গত দেড় বছর ধরে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স-এর সঙ্গে কাজ করছেন ভিভান ঘোষ। অভিনেতাকে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার 'ঘরের ছেলে' বললেও অত্যুক্তি হয় না। শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সংস্থার 'চিরসখা' ধারাবাহিকের চেনা মুখ তিনি। এবার রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে (Rahul Banerjee Death) যখন কাঠগড়ায় ম্যাজিক মোমেন্টস, তখন সংশ্লিষ্ট সংস্থার স্তুতি করে চরম বিতর্কে ভিভান ঘোষ (Vivaan Ghosh)।
"ম্যাজিক মোমেন্টস আর্টিস্টদের যা সম্মান দেয় অন্য কোনও হাউস দেয় না। দ্বিতীয়ত, এই হাউসে কমফোর্ট জোন আছে বলেই সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও মাধবী মুখোপাধ্যায়দের মতো শিল্পীরা শুধু ম্যাজিক মোমেন্টস-এই কাজ করে। তৃতীয়ত, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার জন্যেও সকলে উদগ্রীব থাকে।..."
গত ২৯ মার্চ তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunadoy Banerjee)। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটে? অভিনেতার বেঘোরে প্রাণ চলে যাওয়ার এই দায়ই বা কে নেবে? গোড়া থেকেই ইউনিটের সদস্যদের অসঙ্গতিমূলক বয়ান নিয়ে 'চুপ' প্রযোজনা সংস্থা। সম্প্রতি বিবৃতি জারি করলেও রাহুলের মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও জারি। এমতাবস্থায় যথাযথ জবাব না পেয়ে লীনা-শৈবালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে অসন্তুষ্ট আর্টিস্ট ফোরাম। রাহুলের পরিবারের তরফেও প্রযোজনা সংস্থার ৫ জনের বিরুদ্ধে তালসারিতে আরেকটি এফআইআর দায়ের করেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। এমন আবহে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার হয়ে আওয়াজ তুলে বেধড়ক কটাক্ষের শিকার ভিভান ঘোষ।
'চিরসখা' ধারাবাহিকে ভিভান ঘোষ। ছবি- সংগৃহীত
অভিনেতার পোস্টে উল্লেখ, "বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের মনের মধ্যে যে কষ্ট চলছে সেটা আমরা সকলেই জানি। গত ১২ বছর ধরে রাহুলদাকে চিনলেও রাহুলদার সঙ্গে বন্ধুত্ব লাস্ট একমাস ধরে। রাহুলদার মৃত্যু নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন, তদন্ত চলছে। কিন্তু বেশ কিছু জিনিস অনেকদিন ধরে চোখে পড়ছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং ম্যাজিক মোমেন্টস প্রোডাকশন হাউজের ব্যাপারে। এদের সঙ্গে 'চিরসখা' আমার প্রথম কাজ। হয়তো আগামীতেও অন্য কোথাও কাজ করব। কিন্তু ম্যাজিক মোমেন্টস-এ শেষ দেড় বছর কাজ করে আমার অভিজ্ঞতা হল- ম্যাজিক মোমেন্টস আর্টিস্টদের যা সম্মান দেয় অন্য কোনও হাউস দেয় না। দ্বিতীয়ত, এই হাউসে কমফোর্ট জোন আছে বলেই সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও মাধবী মুখোপাধ্যায়দের মতো শিল্পীরা শুধু ম্যাজিক মোমেন্টস-এই কাজ করে। তৃতীয়ত, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার জন্যেও সকলে উদগ্রীব থাকে।" এখানেই অবশ্য শেষ নয়!
রাহুলের মৃত্যুতে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের। ছবি- ইনস্টাগ্রাম
ভিভানের মন্তব্য, "এই কথাগুলো না বললে নিজেকে কেমন দোষী-দোষী লাগছিল। এখন আমরা সকলেই জানি যে ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মবিরতি হবে। আমাদেরই স্বার্থে। সেফটি সিকিউরিটির জন্য। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আগেই নেওয়া উচিত ছিল। আশা করি ভবিষ্যতে এই রকম দুর্ঘটনা ঘটবে না। আমরা প্রত্যেকে রাহুলদার পরিবারের প্রতি সংবেদনশীল ও সমব্যাথী।" রাহুলের মৃত্যুর আবহে এহেন পোস্টের পরই টেলিঅভিনেতাকে চরম কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীরাই মন্তব্যবাণে ধরাশায়ী করেছেন ভিভানকে। টেলিঅভিনেত্রী অনিন্দিতা সরকারের মন্তব্য, "শিল্পীকে সম্মান দেওয়া ও শুটিংয়ের সময় কমফোর্ট জোন দেওয়া এক কথা। কিন্তু শুটিংয়ে নিরাপত্তা দেওয়া ও তাঁকে নিরাপদে রাখা অন্য কথা। আর একটা মানুষের প্রাণ চলে যাওয়ার পর সর্বতোভাবে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর প্রক্রিয়া তাঁকে কি বলা যায়? আমরা শিল্পী সব জায়গায়ে যেমন আমরা কাজ করি হাউসও আমাদের নিয়ে কাজ করে আর ভবিষ্যতেও করবে। কিন্তু কমফোর্ট জোন ও সম্মান দেওয়ায় সাত খুন মাফ! একটা মানুষের প্রাণ চলে গেছে তার পর হাউস এর তরফের অসঙ্গতি মূলক বক্তব্য সেগুলোর কি কোনও ক্ষমা হয়?"
"ভিভান ঘোষ নিজের জায়গা থেকে ঠিকই বলছেন হয়তো। দিশার আত্মহত্যার পর ভিভান ঘোষের যে অনভিপ্রেত পরিস্থিতি হয়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে, তাতে ম্যাজিক মোমেন্টসে কাজ না করলে একটু অসুবিধাই হতো। ম্যাজিক মোমেন্ট এই সম্মানটা শিল্পীদের দেয় ঠিকই, কিছু শিল্পীদের দুঃসময়ে কাজ দিয়ে 'ফেভার সিকার আপারহ্যান্ডে' থাকে। স্বাভাবিকভাবে সেই শিল্পীরাও গলবস্ত্র কৃতজ্ঞতায় থাকেন।..."
অতীত প্রসঙ্গে টেনে পরিচালক পারমিতা মুন্সীর কটাক্ষ, "ভিভান ঘোষ নিজের জায়গা থেকে ঠিকই বলছেন হয়তো। দিশার আত্মহত্যার পর ভিভান ঘোষের যে অনভিপ্রেত পরিস্থিতি হয়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে, তাতে ম্যাজিক মোমেন্টসে কাজ না করলে একটু অসুবিধাই হতো। ম্যাজিক মোমেন্ট এই সম্মানটা শিল্পীদের দেয় ঠিকই, কিছু শিল্পীদের দুঃসময়ে কাজ দিয়ে 'ফেভার সিকার আপারহ্যান্ডে' থাকে। স্বাভাবিকভাবে সেই শিল্পীরাও গলবস্ত্র কৃতজ্ঞতায় থাকেন। সত্যিই পরিস্থিতিটা পারস্পারিক শ্রদ্ধার। আমিও ওই হাউসের সঙ্গে কাজ করেছি। দু'বার। প্রত্যেকবারেই আমার দুর্দান্ত অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা।" নেটবাসিন্দাদের একাংশও 'অসংবেদনশীল মন্তব্য' বলে ভিভানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। বিপাকে পড়ে শেষমেশ ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ওই পোস্ট মুছে ফেলেন টেলিঅভিনেতা।
ভিভান ঘোষের ভাইরাল পোস্ট।
