নাগাল্যান্ডের লোকসংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার বিশ্বজনীন হর্নবিল ফেস্টিভ্যালের ধাঁচে এবার রাজ্যের উপজাতিরাও বড় উৎসব করতে চলেছে। তার জন্য সরকারকেও পাশে চায় তারা। সেখানে নিজস্ব পোশাক ও রীতি মেনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসে এই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর।
এখানে রাজ্যের ৩৫টি উপজাতির প্রতিনিধিই থাকবেন। একেবারে হর্নবিল ফেস্টিভালের স্টাইলে থাকবে নিজস্ব পৃথক স্টল। নিজেদের সংস্কৃতির অনুষ্ঠান। ট্র্যাডিশন্যাল পোশাকে নাচ-গান। তির-ধনুক, ধামসা মাদল থেকে শুরু করে সব কিছু। আদিবাসীদের সংগঠন ট্রাইবাল ইউনিটি ফোরামের সভাপতি আলিপুরদুয়ারের রুবেন রাভা জানান, "ইতিমধ্যে আমাদের উপজাতিদের উন্নয়নে বোর্ড গড়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে সরকার। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা আমাদের সংস্কার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে চাই। তাই এবার জাঙ্গিপাড়ায় এই উৎসবের আয়োজন।" উৎসবের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা স্থানীয় স্কুল শিক্ষক অরুণ সোরেন বলেন, "প্রতিটি উপজাতির মানুষ থাকবেন। আমন্ত্রিত এখানকার তিনজন বিধায়কও।"
সংগঠন সূত্রে খবর, দপ্তরের মন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে তিনি সেদিন সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থাকবেন। তাই সময় পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। রাজ্য বাংলাকে সরকারি কাজে আবশ্যিক করার পাশাপাশি সাঁওতালি-সহ কিছু উপজাতিদের ভাষাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এই আবহে তাঁদের ফোরামও বিভিন্ন দাবি তুলেছে। জানা গিয়েছে, কোচবিহারে চাকমা সম্প্রদায়ের বেশ কিছু মানুষ রয়েছেন। তাঁদেরও ফোরামে আনা হচ্ছে। জাঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠানে থাকার কথা চা-বাগান এলাকার অসুর সম্প্রদায়, প্রকৃতির পূজারি টোটোরাও। দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবন, জঙ্গলমহল তো থাকছেই। কোহিমা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে হর্ন ফেস্টিভ্যাল যেমন বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, তেমনই এখানকার উপজাতিরা চাইছেন নিজেদের ঐতিহ্য সামনে এনে নজর কাড়তে। ফলে সব কিছু ঠিক থাকলে জাঙ্গিপাড়ার অনুষ্ঠান রাজ্যে উপজাতিদের উৎসবে এক অন্য মাত্রা যোগ করতে চলেছে।
