মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের গ্রাম কালচিনি বনছায়া বসতি (Banchaya Basti)। সেখানে ছুটি কাটাতে এসে মুগ্ধ সুইডেনের পর্যটক। স্থানীয়দের আতিথেয়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে প্রায় বাকরুদ্ধ বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে থাকা আরও দু'জন। আগামী এপ্রিল মাসে তাঁরা ফের এই গ্রামে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। পর্যটকের আনাগোনা হলে বাড়বে আয়। বদলাবে এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। তাতেই বেজায় খুশি স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদীর বুক থেকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের দুই বনবসতি গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বসতিকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। ভুটিয়া বসতিতে মোট ৫১টি এবং গাঙ্গুটিয়া বসতিতে মোট ১৯১ টি পরিবারের বাস ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই তৎপর হয় বন প্রশাসন। প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সে বছরই ২২ ডিসেম্বর প্রত্যেক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের প্রথম কিস্তি সাড়ে সাত লক্ষ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। জয়ন্তী নদীর বুকে থাকা ভুটিয়া বসতি ও রায়মাটাং নদীর বুক থেকে গাঙ্গুটিয়া বসতির সরানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। প্রত্যেক পরিবারকে ৮ ডেসিমেল করে জমি দিয়ে কালচিনির ভাটপাড়া চা বাগানের পাশে নতুন গ্রাম তৈরি করে দেয় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী এই গ্রামের নাম রাখেন বনছায়া। সেই থেকে এই গ্রামকে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রাম বলেই চেনেন সকলে।
এখানে হোম স্টে , মুক্ত মঞ্চ-সহ একাধিক উন্নয়নের কাজ করে জেলা প্রশাসন। দেশি পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে এই গ্রামে। তবে এই প্রথমবার বিদেশি পর্যটক পা দিলেন এই গ্রামে। সুইডেন থেকে আসেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে একজন আবার ট্যুর এজেন্সির মালিক শেলবন্ড ল্যান্ড। স্থানীয়দের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া, নাচ, গান করে মুগ্ধ পর্যটকরা। শেলবন্ড ল্যান্ড বলেন, “দু'দিন আমরা বনছায়া গ্রামে ছিলাম। পাহাড়, জঙ্গল, চা বাগান, বন্যপ্রাণী নিয়ে এই গ্রাম অত্যন্ত সুন্দর। বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত এড়াতে শুনেছি বনের ভিতর থেকে দুই গ্রামকে তুলে এনে এখানে বসিয়েছে রাজ্য সরকার। অসাধারণ একটি উদ্যোগ। আমরা আবার এপ্রিলেই এখানে আসব।”
স্থানীয় বাসিন্দা রামকুমার লামা বলেন, “জেলা প্রশাসন পর্যটকদের কাছে এই গ্রামকে আকর্ষিত করে তোলার জন্য অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে নছায়া। এখানে তিন বিদেশি পর্যটককে আমরা যোগচর্চা শিখিয়েছি। ওঁদের গান আমরা শিখেছি। ওঁরা আমাদের সঙ্গে গান গেয়েছেন। এভাবে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান হয়েছে। আমরাও খুশি। ” এবার এলাকার আরও আর্থিক উন্নতি হবে, এই আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা।
