পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে ইতিমধ্যে নামানো হয়েছে একটি বাষ্পচালিত হেরিটেজ টয়ট্রেনের ইঞ্জিন। বিধানসভা ভোটের আগে এবার ব্রিটিশ আমলের ১৪টি কামরা মেরামত করে লাইনে নামাতে উদ্যোগী হয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্যটকরা এখনও জানতে চান ব্রিটিশ আমলে কেমন করে টয়ট্রেন চলত। সেই বিষয় মাথায় রেখেই ওই অনুভূতি উপহার দিতেই এমন উদ্যোগ।
ডিএইচআর-এর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ব্রিটিশ আমলে টয়ট্রেন কেমন করে চলত সেটা জানতে চান। ওই কারণে তিনটি ব্রিটিশ আমলের স্টিম ইঞ্জিন মিউজিয়াম থেকে এনে মেরামত করে ট্র্যাকে নামানো হয়েছে। একটি সাফারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও দুটোকে সাফারিতে ব্যবহার করা হবে। এবার ইঞ্জিনের পাশাপাশি ব্রিটিশ আমলের কামরাও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৪টি পুরনো দিনের কামরা এক বছরের মধ্যে মেরামত করে পর্যটকদের উপহার দেওয়া হবে।
ঘুম স্টেশনে বাস্পচালিত ইঞ্জিন।
রেলের এমন উদ্যোগে খুশি রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু। তিনি বলেন, "টয়ট্রেনের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটকদের কাছে টয়ট্রেন একটা নস্টালজিক বিষয়। ডিএইচআর যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা সত্যি প্রশংসনীয়।" ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর বেঙ্গালুরু থেকে দার্জিলিংয়ে আনা হয় দুটি বাষ্পচালিত হেরিটেজ টয়ট্রেন ইঞ্জিন। আরও একটি ইঞ্জিন তিনধারিয়া ওয়ার্কশপে ছিল। সেটিকেও মেরামত করে ট্র্যাকে নামানোর চেষ্টা চলছে। এবার টয়ট্রেনের ১৪টি পুরনো দিনের কামরা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক বছরের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের কামরাগুলোকে ট্র্যাকে নামানো হবে। সেটাতে উঠে পর্যটকরা নস্টালজিক অনুভূতি পাবেন৷
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান জানান, টয়ট্রেন কেবল যাত্রী পরিষেবার যান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের প্রযুক্তি ও পাহাড়বাসীর শিল্পকলা সংবলিত কুইন অব হিলের ইতিহাস। এবার ব্রিটিশদের শিল্পকলা ইতিহাসের পাতা থেকে পর্যটকদের সামনে উঠে আসবে। ইতিমধ্যে পাহাড়ি বিছে টয়ট্রেনের স্টিম ইঞ্জিনের জায়গায় এসেছে ডিজেল ইঞ্জিন। পুরনো হিল স্টেশনগুলোকে মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক নতুন কামরা। কিন্তু বিদেশি পর্যটকদের কাছে পুরনো দিনের টয়ট্রেনের চাহিদা এখনও তুঙ্গে। ওই কারণে পর্যটকদের টয়ট্রেন ভ্রমণে কুইন অব হিলের ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ।
