সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ-নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। দেশভাগের প্রেক্ষিতে এই হৃদয়বিদারী প্রেমকাহিনী ইতিমধ্যেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে দর্শকদের তরফে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হতে, রাতারাতি লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। ছবির এক আবেগঘন দৃশ্যে দিলজিৎ সেইসব অশান্ত দিনে মানুষের দিনযাপন কেমন ছিল, তা বুঝতে হাজির হয় অমৃতসরের পার্টিশন মিউজিয়ামে। সিনেমা দেখতে দেখতে এই প্রশ্ন দর্শকদের মনেও জেগে ওঠাই স্বাভাবিক। এই মিউজিয়াম তাঁদেরকেও মুখোমুখি দাঁড় করাবে অতীতের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সঙ্গে।
অমৃতসরের ঐতিহাসিক টাউন হল ভবনের ভিতর ২০১৭ সালে দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় এই মিউজিয়াম।
অমৃতসরের ঐতিহাসিক টাউন হল ভবনের ভিতর ২০১৭ সালে দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় এই মিউজিয়াম। ব্রিটিশদের হাতে ভারত ভেঙে দু’টুকরো হওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণ করা রয়েছে এখানে। এই মিউজিয়ামে ১৪টি গ্যালারি রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেশভাগের ইতিহাস জানান দেয়। দেশভাগ-পূর্ববর্তী সময়ে শুরু হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতির দিকে দর্শকদের এগিয়ে নিয়ে যায় এই মিউজিয়াম। এখানে সাক্ষী হওয়া যায় সেসময়ের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, দেশভাগের সীমানা নির্ধারণ, অভিবাসন, শরণার্থী শিবির প্রভৃতির। এমনকী দেশভাগের পর নতুন করে জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে সাধারণ দেশবাসী যে সমস্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, তাও ধরা রয়েছে এইখানে।
মিউজিয়াম জুড়ে রয়েছে সীমান্ত পার হওয়ার সময় পরিবারগুলোর সঙ্গে আনা ট্রাঙ্ক, জামাকাপড়, বাসনপত্র, চিঠি, ছবি, গহনার বাক্স এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। অডিও এবং ভিডিও স্টেশনের মাধ্যমে দর্শকরা ১৯৪৭ সালের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে তাদের নিজেদের স্মৃতিকথা শুনতে পাবেন। প্রদর্শনী শেষে চোখে জল আসতে বাধ্য! অজান্তেই হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের মানুষদের সমব্যথী হয়ে যাবেন আজকের দর্শক।
এখানে সাক্ষী হওয়া যায় সেসময়ের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, দেশভাগের সীমানা নির্ধারণ, অভিবাসন, শরণার্থী শিবিরের।
কীভাবে পৌঁছবেন?
অমৃতসর বেড়াতে গেলে অতিঅবশ্যই এই সংগ্রহশালা রাখতে হয় পর্যটকের ঘুরে দেখার তালিকায়। শ্রী গুরুরাম দাসজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জায়গা। বিমানবন্দর থেকে ভাড়া করা ক্যাবে সহজেই যাওয়া যায় এখানে।
অমৃতসর জংশন স্টেশন থেকে দূরত্ব আরও কম, মাত্র ৩ কিলোমিটার। প্রায় একই দূরত্ব অমৃতসর সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে। পার্টিশন মিউজিয়ামের কাছেই অবস্থিত জালিয়ানওয়ালা বাগ এবং স্বর্ণমন্দির। তাই অমৃতসর গেলে, সারাদিনের সাইট সিয়িং-এর প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারবেন সহজেই।
