পাহাড়, নদী আর আধ্যাত্মিকতার মায়াবী ক্যানভাস হৃষিকেশ। সেখানেই যুক্ত হল এক নতুন রোমাঞ্চ। পুরনো লক্ষ্মণ ঝুলার স্মৃতি ছুঁয়ে বয়ে চলা গঙ্গা নদীর ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ভারতের প্রথম কাচের ঝুলন্ত ‘বজরং সেতু’। এই নয়া ঝুলন্ত স্কাইওয়াক এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ছবি: সংগৃহীত
১৩২ মিটার দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতুটি তৈরি করা হয়েছে পুরনো লক্ষ্মণ ঝুলার ঠিক কাছেই। ২০১৯ সালে নিরাপত্তার কারণে লক্ষ্মণ ঝুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারই বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে এই বজরং সেতু। এই সেতুর মূল স্তম্ভগুলি তৈরি করা হয়েছে কেদারনাথ মন্দিরের আদলে। একদিকে আধুনিক প্রযুক্তি, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপত্য—দুইয়ের অদ্ভুত মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে এই সাঁকো।
ছবি: সংগৃহীত
সেতুর অন্যতম মূল আকর্ষণ হল এর কাচের তৈরি স্কাইওয়াক। শক্ত ও মজবুত বহুস্তরের কাচ দিয়ে তৈরি হয়েছে এই দীর্ঘ পথ। হাঁটতে হাঁটতে একঝলকে পায়ের ঠিক নিচেই দেখা যাবে উত্তাল গঙ্গার জলরাশি। যেন নদীর ওপর ভেসে থাকার রোমাঞ্চকর অনুভূতি। তবে রোমাঞ্চের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকটিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছেন গোটা সেতু এলাকা।
ছবি: সংগৃহীত
কোথায় পাবেন এই সেতু?
হৃষিকেশের তপোবন ও লক্ষ্মণ ঝুলা সংলগ্ন এলাকায় এটি অবস্থিত। সেতুটি নদী পেরিয়ে যুক্ত করেছে দেরাদুন ও পৌড়ি গাড়োয়াল জেলাকে। ঐতিহাসিক রাম ঝুলা, পরমার্থ নিকেতন কিংবা বিখ্যাত সব ক্যাফে ও আশ্রমগুলি এই সেতুর খুব কাছেই অবস্থিত।
ছবি: সংগৃহীত
টিকিট ও সময়সীমা
সেতুর কাচের স্কাইওয়াকে ওঠার জন্য প্রবেশমূল্য ধার্য করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের দাম ১০০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য এটি খোলা থাকবে। তবে রওনা হওয়ার আগে সময়সূচির পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা আগেভাগে জেনে রাখবেন।
