বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি, অথচ টিকিট কাটা হয়ে ওঠেনি? এমন মানুষ রয়েছেন, যাঁরা অল্প রাস্তা পার করতে হলে ভেবে নেন যে টিকিট না কাটলেও অসুবিধা হবে না। একান্ত সিট না জুটলে, ট্রেনের মেঝে, সিঁড়ি, অথবা ইঞ্জিনে বসে রাস্তাটুকু কাটিয়ে দেওয়া যাবে। আবার এমনও হতে পারে যে, পরিবারের কোনও নারী সদস্যের নামে টিকিট কাটা হয়েছিল। এখন সেই বার্থে ভ্রমণ করছেন কোনও পুরুষ সদস্য। জানেন কি, ধরা পড়লে রীতিমতো বড় অঙ্কের টাকা খসতে চলেছে এইবার!
ভারতীয় রেল (Indian Railways) চলতি জুলাই মাস থেকে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েছেন উল্লেখযোগ্যভাবে। ট্রেনে ভ্রমণ সংক্রান্ত অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে জুড়েছে জরিমানা। জনবিশ্বাস আইন, ২০২৬-এর আওতায় রেলওয়ে আইনের একাধিক ধারায় এই সমস্ত সংশোধন বিধান করা হয়েছে।
ট্রেনের সিঁড়িতে বসে যাত্রার অপরাধে দিতে হবে জরিমানা।
• বৈধ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করলে কী হবে?
যাত্রীর কাছ থেকে প্রযোজ্য ভাড়া তো আদায় করা হবেই, সঙ্গে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার ন্যূনতম পরিমাণ ৫০০ টাকা (অথবা কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিমাণ নির্ধারণ করবে)। তবে আগে যেখানে এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হত, এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
• ট্রেনের ছাদ, সিঁড়ি বা ইঞ্জিনের অংশে বসে ভ্রমণ করলে কী শাস্তি হবে?
রেলওয়ে আইনের ধারা ৬০(৩) অনুযায়ী, ট্রেনের ছাদ, সিঁড়ি, ইঞ্জিন বা বিপজ্জনক স্থানে ভ্রমণ করলে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে। তা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে তোলা হতে পারে। আদালত সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করতে পারে।
মহিলা কোচ বা বার্থ দখলের চেষ্টা করলেও জরিমানা দিতে হবে পারে।
• মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কোচ বা বার্থে পুরুষরা যাত্রা করলে কী শাস্তি হবে?
রেলওয়ে আইনের ধারা ১৬২ অনুযায়ী কোনও পুরুষ যাত্রী যদি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কোচে প্রবেশ করেন বা বার্থ জবরদখল করার চেষ্টা করেন, তাহলে ২,৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে রেলকর্মীরা তাঁকে ওই কোচ থেকেই সরিয়ে দিতে পারবেন। জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে আদালতে মামলা হতে পারে এবং আদালত সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। তবে উল্লেখ্য যে, এই ধারায় রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
এছাড়াও রেলওয়ে আইনের ধারা ৮৭(৩) অনুযায়ী, রেলের আবাসন বা অন্যান্য সুবিধার অপব্যবহার করলে আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা জরিমানা ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে তবেই আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
