গভীর নির্জন প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকা এক মন্দির। গর্ভগৃহে ঢুকলেই থমকে দাঁড়াতে হয়। পাথরের বিগ্রহটি চেনা কোনও দেব-দেবী বা অলৌকিক রূপকল্পের সম্পূর্ণ বাইরে—উদ্ভট গঠন, অস্বাভাবিক বড় মাথা আর কৌতুহলদ্দীপক চাহনি যেন অন্য কোনও জগত থেকে নেমে এসেছে। চিরাচরিত দেব-দেবীর বাইরে গিয়ে তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) সালেমে গড়ে ওঠা এই স্থানটি এখন এক নয়া বিস্ময়। এই মন্দিরে স্থান পেয়েছেন এক কাল্পনিক ‘ভিনগ্রহী দেবতা’।
ছবি: সংগৃহীত
মাটির নিচে এলিয়েন দেবতা!
বেশিরভাগ মন্দিরের চূড়া যেখানে নীল আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে, এখানে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। ভক্তদের নামতে হয় মাটির অন্তত ১১ ফুট গভীরে। এক অন্ধকারময় পাতালঘরে পরম শ্রদ্ধায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভিনগ্রহীর এক কাল্পনিক মূর্তি। স্থানীয় বাসিন্দা বোগানাথন এই বিচিত্র মন্দিরটি তৈরি করেছেন। তাঁর দাবি, এটি কোনও সায়েন্স ফিকশন বা সস্তার বিনোদন পার্ক নয়। বরং এ নাকি এক গভীর আধ্যাত্মিক স্থান। বোগানাথনের বিশ্বাস, মহাজাগতিক এলিয়েনরা আসলে শিবের প্রথম সৃষ্টি। মানুষের জন্ম ও সৃষ্টির রহস্যের সঙ্গে এদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ থেকেই এই মন্দিরের জন্ম।
তবে কেবল এলিয়েন নয়, এখানে স্থান পেয়েছে শিব, পার্বতী, মুরুগান এবং কালীর মূর্তিও। এমনকী নিয়ম মেনে করা হয় পুজোও। অর্থাৎ পৌরাণিক ভাবধারা আর ভিনগ্রহের কল্পবিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে একই ছাদের তলায়। যা সাধারণ দর্শনার্থীকে কেবল অবাকই করে না, ভাবিয়েও তোলে।
কোন আকর্ষণে পর্যটকরা?
প্রচলিত ভ্রমণসূচির বাইরে গিয়ে যাঁরা একটু অন্য স্বাদের অভিজ্ঞতার খোঁজ করেন, তাঁদের জন্য এই স্থানটি মোক্ষম। রহস্য, রোমাঞ্চ এবং কৌতুহলের এক অদ্ভুত মিশ্রণ অনুভব করতেই বহু পর্যটক ছুটে আসছেন এখানে। মাটির নিচে অন্ধকারের আবহে ছবি তোলা এবং এই অভিনব স্থাপত্য প্রত্যক্ষ করাই এখানকার মূল আকর্ষণ।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে যাবেন?
তামিলনাড়ুর সালেম শহরে পৌঁছানো বেশ সহজ। চেন্নাই বা বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেন অথবা সড়কপথে সালেমে আসা যায়। সালেম মূল শহর থেকে ক্যাব বা স্থানীয় অটো নিয়ে খুব সহজেই মল্লামুপ্পামপট্টিতে পৌঁছানো যায়। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রবেশমূল্যের কড়াকড়ি নেই।
