চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করলেই মেলে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর। জীবনের সমস্যা হোক বা কম খরচে বেড়ানোর প্ল্যান, একেবারে নিখুঁতভাবে সমস্ত জবাব দিয়ে দেয় বর্তমান প্রযুক্তি। তাহলে খুনের পরিকল্পনাই বা বাদ থাকে কেন? সাম্প্রতিক অতীতে ভারত-সহ একাধিক দেশে নানা হত্যার ঘটনায় দেখা গিয়েছে, চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে হত্যাকারীরা। তবে এবার খানিক মানবিকতা দেখা গিয়েছে প্রযুক্তির মধ্যেও।
জানা গিয়েছে, ড্যারেন ঝাও নামে এক মার্কিন যুবক নিয়মিত গল্প করতেন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে। ২৫ বছর বয়সি ড্যারেন ফ্লোরিডার বাসিন্দা। চলতি বছরের মার্চ মাস নাগাদ তাঁর ব্রেক আপ হয় প্রেমিকার সঙ্গে। তারপর থেকে মূলত প্রাক্তন প্রেমিকাকে নিয়েই চ্যাটজিপিটিতে নানা ধরনের আলোচনা করতেন ড্যারেন। কিন্তু ধীরে ধীরে হিংসাত্মক হয়ে ওঠেন। একটা সময়ের পর তিনি চ্যাটজিপিটিকে সাফ জানিয়ে দেন, মাস শেষ হওয়ার আগেই ধর্ষণ করে খুন করবেন প্রাক্তন প্রেমিকাকে। কীভাবে এমনটা করা যায়, সেই নিয়ে পরামর্শও চেয়েছিলেন।
ড্যারেনের হিংসাত্মক মানসিকতার আঁচ পেয়ে যায় চ্যাটজিপিটির 'মালিক' ওপেনএআই। যাবতীয় কথোপকথনের রেকর্ড তুলে দেওয়া হয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের হাতে। ওই চ্যাটেই উল্লেখ ছিল কীভাবে প্রাক্তন প্রেমিকাকে খুনের ছক কষছেন ড্যারেন। যাবতীয় তথ্য হাতে আসার পরই কাজে নেমে পড়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তার করা হয় ড্যারেনকে। মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাঁকে পুলিশি হেফাজতেই রাখা হয়। তিনমাস পরে অবশেষে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ড্যারেন। আপাতত মুক্তি পেলেও আগামী আট বছর নজরবন্দি থাকতে হবে তাঁকে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি ঘিরে। নানা অপরাধমূলক প্রশ্নে নির্ভুল জবাব দিয়ে দেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, সেকারণে অপরাধ বাড়ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে এহেন ঘটনা রুখতে এবার উদ্যোগী হয়েছে এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি। ড্যারেনের মতো আরও অপরাধী মানসিকতা চিহ্নিত করতে চেষ্টা করছে তারা।
