shono
Advertisement
Tsungremmung Festival 2026

শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী সুংরেমুং উৎসব, বর্ষায় নাগাল্যান্ড ঘুরতে যাওয়ার আগে জানুন বিশেষত্ব

৩১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত চারদিন ধরেই চলবে উদযাপন। এটি আদতে আও নাগাদের সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন এবং আতিথেয়তারও এক অনন্য প্রকাশ।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 07:57 PM Jul 30, 2026Updated: 07:57 PM Jul 30, 2026

বর্ষায় নাগাল্যান্ডের সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ, এ কথা অবশ্য আলাদা করে বলে দিতে লাগে না ভ্রমণপ্রেমীদের। প্রকৃতির নিখাদ সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে এ সময় নাগাল্যান্ড যাওয়াই যায়। তবে একেবারে ভিন্ন রকমের এক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠতে চাইলে চলে যেতে হয় নাগাল্যান্ডের লংসা গ্রামে। কারণ ইতিমধ্যেই লংসা মেতে উঠেছে সুংরেমুং উৎসব উদযাপনে (Tsungremmung Festival 2026)।

Advertisement

৩১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত চারদিন ধরেই চলবে উদযাপন। এটি আদতে আও নাগাদের সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন এবং আতিথেয়তারও এক অনন্য প্রকাশ। সুংরেমুং আসলে ধান পাকার সময় ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। মে মাস নাগাদ মোআতসু (Moatsü) নামের যে বপন উৎসব পালিত হয়, সুংরেমুং তারই পরিসমাপ্তি। উৎসবের দিনগুলোতে সবাই একত্রিত হয়ে প্রার্থনা, ভোজ, লোকগান, লোকনৃত্য এবং সামাজিক মিলনমেলায় অংশ নেন।

উৎসবের প্রথম দিন সুংবেমুং (Süngbenmung)-এ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, দড়ি টানাটানির জন্য লতা জোগাড়, চাল ভাঙা, রান্নার প্রস্তুতি এবং বাড়িঘর সাজানো হয়। ইয়াতিমুং (Yatimung), অর্থাৎ মূল উৎসবের দিনে কোনও ধরনের শ্রমের কাজ করা হয় না। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কাজের শব্দ ঈশ্বরের আশীর্বাদকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই দিনটি কাটে ধর্মীয় আচার ও আনন্দের মধ্যে। শেষ দিন আইন লেনপি-তে গ্রামের যুবকেরা গ্রামের পথঘাট পরিষ্কার করেন। সন্ধ্যায় অগ্নিকুণ্ড ঘিরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন সূচনার বার্তা দেওয়া হয়।

আও লোককাহিনি অনুসারে, মেরাংশাং এবং সুংরেমুং নামে দুই ব্যক্তিকে ঘিরে এই উৎসবের সূচনা। মেরাংশাং লক্ষ্য করেন, তুলনামূলক কম পরিশ্রম করেও প্রতিবেশী সুংরেমুং প্রতি বছর ভালো ফলন পান। পরে তিনি জানতে পারেন, ফসল কাটার আগে সুমরেমুং ঈশ্বরের আশীর্বাদ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতার আচার পালন করতেন। সেই প্রথা অনুসরণ করে মেরাংশাংও সমৃদ্ধ ফলন লাভ করেন এবং পরে পুরো গ্রামে এই রীতি ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সেই প্রথাই উৎসবের রূপ নেয়।

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চুংলিয়িমতি এলাকার নিচে ফোটা সাদা সংসাবেন ফুলই উৎসবের আগমনের বার্তা দিত। সেই ফুল সবার প্রথম লংসা গ্রাম থেকে দেখা যেত বলেই সেখানকার বাসিন্দা আও সম্প্রদায়ের মধ্যে সবার আগে উৎসব শুরু হত।

২০০৬ সালে নাগাল্যান্ড সরকার লংসাকে 'ট্যুরিস্ট ভিলেজ' হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এটি নাগাল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে এসে আও নাগাদের জীবন্ত সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আন্তরিক আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement