটাচামচ দিয়ে ফুটো করতে হবে সারা গায়ে। ছোট আলুর ক্ষেত্রে না কেটেই চারিদিকে ফুটো করা যেতে পারে। অথবা ছুরি দিয়ে ছোট ছোট আঁচড় দেওয়া যায় চারদিকে।
