সোমনাথ লাহা: বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস ‘বরযাত্রী ও বাসর’ অবলম্বনে ১৯৫১ সালে মুক্তি পেয়েছিল সত্যেন বসু পরিচালিত ছবি ‘বরযাত্রী’। কালী বন্দ্যোপাধ্যায়, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুপকুমার অভিনীত সেই ছবি তুমুল জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমাদৃত হয়েছিল দর্শকমহলে। ছবিতে তোতলা গণশার চরিত্রে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে নয়ের দশকে এই একই উপন্যাস অবলম্বনে দেবকুমার বসু পরিচালিত ধারাবাহিক ‘বিবাহ অভিযান’ রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল দর্শকমহলে। গণশার চরিত্রে শংকর চক্রবর্তী, রাজেনের ভূমিকায় শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও কে গুপ্তর চরিত্রে জয় বদলানির অভিনয় আজও রয়ে গিয়েছে দর্শকদের মনের মণিকোঠায়।
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের এহেন উপন্যাসটি আবার দেখা যাবে আকাশ ৮—এর ‘এক মাসের সাহিত্য’ সিরিজে গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে। সেটির নামও রাখা হয়েছে ‘বিবাহ অভিযান’। পরিচালনায় মণীশ ঘোষ। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন অশোক সুরানা।
[প্রকাশ্যে স্নান শার্লিনের, নেটদুনিয়ায় উষ্ণতা ছড়ালেন অভিনেত্রী]
কাহিনি আবর্তিত হয়েছে হাওড়া শিবপুরের ছ’জন দামাল ছেলে গণশা, ত্রিলোচন, গোরা, ঘোঁতনা, রাজেন ও কে গুপ্ত—কে কেন্দ্র করে। তুখড় আড্ডাবাজ, অকারণে পরোপকারী, বেপরোয়া অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ও এলাকার তুমুল জনপ্রিয় এই ছয় বন্ধুর জীবনে ‘বিবাহ’ ব্যতিরেকে তেমন কোনও সমস্যাই নেই। বয়সে বড় গোরাচাঁদ ভোজনরসিক, বিবাহিত। কিন্তু বিবাহ সংক্রান্ত অ্যাডভেঞ্চারের নেশা তার রয়েই গিয়েছে। অবাঙালি কাঠখোট্টা কে গুপ্ত উভয় সংকটে থাকে সর্বদা। রাজেনের মধ্যে একটা কাব্যিক হাবভাব। ঘোঁতনার মধ্যে বুদ্ধি রয়েছে। তার চোখ-কান খোলা। বিয়ে হলেও পরিবার, বন্ধুবান্ধব সামলে চলে। ত্রিলোচন নিজের বুদ্ধিমতী কঠোর স্ত্রী ও মাতাল বাবার পাল্লায় পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। গণশার সমস্যা স্বতন্ত্র। তাকে ঘোল খাওয়াচ্ছে তার জাঁদরেল মামা গোলক চাটুজ্যে। গণশার বিয়ের শখ হলেও যতক্ষণ না সে চাকরি পাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মামা তার বিয়ে দিতে নারাজ। অপরদিকে বাকি বন্ধুরাও প্রতিজ্ঞা করে যে গণশার বিয়ে তাঁরা দিয়ে ছাড়বে। গণশার বিয়ে দেওয়ার জন্য বন্ধুদের বিভিন্ন প্রচেষ্টা ঘিরে তৈরি হয় একের পর এক সমস্যা। এমতাবস্থায় গণশা প্রেমে পড়ে ভুবনের নাতনি পুঁটিরানির। গণশার মনে পুঁটিরানির জন্য বর্ষাতেও বয়ে যায় বসন্তের হাওয়া। কিন্তু পঁটুরানি তার দিকে ফিরেও তাকায় না। শেষ পর্যন্ত কি গণশার বিয়ে হবে? নাকি এবারও সেই ব্যর্থতা। এ বিবাহ অভিযান কি কোনওদিন আর শেষ হবে না। উত্তর মিলবে সাহিত্য সিরিজের এপ্রিল মাস জুড়ে।
[রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের সামনে প্রদর্শিত হবে রানির ‘হিচকি’]
ধারাবাহিকে বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন অভ্রজিৎ চক্রবর্তী (গণশা), রাকেশ ঘোষ (ত্রিলোচন), অরুণাভ দত্ত (গোরাচাঁদ), সুবান রায়চৌধুরি (রাজেন), সৌরভ সাহা (ঘোঁতনা), শুভ্র মজুমদার (কে গুপ্ত)। পুঁটিরানির চরিত্রে রয়েছেন প্রিয়ান্তিকা কর্মকার। গণশার মামা গোলক চট্টোপাধ্যায় হয়েছেন রজত গঙ্গোপাধ্যায়। ভুবনের চরিত্রে দেখা যাবে ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে, অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীম মুখোপাধ্যায়, মীনাক্ষী ঘোষ, কোয়েল, সঞ্চারী, পূজা সাহা, লিজা গোস্বামী ও অন্যান্য শিল্পী।
ধারাবাহিকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সোমনাথ রায়, সংলাপ রচয়িতা রাকেশ ঘোষ। সিনেমাটোগ্রাফার ভীম দেবনাথ। শুটিং হয়েছে কলকাতার বিভিন্ন জায়গাসহ ফলতা, বারুইপুর, বেলগাছিয়া রাজবাড়ি, ঘোষবাড়ি, বালিগঞ্জে পি কে বোসের বাড়িসহ সোদপুরের জেটিঘাট-এ। সম্প্রতি বেলগাছিয়া রাজবাড়িতে ত্রিলোচনের শালিকার পাকা দেখা ভন্ডুল করতে এসে মহিলা ছদ্মবেশে রাজেনের কলঘরে আটকে পড়ার মজার দৃশ্যটির শুটিং করলেন পরিচালক।
ধারাবাহিকটি প্রসঙ্গে পরিচালক মণীশ ঘোষ জানান, “এই উপন্যাসটিতে মোট ১২ থেকে ১৩টি গল্প রয়েছে। একমাসের মধ্যে অতগুলি গল্প দেখানো সম্ভব নয় বলে আমরা ৫টি গল্প (‘বরযাত্রী’, ‘পাকা দেখা’, ‘ঘরজামাই’, ‘বর ও নফর’ এবং ‘পুঁটিরানি’) বেছে নিয়েছি। নাম হিসাবে আমরা ‘বিবাহ অভিযান’ রেখেছি। কারণ এই নামটার সঙ্গে দর্শকরা একটা নস্টালজিয়া অনুভব করবেন। যেহেতু এর আগে ধারাবাহিক হিসাবেও এটা জনপ্রিয় ছিল ও অনেকেই দেখেছেন তাই একটু টেনশনে রয়েছি। কারণ নতুন প্রজন্মের কাছেও শংকর চক্রবর্তীর ‘গণশা’ চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়। তবে নতুন টিম নিয়ে কাজ করছি। প্রত্যেকেই ভীষণ পরিশ্রম করছে। আশা করছি এবারও দর্শকরা নিরাশ হবেন না।’’ নতুন এই ‘বিবাহ অভিযান’ ২ এপ্রিল থেকে আকাশ ৮—এ সন্ধে ৭টায় দেখা যাবে সোম থেকে শনি।
[আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সাদরে সৃজিতের ‘উমা’বরণ]
The post নস্ট্যালজিয়া ফিরিয়ে ছোট পর্দায় ফের ‘বিবাহ অভিযান’ appeared first on Sangbad Pratidin.
