হোয়াটসঅ্যাপ এখন দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজ হয় এই অ্যাপেই। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফাঁদ পাতে প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেলতে পারলেই কেল্লাফতে। ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য নিমেষে চলে আসে হাতের মুঠোয়। এদিকে এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে বুঝে উঠতে পারেন না অনেক ইউজার। ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকারের দখলে বুঝলে মাথা ঠান্ডা রেখে ঠিক কী করতে হবে।
১. যদি ভুলবশত কোনও সন্দেহজনক APK ফাইল বা লিঙ্ক খুলে ফেলেন, তবে প্রথমেই আপনার স্মার্টফোনে ##21# ডায়াল করুন। এতে আপনি কল ফরওয়ার্ডিং এবং অন্যান্য ফরয়ার্ডিং পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন। যদি কোনও সন্দেহজনক পরিষেবা চালু করা হয়ে থাকে, তাহলে তৎক্ষণাৎ তা জানতে পারবেন। বন্ধ করতেও পারবেন।
২. অফিসিয়ালি হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ জানান। অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধারের আবেদন করুন। এরপরই আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হবে। নির্ধারিত জায়গায় তা নিলেই ফের হোয়াটসঅ্যাপের নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে আপনার হাতে।
৩. আপনার কাছে সন্দেহজনক APK ফাইলটি থেকে থাকে, তা অবশ্যই সাইবার পুলিশের কাছে দিন। তাতে প্রতারকদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে যেকোনও থানায় (সাধারণ থানা বা বিশেষ সাইবার থানায়) অভিযোগ দায়ের করা যায়।
৪. হোয়াটসঅ্যাপে 'টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন' চালু করুন। এতে ওটিপির পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত পিন সেট আপ করতে হয়। ফলে চাইলেই কেউ শুধুমাত্র ওটিপি ব্যবহার করে তাদের স্মার্টফোনে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে পারবে না।
৫. যদি সন্দেহজনক নম্বর থেকে APK ফাইল পাঠায়, তবে তার স্ক্রিনশট নিয়ে সরকারের ‘সঞ্চার সাথী’ প্ল্যাটফর্মে জানান। সরকার ওই নম্বরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন?
- অপরিচিত কারও পাঠানো APK ফাইল ডাউনলোড করবেন না।
- ব্যাঙ্ক বা সরকারি অফিসের নামে আসা কোনও লিঙ্কে ক্লিক করার আগে তা ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
- আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে 'টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন' (2-factor authentication) চালু রাখুন।
- সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে সাইবার হেল্পলাইন নম্বরে (১৯৩০) কল করুন অথবা থানায় যোগাযোগ করুন।
