মেঘ-পাহাড়ের দেশ ভুটান। এবার বিশ্ব পর্যটনে বড়সড় চমক দিতে প্রস্তুত। ২০২৬ সালে থিম্পুতে আয়োজিত হতে চলেছে দেশের প্রথম ‘ভুটান ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল মার্ট’ (BITM)। জুন মাসের ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই মেলায় অংশ নেবে বিশ্বের নামী পর্যটন সংস্থাগুলি। কেবল সৌন্দর্য নয়, ভুটানের চিরকালীন ‘হাই ভ্যালু, লো ভলিউম’ নীতিকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘গেল্ফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’। রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের স্বপ্নের এই শহর ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে ভুটানের ভবিষ্যৎ পর্যটন। এই শহরটি কেবল পাথরের ইমারত নয়, বরং এটি আধুনিক ‘শান্তির নীড়’। এখানে থাকবে যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার সুব্যবস্থা। শহরের পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে। যেখানে প্রাধান্য পাবে সুস্থতা এবং স্থিতিশীলতা।
ছবি: সংগৃহীত
ভুটান সরকারের পর্যটন দপ্তর এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে ‘রিজেনারেটিভ ট্যুরিজম’ বা পুনরুৎপাদনমূলক পর্যটনের ওপর। অর্থাৎ, পর্যটন শুধু বিনোদনের জন্য নয়, তা যেন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। মেলার মাধ্যমে বিশ্বের পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে গেল্ফুর এই বিশেষত্বের কথা তুলে ধরা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার মিশেলে তৈরি এই মাইন্ডফুলনেস সিটি পর্যটকদের এক নয়া অভিজ্ঞতা দেবে। ছোট ছোট পাহাড় আর জঙ্গল ঘেরা এই অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য সাইক্লিং এবং হাঁটাপথকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই আন্তর্জাতিক মেলা ভুটানকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য ওয়েলনেস এবং সাস্টেইনেবল গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। ডুকপা রাজবংশের এই দেশে আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন দেখতে এখন থেকেই মুখিয়ে রয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
