ঘটি-বাঙাল লড়াই এবার বোকা বাক্সতে বন্দি! ঘটি বাড়িতে বাঙাল বউয়ের আগমন ঘটতেই একেবারে হুলস্থূল কাণ্ড। বাঙাল পুত্রবধূকে মেনে নিতে নারাজ শ্বশুরমশাই। এদিকে আবার এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয় বাড়ির নতুন বউমা। দৈনন্দিন জীবনে এইরকম ঘটনা আখছাড় শোনা যায়। কিন্তু, নববধূর সাজেই সম্মুখসমরে বন্দুক হাতে শ্বশুর-বউমা, এমন বিরল দৃশ্য এবার টেলিভিশনের পর্দায়। সৌজন্যে মানালি দে ও সব্যসাচী চৌধুরী জুটির আসন্ন বাংলা মেগা 'সংসারের সংকীর্তন'। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এই নতুন বাংলা ধারাবাহিক। তার আগে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে 'সংসারের সংকীর্তন' নিয়ে কথা বললেন মানালি।
দুদিন আগেও টলিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ার পরিস্থিতি ছিল বেশ টালমাটাল। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে টলিপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল। এইরকম অস্থিরতার মধ্যেই নতুন ধারাবাহিকের সম্প্রচার শুরু। সহকর্মী, টলিউড পরিবারের এক সদস্যকে হারানোর কষ্টকে সঙ্গী করেই নতুনকে স্বাগত?
এই প্রসঙ্গে মানালির বক্তব্য, "খারাপ লাগা তো অবশ্যই আছে। কিন্তু, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলব সময় স্রোতের মতো বয়ে যায়। ভালো-খারাপের মধ্যেই সবটুকু করে যেতে হয়। এই পৃথিবীতে কিছুই থেমে থাকে না। আমার মা মারা যাওয়ার পরও শুটিং করেছি। খারাপ লাগাগুলো থেকেই যায়, তবুও কাজে ফিরতে হয়। এটাই তো জীবনচক্র। তাই আমিও চাই আমার নতুন ধারাবাহিক দর্শক দেখুক, আমাদের ভালোবাসুক।"
মানালির মতে, "জীবনে চলার পথে এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হই যেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিই। তার মানে এটা নয়, মনে ভয় নিয়ে শুটিংয়ে আসতে হবে বা বাড়ি থেকে বেরনোর সময় গুড বাই বলে বেরতে হবে।"
বাস্তবে ঘটি-বাঙাল লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে? ফোনের ওপারে মিষ্টি হেসে মানালির উত্তর, "না, সেভাবে যদি অভিজ্ঞতার কথা বলি তাহলে সত্যিই নেই। তবে এটা ঠিক ঘটি-বাঙাল এই বিষয়টা কিন্তু বেশ মজার। আমাদের জীবনের একটা অঙ্গ। যতই আমরা অত্যাধুনিক হয়ে যাই না কেন, বাঙালিয়ানা নিয়ে কথা বলার সময় ঘটি-বাঙাল লড়াইটা মজার ছলেই যেন তর্ক-বিতর্কে পরিণত হয়ে যায়। এটা তো সত্যি যে আজও ঘটি বাড়ির রান্না আর বাঙাল বাড়ির রান্না নিয়ে ছোট থেকে বড় সকলেই কম বেশি চর্চা করে। আমাদের ধারাবাহিকেও পরিবারিক ড্রামার সঙ্গে থাকছে কমেডির স্বাদ।"
পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভাশিষ মুখোপাধ্যায়ের মতো মজার মানুষরা এই ধারাবাহিকে রয়েছেন। কাজের মাঝে কতটা আনন্দ হল আর অভিনয়ের নতুন কিছু টিপস পাওয়া গেল? অভিনেত্রীর সংযোজন, "প্রত্যেকে ভীষণ ভালো মানুষ। কাজের মাঝে অনেক হাসিঠাট্টাও হয়। প্রত্যেকের থেকে সহযোগীতা পাচ্ছি। কোনও সমস্যা হলে গাইড করে দেয়। আমাদের এই নতুন পরিবারের বয়স খুবই কম। তবে অল্পদিনেই সকলের সঙ্গে বন্ডিংটা অনেক মজবুত হয়ে গিয়েছে। মনেই হয় না যে আমরা সদ্য শুটিংয়ের কাজ শুরু করেছি।"
চরিত্রের প্রয়োজনে যদি আউটডোর শুটিংয়ে যেতে হয় তাহলে...? মানালির সপাট জবাব, "নিশ্চয়ই যাব, কেন যাব না? সব প্রটোকল মেনেই নিশ্চয় প্রযোজনা সংস্থা থেকে ব্যবস্থা করা হবে।" দীর্ঘ অভিনয় কেরিয়ারে কখনও নিরাপত্তার অভাববোধ হয়েছে? অভিনেত্রী জানান, "অনেক সময় অনেক পরিস্থিতিতেই আমাদের শুটিং করতে হয়। ব্যক্তিগতজীবনেও কিন্তু, অনেক কঠিন সময়ের দিয়ে গেলেও একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে অভিনয়টা আমাকে করতে হয়। মা মারা যাওয়ার পর মানসিক যন্ত্রণা বুকে নিয়েই পর্দায় হাসি মুখে শট দিয়েছি। আমার মনে হয়, আমরা যাঁরা অভিনয় করি তাঁরা মোটামুটি পরিস্থিতি জেনেই সামনের দিকে এগিয়ে যাই। এটাও ঠিক যে ফ্লোরে টেকনিশিয়ান দাদারা যেভাবে শিল্পীদের আগলে রাখেন সেটা বলার ঊর্ধ্বে। তার মাঝেও আমরা চরিত্রের প্রয়োজনে অনেক সময় কিছু বিপজ্জনক শট দিয়ে ফেলি, তখন আসলে চরিত্রটাই মাথায় গেঁথে যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য যে প্রটোকলগুলো মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে সেগুলো অবশ্যই কার্যকরী হওয়া উচিত। ব্যক্তিগতভাবে কখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিনি, তবে বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের অনেক কিছুই নতুন করে ভাবাচ্ছে।"
বর্তমান পরিস্থিতিতে শুটিং ফ্লোরে আসার আগে মনে কোনও দোলাচল তৈরি হচ্ছে? পরিবারের মানুষগুলোর কপালে কোনও চিন্তার ভাঁজ? মানালি বলেন, "এটা তো আমার পেশা। কাজ তো করতেই হবে। প্রতিদিন চারপাশে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। বাড়িতেও কত কিছু ঘটে। কিন্তু, জীবন থেমে থাকে না। বরং জীবনে চলার পথে এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হই যেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিই। তার মানে এটা নয়, মনে ভয় নিয়ে শুটিংয়ে আসতে হবে বা বাড়ি থেকে বেরনোর সময় গুড বাই বলে বেরতে হবে।"
