আউটডোরে শুটিং চলাকালীন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক পরিণতির দিন দশেক পেরলেও প্রযোজনা সংস্থার তরফে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবারের বৈঠকে 'ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স'-এর বিরুদ্ধে একজোটে 'খড়্গহস্ত' হয়েছে টলিউড। আর্টিস্ট ফোরামের সিনিয়র সদস্যরা সাফ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশের তরফে যতক্ষণ না বিস্তারিত তথ্য সকলের সামনে আসছে, ততক্ষণ ম্যাজিক মোমেন্টস-এর সঙ্গে বাংলার আর কোনও শিল্পী-কলাকুশলীরা কাজ করবেন না। ফলত, খাঁড়ার কোপ পড়েছে শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত দুই ধারাবাহিকগুলির উপরেও। এদিকে আচমকা সম্প্রচার বন্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট সিরিয়ালের অভিনেতা, কলাকুশলীরা পড়েছেন মহাবিপাকে! ভিভান ঘোষ যখন হন্যে হয়ে 'বেকার ভাতার ফর্ম' খুঁজছেন, তখন 'চিরসখা' অভিনেতা রাজা গোস্বামী প্রশ্ন রাখলেন, 'আমাদের কী দোষ ছিল?'
"কাল রাতে এক সিনিয়র কলাকুশলীর সঙ্গে কথা হল। তাঁর বউ তাঁকে বলেছেন, দুই মেয়েকে নিয়ে পুরো পরিবার মিলে নিজেদের জীবন শেষ করে দিতে চান। এরপর আর রাতে ঘুমোতে পারিনি। মধুবনীও দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে।..."
এহেন মর্মান্তিক ঘটনার পরও বিতর্কিত প্রযোজনা সংস্থার নীরবতা ভাবিয়ে তুলেছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে। গতসপ্তাহ থেকেই দফায় দফায় 'ঘাতক' প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। এমতাবস্থায় মঙ্গলবারই চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় যে আগামী রবিবার 'চিরসখা'র শেষ সম্প্রচার হবে। পরিবর্তে সেই স্লটে দেখা যাবে মানালি মণীষা দে'র নতুন ধারাবাহিক 'সংসারের সংকীর্তন'। এদিকে রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে সিরিয়াল ছেড়ে লীনা-শৈবালের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য, রেশমি সেন, রাজন্যা মিত্রের মতো সিনিয়র শিল্পীরা। তবে এমতাবস্থায় ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজিত সিরিয়ালে অভিনয় করা বাকি অভিনেতাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? কোন প্রযোজনা সংস্থার দরজাতেই বা তাঁরা কড়া নাড়বেন? এইমুহূর্তে এহেন অজস্র প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে টেলিপাড়ার অন্দরমহলে। এমন আবহেই ভিভান ঘোষের পর রাজা-মধুবনীর বিস্ফোরক ফেসবুক লাইভ যেন সংশ্লিষ্ট বিতর্কযজ্ঞে ঘৃতাহূতির মতো কাজ করল!
রাজা-মধুবনী। ছবি- ফেসবুক
বুধবার স্ত্রী মধুবনী গোস্বামীকে নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন রাজা গোস্বামী। 'চিরসখা' সিরিয়ালের নিয়মিত মুখ। সেই লাইভেই সিরিয়াল বন্ধ হওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিনেতা। রাজার মন্তব্য, "কাল রাতে এক সিনিয়র কলাকুশলীর সঙ্গে কথা হল। তাঁর বউ তাঁকে বলেছেন, দুই মেয়েকে নিয়ে পুরো পরিবার মিলে নিজেদের জীবন শেষ করে দিতে চান। এরপর আর রাতে ঘুমোতে পারিনি। আমার কিছু যায়-আসে না। মধুবনীও দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে। তাছাড়া অভিনয় থেকে আমাদের ১৫-২০ শতাংশ রোজগার হয়। জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যেদিন কাজ শুরু করি, সেদিন যেমন ভয় ছিল না, আজও নেই। তবে পিঠে ছুরি খাওয়ার থেকে বুকে ছুরি খাওয়াকে আমি সম্মানের মনে করি। কিন্তু 'চিরসখা'র কী দোষ? আমরা কি দোষী? আমাদের সিরিয়াল কেন বন্ধ করা হল? অভিনয় না করলেও আমার কিছু যায়-আসে না ঠিকই, কিন্তু আমার ছেলে যেদিন জিজ্ঞেস করবে, তোমার ক্ষমতা ছিল তবুও তুমি কেন চুপ করে ছিলে? সেই প্রশ্নের উত্তর যাতে দিতে পারি, তাই আপনাদের সকলের সামনে একথা বলছি। সিরিয়াল বন্ধ হওয়া আর জোর করে বন্ধ করে দেওয়া একবিষয় নয়।" ক্যাপশনে উল্লেখ, 'চিরসখা বন্ধ, আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নেই'। রাজা গোস্বামীর এহেন মন্তব্যের পরই একের পর এক কটাক্ষ উড়ে আসে কমেন্ট বক্সে। পালটা খোঁচা দিতে ছাড়েননি জীতু কামাল, ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়রা।
"নিজের প্রযোজনা সংস্থাকে প্রশ্ন করুন কালকের সিদ্ধান্তকে নয়। বাচ্চা ছেলেটা বাবাকে হারিয়েছে তখন চুপ ছিলেন কী করে? আপনাদের কাজ করা আটকানো হয়নি। অন্য কোথাও কাজ খুঁজুন। মানুষ হলে একটু লজ্জা পান।..."
রাজার উদ্দেশে জীতুর প্রশ্ন, "মিটিংয়ে এই কথাগুলো কেন বললে না বন্ধু? গতকাল তো মিটিং ডাকা হয়েছিল। কীসের ভয়ে বললে না? সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভয়? চ্যানেল তো প্রচুর সিরিয়াল টেকওভার করে, কেন সেই প্রস্তাব গতকালের বৈঠকে উঠে আসেনি?" ত্বরিতা যদিও কারও নামোল্লেখ করেননি, তবে তাঁর কটাক্ষবাণ যে 'চিরসখা' বন্ধ হওয়ায় হা-পিত্যেশ করা অভিনেতাদের জন্য, সেটা স্পষ্ট! অভিনেত্রীর মন্তব্য, "নিজের প্রযোজনা সংস্থাকে প্রশ্ন করুন কালকের সিদ্ধান্তকে নয়। বাচ্চা ছেলেটা বাবাকে হারিয়েছে তখন চুপ ছিলেন কী করে? আপনাদের কাজ করা আটকানো হয়নি। অন্য কোথাও কাজ খুঁজুন। মানুষ হলে একটু লজ্জা পান। আপনাদের হাউসকে চেপে ধরুন দশ রকম উত্তর না দিয়ে যাতে আসল সত্যটা সামনে এনে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করে। বাচ্চাটার জানার অধিকার আছে তার বাবা কী করে চলে গেল।"
