সায়ক চক্রবর্তী, বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তা বললে অত্যুক্তি হবে না। সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু বিতর্কে জড়ালেও সেসব এখন অতীত। বরং এই মুহূর্তে বাংলার 'বিগ বস'-এর ঘরে সায়কের উপস্থিতি নিয়ে জোর জল্পনা। যদিও এবিষয়ে এখুনি মুখ খুলতে নারাজ অভিনেতা-ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। বিদেশ বিভুঁইয়ে গিয়ে কাজে ফেরার জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন। এরপরই রিয়ালিটি শোয়ে সায়কের আত্মপ্রকাশের গুঞ্জন জোরাল হয়। অতঃপর সোশাল মিডিয়ায় উত্তরোত্তর বাড়ছে ফ্যান ফলোয়ার্স। এর মাঝেই নিজের নাম বদলে ফেললেন সায়ক!
'বিগ বস' চর্চার মাঝেই আচমকা নামবদল, নিঃসন্দেহে সায়কভক্তদের কাছে জোড়া চমক। কিন্তু, কেন এই নাম পরিবর্তন? নেপথ্যে বিশেষ কোনও কারণ? এই মুহূর্তে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে সায়ক চক্রবর্তী ইংরাজি নামের নয়া সংস্করণ, Sayakk Chakrabortiy। নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি বাড়তি 'K' আর পদবীর বানান পরিবর্তিত হয়ে 'Y'-এর আগে জুড়ছে 'I'। এর ব্যাখ্যা জানতে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে সায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
সায়কের নামবদল
তাঁর মতে, "নাম শুধু একটা পরিচয় নয়, এটা একটা ভাইব্রেশন, একটা এনার্জি। আমরা যখন জীবনে একটা নতুন অধ্যায়ে পা রাখি, বা নিজেদের কেরিয়ার ও আত্মিক সত্ত্বাকে আরও একটু নতুনভাবে সাজাই তখন নামের এই পরিবর্তনটা সেই নতুন এনার্জিকে স্বাগত জানানোর একটা মাধ্যম। এটাকে ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের বিবর্তন বলতে পারেন। আমি আমার জীবনের এই নতুন অধ্যায়টা একটা নতুন ভাইব দিয়ে শুরু করতে চাই।"
সায়ক চক্রবর্তী তো একডাকেই সকলের কাছ পরিচিত। নাম পরিবর্তনে পরিচিতির পরিসর বৃদ্ধি পাবে? কোনও বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভবনা? এই মর্মে সায়কের সংযোজন, "সায়ক নামটা আমার ভীষণ প্রিয় এবং এই নামটাই আমাকে আজকের আমি তৈরি করেছে। কিন্তু এখানে কোনও এক্সট্রা ফেসিলিটি বা বৈষয়িক সুবিধার ব্যাপার নেই। সিনেমা বা অভিনয় জগতে কেরিয়ারের স্বার্থে বা নিজের ভিতরের একটা পজিটিভ পরিবর্তনের জন্য অনেকেই নাম বদলান। এটা কোনও শর্টকাট সুবিধা পাওয়ার জন্য নয় বরং নিজের কাজের প্রতি ফোকাস এবং মানসিক শক্তিকে আরও একটু রি-অ্যালাইন করার জন্য। নাম বদলালেই কেউ রাতারাতি স্টার হয়ে যায় না। আমাকে আগের মতোই খাটতে হবে। এটা শুধুমাত্র একটা নতুন জার্নি শুরুর মানসিক প্রস্তুতি।"
বারংবার নয়া সফরের কথা উল্লেখ করলেও নতুন জার্নি নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রেখেছেন তা বলাই বাহুল্য। কারও থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত? সায়কের সপাট জবাব, "আলাদা করে কোনও একজন ব্যক্তির থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নয় বরং আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায় যে এটা খুব স্বাভাবিক একটা প্র্যাকটিস। বিশ্ব সিনেমা থেকে শুরু করে বলিউড ও বহু কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বরা এটা করেছেন। শুধু তাই নয় তাঁরা নিজেদের কাজে সফল হয়েছেন। আমি তাঁদের কাজ এবং এই পরিবর্তনের পিছনের সাইকোলজি থেকে অনুপ্রাণিত।"
