তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত, এখনও নিরুদ্দেশ পরিচালক-চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়। স্বামীকে খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও আশার আলো দেখছেন না উৎসব পত্নী। পরিচালক-চিত্রনাট্যকার স্বামীকে খুঁজে পেতে এবার নয়া পদক্ষেপ স্ত্রীর। নিরুপায় মৌপিয়া অগত্যা সংবাদপত্রে নিরুদ্দেশ কলমে উৎসবের নিখোঁজ হওয়ার বিজ্ঞাপন দিলেন।
এক একটা করে দিন কাটছে আর উদ্বেগ বাড়ছে স্ত্রী মৌপিয়ার। পুলিশি তদন্তেও আর আস্থা রাখতে পারছেন না। নিরুদ্দেশ স্বামী উৎসবের জন্য পুলিশের কাজের গতি নিয়েও সন্ধিহান মৌপিয়া। তাই এবার ভরসা সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন। এই ঘটনা মৌপিয়ার মনের উপর গভীর চাপ সৃষ্টি করেছে। শারীরিক ও মানসিক অবস্থা একেবারেই স্থিতিশীল নয়। এই লড়াই কতদিন চালিয়ে যেতে পারবেন তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন নিখোঁজ পরিচালকের স্ত্রী।
মিসিং ডায়েরি করানোর পর পুলিশের তরফে প্রতিশ্রুতি পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন মৌপিয়া। কিন্তু, সেই আশা ক্রমেই বদলে গিয়েছে নিরাশায়। নিখোঁজ কলমে বিজ্ঞাপন যদি উৎসবকে ফিরিয়ে দিতে পারে সেই আশায় বুক বেঁধেছেন স্ত্রী মৌপিয়া।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই নিমতার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন উৎসব মুখোপাধ্যায়। ব্যাঙ্কে দাঁড়িয়েও দু-একবার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল উৎসবের। কিন্তু, তারপরই আচমকা ফোন সুইচ অফ! স্বামীর পথ চেয়ে বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন স্ত্রী, কিন্তু সময় গড়িয়ে গেসেও উৎসব আর ফিরলেন না।
ঘড়ির কাঁটায় সময় যত এগিয়েছে তখন দুঃশ্চিন্তা পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছে মৌপিয়াকে। সেই রাতেই থানায় ছুটে গিয়েছেন। মিসিং ডায়েরি করানোর পর পুলিশের তরফে প্রতিশ্রুতি পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন মৌপিয়া। কিন্তু, সেই আশা ক্রমেই বদলে গিয়েছে নিরাশায়। নিখোঁজ কলমে বিজ্ঞাপন যদি উৎসবকে ফিরিয়ে দিতে পারে সেই আশায় বুক বেঁধেছেন স্ত্রী মৌপিয়া।
স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পর সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে মৌপিয়া বলেছিলেন, “গত মে মাসে ওঁর মা গত হয়েছেন। তারপর হঠাৎ করেই বাবাও মারা যান। এই শোকটা ও আজও মেনে নিতে পারেনি। এছাড়াও অতীতে ঘটে যাওয়া সাইবার প্রতারণার বিষয়টাও ওঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সবসময় বলত, আমার ইমেজটা নষ্ট করে দিল। এর একটা প্রভাব কাজের দুনিয়াতেও পড়েছিল। তাই ভাবছি ও কী নিজে থেকেই কিছুদিন নিরিবিলিতে একাকী থাকতে চাইছে!
