অ্যাসিড আক্রান্ত এক মেয়ের কথা। আলোর পথে ফেরার কাহিনি ‘আলোয় ভুবন ভরা’। সোমবার থেকে কালার্স বাংলায় শুরু হচ্ছে নতুন এই মেগা সিরিয়াল। বিস্তারিত লিখছেন সোমনাথ লাহা।
শাশুড়ি-বউমার নিত্য ঝগড়া বা পারিবারিক কূটকচালির একঘেঁয়ে গল্প নয়। এক অ্যাসিড আক্রান্তের প্রতিদিনের লড়াই ও জীবনযাপনের কাহিনি নিয়ে এবার কালার্স বাংলায় শুরু হতে চলেছে ভিন্ন স্বাদের মেগা ধারাবাহিক ‘আলোয় ভুবন ভরা’। যার পরিচালক বিধান পাল। সৃজনশীল পরিচালক ভরত কল। প্রযোজনায় লিও ফিল্মস ইন্টারন্যাশনাল।
স্পর্শকাতর এই ধারাবাহিকটির মধ্যে দিয়ে এক অ্যাসিড আক্রান্তের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কাহিনি উঠে এসেছে। ধারাবাহিকটিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন রোশনি ভট্টাচার্য। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড ভিডিওগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করা রোশনির এটি দ্বিতীয় মেগা ধারাবাহিক। ইতিপূর্বে স্টার জলসার মেগা ‘প্রেমের কাহিনি’—তে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
[ঝড়ের দাপটে পড়ল গাছ, দুর্ঘটনার কবলে হেমা মালিনীর কনভয়]
মেগার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শ্রুতিকে (রোশনি) কেন্দ্র করে। হাসিখুশি, মিষ্টি মেয়ে শ্রুতি স্বপ্ন দেখে গায়িকা হওয়ার। এহেন শ্রুতির বিয়ে ঠিক হয় এক রাজনৈতিক নেতার বড় ছেলে আর্যর সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের আগেই হঠাৎ করে শ্রুতির উপর অ্যাসিড হামলা হওয়ার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শ্রুতি ও তার পরিবারের মানুষজন। এমতাবস্থায় আর্য শ্রুতির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। তখন বিপর্যস্ত শ্রুতির পাশে দাঁড়ায় আর্যর ছোট ভাই তথা মেডিক্যালে পাঠরত ছাত্র তীর্থ। শ্রুতি কি পারে আবার স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরতে? তার গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন কি শেষ পর্যন্ত সফল হয়? এই নিয়েই এগিয়েছে ধারাবাহিকটির কাহিনি।
মেগার কাহিনি লিখেছেন শাশ্বতী ঘোষ। চিত্রনাট্যকার পৌষালী ঘোষ দস্তিদার। সংলাপ রচয়িতা সম্বরণ দত্ত। ধারাবাহিকটিতে অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন ভরত কল, দোলন রায়, যুধাজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবরাজ মুখোপাধ্যায়, উদয় প্রতাপ সিং (তীর্থ), ধ্রুবজ্যোতি সরকার (আর্য), তনুশ্রী গোস্বামী, তনুশ্রী ভট্টাচার্য ও অন্যান্য শিল্পীরা। মেগার টাইটেল ট্র্যাকটি গেয়েছেন নচিকেতা চক্রবর্তী। ধারাবাহিকটিতে রয়েছে আরও কয়েকটি গান। বাকি গান (টাইটেল ট্র্যাক ব্যতীত) ও আবহসংগীত পরিচালনায় দেবজিৎ রায়, সিনেম্যাটোগ্রাফার দেবাশিস চন্দ্র দাস। ধারাবাহিকটির শুটিং হয়েছে কলকাতার আশপাশের অঞ্চল-সহ পৈলান ও কালার ফিউশন স্টুডিওতে।
সম্প্রতি আনন্দপুরে কালার ফিউশন স্টুডিওতে মেগার সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক ও কলাকুশলীরা।
পরিচালক বিধান পালের মতে, “এই ধারাবাহিকটির বিষয় ভাবনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কাহিনিটি শুধুমাত্র আবেগতাড়িত নয়, রীতিমতো প্যাথেটিকও। তাই শুটিং করার সময় আমার চোখেও জল চলে এসেছে। আমার মনে হয় এই ধারাবাহিকটি দেখে দর্শকদেরও চোখে জল ও গায়ে কাঁটা দেবে।”
সৃজনশীল পরিচালক ও অভিনেতা ভরত কলের মতে, “স্পর্শকাতর এই মেগা নিয়ে আমি ও আমার টিম দীর্ঘ রিসার্চ ওয়ার্ক করেছি। অনেক অ্যাসিড আক্রান্তের সঙ্গে কথা বলে অনেক বিষয়ে জানতে পেরেছি। এই বিষয়টিকে নাটকীয় ভাবে না দেখিয়ে যতটা সম্ভব সংবেদনশীলতার সঙ্গে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লড়াই চালানো এই মানুষগুলোর পাশে সকলেই যেন দাঁড়ান সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
[কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ সম্মান শ্রীদেবীকে, তাঁর ছবি নিয়ে হবে আলোচনাও]
রোশনির কথায়, “প্রথমে যখন এই চরিত্রটা করার প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তখন একটু দ্বিধায় ছিলাম। একজন অভিনেত্রী হিসাবে এরকম একটা চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলাটা আমার কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমি নিজে অ্যাসিড আক্রান্ত মানুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এই চরিত্রটা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি চাইব সকলেই যেন ওই সমস্ত আক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ান। কেউ যেন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেন। মুখ বিকৃত হয়ে যাওয়ার পরেও তাদের ইচ্ছে বা আশাকে তারা ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন। আমি চাইব ভবিষ্যতে আর কারও সঙ্গে যেন এই ঘটনা না ঘটে।”
১৪ মে থেকে কালার্স বাংলায় ‘আলোয় ভুবন ভরা’ দেখা যাবে সোম থেকে রবি রাত ৮টায়।
The post অ্যাসিড আক্রান্তদের সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে আসছে মেগা ধারাবাহিক appeared first on Sangbad Pratidin.
