shono
Advertisement
India's largest wooden palace

৪০০ বছরের প্রাচীন কাঠের প্রাসাদে লুকিয়ে বহু ইতিহাস, দক্ষিণ ভারত ঘুরতে গেলে মিস করবেন না!

প্রাসাদে গেলে কী কী দেখতেই হয়?
Published By: Utsa TarafdarPosted: 06:45 PM Jun 18, 2026Updated: 06:45 PM Jun 18, 2026

ভারতের দক্ষিণে বেড়াতে গেলে সমুদ্রসৈকত, ব্যাকওয়াটার নদী, মন্দির তো দেখবেন অবশ্যই। সমুদ্রের বুক চিড়ে রামেশ্বরম ব্রিজ কিংবা সমুদ্র পেরিয়ে কন্যাকুমারীও অবশ্যই থাকবে পর্যটকের বাকেট লিস্টে। সেই তালিকাতেই এবার রাখতে পারেন এক প্রাসাদের নাম। যে-সে প্রাসাদ নয়, তামিলনাড়ুর এই অসামান্য স্থাপত্যের বয়স ৪০০ বছরেরও বেশি।

Advertisement

পদ্মনাভপুরম প্রাসাদটির অবস্থান কন্যাকুমারীতে হলেও এটি বর্তমানে কেরল সরকারের দায়িত্বাধীন। সাধারণত দক্ষিণ ভারতে যারা বেড়াতে আসেন, তাঁদের অনেকেই এই স্থাপত্যের কথা জানেন না। প্রাসাদটির বিশেষত্ব হল, তার সমস্তটাই কাঠের তৈরি! প্রাসাদের গায়ে খোদাই করা রয়েছে কাঠের মুরাল, ছাদ জুড়ে কাঠের কারুকাজ। মাটির তলায় রয়েছে গোপন সুরঙ্গপথও!

কে স্থাপনা করেছেন? কারাই বা রাজত্ব করত? জানতে হলে পৌঁছে যেতে হয় ১৬০১ সালে, যখন এটি ভেনাড রাজ্যের শাসনকেন্দ্র ছিল। পরবর্তীকালে মহারাজা মার্তণ্ড বর্মার শাসনামলে প্রাসাদটি আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হয়। ১৭৫০ সালে মার্তণ্ড বর্মা তাঁর সমগ্র রাজ্য ভগবান পদ্মনাভর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এরপর রাজধানীর নাম রাখা হয় পদ্মনাভপুরম, যার অর্থ 'ভগবান পদ্মনাভের আবাস'। ভগবান বিষ্ণুই দক্ষিণ ভারতে পদ্মনাভ নামে পরিচিত।

১৭৯৫ সালে রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে স্থানান্তরিত হওয়া পর্যন্ত এটি ত্রিভাঙ্কুর রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে এটি একটি সংগ্রহশালা হিসেবে সংরক্ষিত। চিরাচরিত মার্বেল অথবা কাচের বদলে এই প্রাসাদটির আসল ঐশ্বর্যই এর কাঠের কাজ। প্রতিটি দরজা, জানলা, দেওয়ালে দেখা যায় কাঠের সূক্ষ্ম নকশা। ভারতের সবচাইতে বড় কাঠের প্রাসাদ এটিই, জানান বিশেষজ্ঞরা। এমনভাবেই নির্মিত হয়েছে প্রাসাদটি যে তীব্র গরমেও এর ভিতরে প্রবেশ করলে রীতিমতো ঠান্ডা লাগে। খোলা উঠোন ও লম্বা বারান্দায় বাতাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রাসাদের সবচাইতে আকর্ষণীয় অংশ বুঝি এর চকচকে কালো মেঝে, শত শত বছর পেরিয়েও যা আয়নার মতো উজ্জ্বল। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি তৈরি করা হয়েছিল কাঠকয়লা, চুন, পোড়ানো নারকেলের খোল, বিভিন্ন গাছের রস প্রভৃতি মিশিয়ে। যদিও এর সমস্তটাই অনুমান।

প্রাসাদে গেলে দেখতেই হয়—

১। থাই কোট্টারাম (রানীমার প্রাসাদ)। এটি প্রাসাদের সবচেয়ে পুরোনো অংশ। শোনা যায়, এখানেই কোথাও রয়েছে লুকানো সুরঙ্গ।

২। রাজকীয় মন্ত্রশালা। এ ঘরের জানলা এমন কাঠ দিয়ে তৈরি, যা সূর্যের তাপকে ভিতরে আসতে দেয় না।

৩। ভালিয়া উট্টুপুরা (বৃহৎ ভোজনশালা)। রাজপরিবারের সমৃদ্ধি ও আতিথেয়তার পরিচায়ক এই কক্ষ। শোনা যায়, হাজার হাজার অতিথিকে বসানোর ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

৪। প্রাচীন ঘড়ি ঘর। প্রবেশদ্বারের কাছে অবস্থিত এই ঘড়িটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলছে।

এই প্রাসাদ দেখতে এলে, দেখে নেওয়া যায় কাছেই অবস্থিত উদয়গিরি দুর্গ, মথুর অ্যাকোয়াডাক্ট, সুচিন্দ্রম থানুমালায়ন মন্দির, কন্যাকুমারী প্রভৃতি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement