ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় বরাবর গুরুত্ব দেয় জুকারবার্গের হোয়াটসঅ্যাপ। আর সেই কারণেই নীতি ভঙ্গের অভিযোগে প্রায়ই অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয় সংস্থা। স্বাভাবিকভাবেই সোশাল মিডিয়া সর্বস্ব জীবনে এটা একটা বড় সমস্যা। কারণ অধিকাংশই এখন যাবতীয় অফিসিয়াল কাজও করেন হোয়াটসঅ্যাপেই। জানেন কি এই সমস্যা সমাধানের উপায় রয়েছে আপনার হাতের মুঠোয়। আগে থেকে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলেই বাঁচানো সম্ভব হোয়াটসঅ্যাপ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
১.অনেকেই GB WhatsApp, WhatsApp Plus এবং YoWhatsApp-এর মতো অ্যাপগুলো ব্যবহার করেন। এগুলো কিন্তু মেটার অফিসিয়াল অ্যাপ নয়। এগুলো অননুমোদিত 'মড' (mod) বা পরিবর্তিত সংস্করণ, যা মূল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলে। এই ধরণের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্যান হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এই কারণে অ্যাকাউন্ট একবার ব্যান হলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।
২.অনেকেই এক মেসেজ এক সঙ্গে অনেককে পাঠায়। যদি বারবার অসংখ্য পরিচিত ব্যক্তি, যাদের ফোনে আপনার নম্বর সেভ করা নেই তাঁদের যদি ক্রমাগত এই ধরণের মেসেজ পাঠান, তা ব্যানের নেপথ্যের একটি কারণ হতে পারে। তাই ভুলেও একাজ করবেন না।
৩.আপনি হোয়াটসঅ্যাপে কী মেসেজ লিখছেন, তা সংস্থা দেখে না। ওরা শুধুমাত্র প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনার নম্বরের বিরুদ্ধে হঠাৎ যদি ব্লক বা রিপোর্টের সংখ্যা বেড়ে যায়, তবে কোনও নির্দিষ্ট মেসেজ আপাতদৃষ্টিতে আপত্তিকর না হলেও হোয়াটসঅ্যাপের সিস্টেম এটিকে ‘অপব্যবহারমূলক আচরণ’ হিসেবেই গণ্য করে ব্লক করে দিতে পারে অ্যাকাউন্ট। তাই মেসেজ পাঠানোর সময় সতর্ক থাকুন।
৪.হোয়াটসঅ্যাপ বেআইনি বিষয়বস্তু, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং অশ্লীল, হুমকিমূলক বা মানহানিকর যেকোনও কিছু দ্রুত শনাক্ত করে। এসবের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ কার্যত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। তাই এই ধরণের কাজ করলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
৫.হয়তো খুব একটা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন না, আচমকা কয়েকগুণ অ্যাকটিভি বেড়ে গেলে তা কিন্তু নজরে রাখে সংস্থা। এই ধরণের ক্ষেত্রে অভিযোগ ছাড়াই ব্যান হয়ে যেতে পারে অ্যাকাউন্ট।
৬.অফিসিয়াল নয় এমন টুলের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ডেটা সংগ্রহ করলেও কিন্তু ব্যান হয়ে যেতে পারে অ্যাকাউন্ট।
৭.আন ভেরিফায়েড তথ্যের বিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে হোয়াটসঅ্যাপ একটি বার্তা কতবার ফরোয়ার্ড করা যাবে, তা সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। তবে চিহ্নিত বা সন্দেহজনক বিষয়বস্তু বারবার ফরোয়ার্ড করলে অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনার আওতায় পড়তে পারে।
৮.আপনি যদি কোনও ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল 'বিজনেস এপিআই' (Business API)-এর পরিবর্তে সাধারণ কনজিউমার অ্যাপ ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে বার্তা পাঠান, তাহলেও আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান হতে পারে। কারণ এপিআই-এর মূল উদ্দেশ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের যথাযথ সম্মতি নিয়ে বড় পরিসরে বার্তা পাঠাতে পারে।
