দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবাসরীয় রাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরু হয়েছে 'বিগ বস বাংলা'। আর প্রথম সপ্তাহ থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছেন শোয়ের পনেরো প্রতিযোগী। নিত্যদিনের টুইস্ট যেভাবে দর্শক, অনুরাগীদের চুম্বকের মতো ধরে রেখেছে, সেটা অবিশ্বাস্য! নেটভুবনও 'বিগ বস'ময়। ঘরের কূটকচালির প্রতিটা মুহূর্ত এখন সোশাল পাড়ার আতশকাচে। এমন আবহেই শোয়ের কনটেন্ট নিয়ে ক্ষোভ উগরে বিস্ফোরক সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। সঞ্চালিকা-অভিনেত্রী এতটাই বিরক্ত চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নালিশ জানাতেও পিছপা হলেন না।
"উনি বাঙালি নন। তবে, কাশ্মীরের মানুষের থেকে ভদ্রতা আর আতিথেয়তা তো শেখার মতো! এ কেমন ভদ্রতা?"
'ক্যাপ্টেন' ভরতের কাশ্মীর যোগ নিয়েও খোঁচা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের!
ঠিক কী ঘটেছে? গোড়া থেকেই 'বিগ বস বাংলা'র ঘরে যেসব অপশব্দ-ভাষা ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়ে বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতি কলুষিত করার অভিযোগ তুলেছেন সভ্যমহলের একাংশ। এবার সুদীপাও শোয়ের 'মুখরা' প্রতিযোগীদের বিষোদগার নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেন। সঞ্চালিকার কথায়, "'বিগ বস'- সারা বাংলার দর্শকের নজর এখন যেদিকে, সেই নিয়ে আর চুপ করে গা বাঁচিয়ে থাকা গেল না। প্রথম ২-৩ দিন শো'টা দেখলাম। কিন্তু, বাঙালির রুচির এ কী অবস্থা? দর্শক টানার জন্য কনটেন্টের এত অভাব? সারা ভারতবর্ষের কাছে, বাঙালিকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে- সেটা তো সত্যি নয়। ভারত কল- ওঁকে দোষ দেব না। উনি বাঙালি নন। তবে, কাশ্মীরের মানুষের থেকে ভদ্রতা আর আতিথেয়তা তো শেখার মতো! এ কেমন ভদ্রতা?" আসলে 'ক্যাপ্টেন' ভরতের সঙ্গে তনুশ্রীর বিবাদ হোক বা দুর্নিবার সাহার, সেসব উত্তেজনার মুহূর্ত দেদার গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে নেটভুবনে। সেপ্রসঙ্গ টেনেই 'কাশ্মীরি পণ্ডিত' পরিবারের সন্তান ভরত কলকে খোঁচা দিয়েছেন সুদীপা। এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি!
"'চলো পালটাই' বলে- কেরোসিন তেলের লাইনে আমাদের, মানে দর্শকদের নিয়ে গিয়ে, না-ই বা দাঁড় করলেন! কনটেন্ট কি কম পড়িয়াছে? বাঙালিকে নিয়ে মুম্বই, দিল্লি, বিহার, বেঙ্গালুরুর এর কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা হাসাহাসি শুরু করেছে।..."
'বিগ বস বাংলা'র 'কলতলার ঝগড়া'য় তিতিবিরক্ত সুদীপা চট্টোপাধ্যায়
চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর নালিশ, "আমার বিনীত অনুরোধ, ট্রেন্ড সেট করতে গিয়ে, পুরনো দিনের কলতলার বা কেরোসিন তেলের লাইনের হারিয়ে যাওয়া ঝগড়াটা ফিরিয়ে না এনে, বাঙালির হারিয়ে যাওয়া আড্ডা, গান-গল্প কিংবা রান্না বা রোমাঞ্চকর কিছু ফিরিয়ে আনা যায় না? বাঙালির অনেক কিছু হারিয়েছে। যা গেছে, তা তো গেছেই। আর নতুন করে, 'চলো পালটাই' বলে- কেরোসিন তেলের লাইনে আমাদের, মানে দর্শকদের নিয়ে গিয়ে, না-ই বা দাঁড় করলেন! কনটেন্ট কি কম পড়িয়াছে? বাঙালিকে নিয়ে মুম্বই, দিল্লি, বিহার, বেঙ্গালুরুর এর কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা হাসাহাসি শুরু করেছে। সোশাল মিডিয়াতে সেসব ভিডিও দেখলে গা-পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে। হয় শোটায় বাঙালিদের রুচির অবনমন বন্ধ করুন, নয়তো ভালো প্রতিযোগী আনুন। সত্যিকারের ঝগড়া কাকে বলে? দেখতে হলে, তেমন লোকের কিন্তু অভাব নেই।" সুদীপা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন তাঁরও 'বিগ বস বাংলা'য় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল কিন্তু যেতে না পেরে স্বস্তি পেয়েছেন! কেন প্রস্তাব ফেরালেন? এপ্রসঙ্গে সঞ্চালিকা জানান, "'বিগ বস'-এ যাওয়ার সুযোগ একটা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষমেশ ভাগ্যিস যাওয়া হয়নি। তার একটাই কারণ বাড়ির পুজো আর বাড়ি ছেড়ে আজ ১৬ বছরে বেড়াতে যাওয়া ছাড়া, একটা দিনও আমি বাপের বাড়িও গিয়ে থাকিনি। মানে থাকতে পারিনি। এটা আমার একটা চারিত্রিক দুর্বলতা। যাঁরা পারেন, তাঁদের মনের জোর আমার চেয়ে ঢের বেশি।
তাদের আমি কুর্নিশ জানাই।"
