যে জেলায় বিদ্রোহী কবির স্মৃতি এখনও ছড়িয়ে আছে, সেই জেলারই একাংশে এখন মাথা তুলেছে মাফিয়ারাজ। কালো পাথরের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে নানা অপরাধের গল্প। খনির অন্ধকারে যে কোন রহস্য দানা বেঁধে আছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। তবে দিনে দিনে মাফিয়ারাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে রাজনীতি! বাম, কংগ্রেসের ঘাঁটি ভেঙে তৃণমূল গড় তৈরি করা আগেই, ফুটে যায় পদ্ম। এই গড় থেকেই রাজনীতি শুরু বাবুল সুপ্রিয়র। তারপর ছোট নাগপুর মালভূমির বুকে বদলেছে নানা সমীকরণ। এসেছে অনেক উত্থান পতন। দূষণের ধোঁয়ায় যাঁদের নিশ্বাস আটকে যায়, তাঁদের জীবনে কে একটু অক্সিজেন জোগাবে, সেই হিসেবই কষছেন পশ্চিম বর্ধমানের মানুষ।
জেলা ছিল একটাই, বর্ধমান। প্রকৃতি-পরিবেশের পার্থক্য থাকায় আর প্রশাসনিক কাজের কথা মাথায় রেখে ২০১৭ সালে জেলা ভেঙে তৈরি হয় পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমান। পূর্ব কিছুটা নির্মল আর পশ্চিম রুক্ষ। পূর্বের মাঠে ফলে 'সোনা' আর পশ্চিমে খনি। সেই খনিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে জীবন, অর্থনীতি থেকে রাজনীতি। কে বৈধভাবে কয়লা উত্তোলন করে আর কে অবৈধভাবে, তা বোঝা কঠিন। 'কেলেঙ্কারির' সেই কয়লাই কি এবার ঠিক করবে আসানসোল-দুর্গাপুরের ভাগ্য? অঙ্ক কী বলছে?
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজ্যে পদ্মের প্রবেশ যে কয়েকটি কেন্দ্রের হাত ধরে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসানসোল। বাংলার প্রথম একক বিজেপি সাংসদ হিসেবে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। দেশে তখন মোদি-হাওয়া। সেই ২০১৪-তে নরেন্দ্র মোদির পা পড়েছিল আসানসোলেও। বিশ্লেষকরা বলেন, অবাঙালি ভোটের (West Bengal Assembly Election) অঙ্কেই এই অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। সাংসদ হয়েছিলেন মুম্বইয়ের তারকা সঙ্গীতশিল্পী বাবুল। ২০১৯-এ প্রাপ্তির হার আরও একটু বাড়িয়ে নেন তিনি। আবার সাংসদ। কিন্তু যে আনকোরা রাজনীতিকের হাত ধরে খনি-সাম্রাজ্যে পদ্ম ফুটল, মুখ ফেরালেন তিনিই। বাবুল বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই খেলা ঘুরতে শুরু করে আসানসোলে।
একসময় বাম নেতা বংশগোপাল চৌধুরী যে সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন, বাবুলের পরে সেখানে তৃণমূল তাঁদের অন্যতম হেভিওয়েট সদস্যকে ময়দানে নামায়। বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলের মন্ত্রী শত্রুঘ্ন সিনহার মতো ওজনদার প্রার্থী পেয়ে পদ্মমুখী আসানসোল বেছে নেয় ঘাসফুলকেই। ২৪-এর লোকসভার ফলাফলে বিজেপির হাত থেকে দুই কেন্দ্রই চলে যায় তৃণমূলের হাতে। দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকেও ফিরে যেতে হয় খালি হাতে। বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ পেয়ে যান সহজ জয়। তবে বিহারীবাবুই হোক বা আজাদের ক্যারিশমা, তলে তলে পুরনো ঘাঁটিতে বিজেপি কোন জাল বিছোচ্ছে, তা বলা কঠিন! তবে পদ্মঘাঁটিতে যে তৃণমূলের উত্থান ঘটেছে তা গত ফলাফলগুলিতেই স্পষ্ট! যদিও ভোটের আগে জেলার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা মলয় ঘটকের নাম দুর্নীতিতে উঠে এসেছে। তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে? থাকছে প্রশ্ন।
কোথায় কার জোর বেশি
এ এমন এক জেলা যেখানে পূবে তৃণমূল কংগ্রেস তো পশ্চিমে বিজেপি। দক্ষিণে বিজেপি তো উত্তরে তৃণমূল। তাই সম্ভাবনা দু'পক্ষেরই। একসময় বংশগোপাল চৌধুরী, জাহানারা খানরা ছিলেন বামেদের দাপুটে নেতা-নেত্রী। তবে একসময় যে কংগ্রেসের উপস্থিতিও যে ছিল, সে কথা আজও বেশ মনে করতে পারেন এলাকার বাসিন্দারা। জামুরিয়া, বারাবনী, দুর্গাপুর পূর্বে কংগ্রেসের ঘাঁটি ভেঙে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন বামেরা। তবে বাম-কংগ্রেস এখন অতীত।
একুশের বিধানসভা ভোটের ফলাফলে আতসকাচ রাখলেই বোঝা যাবে। যে সব জায়গায় তৃণমূল জয়ী হয়েছে, সেখানেও ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি। পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূল জিতলেও বিজেপির জিতেন্দ্র তিওয়ারি মাত্র ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। এবার প্রচারে এসে অমিত শাহ বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, জিতেন জিতলে মিলবে বড় পুরস্কার। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল এখানে লিড বাড়িয়ে নিয়েছে ২০,০৩৫ ভোটে। অর্থাৎ গত ৩ বছরে এই কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের দাপট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৬-এর ভোটেও এই কেন্দ্রে ঘাসফুলের দাপট থাকতে পারে বলে জোর সম্ভাবনা।
দুর্গাপুর পূর্বে তৃণমূলের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বনাম সিটুর জনপ্রিয় নেতা সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়ের লড়াইতে লাভবান হবে তৃণমূল। জয়ের মুখ দেখতে না পারলেও বামেদের রামের ঝুলিতে যাওয়া ভোট কিছুটা হলেও ফেরাতে পারবে সিপিএম। বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জান লাগিয়ে প্রচার করলেও এই বিধানসভার তিনটি পঞ্চায়েত কাঁকসার আমলাজোড়া, গোপালপুর ও মলানদিঘিতে পিছিয়ে তিনি। দুর্গাপুর পশ্চিমে একদিকে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিতে নবাগত, এডিডিএয়ের চেয়ারম্যান তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত অন্যদিকে বিজেপির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও গতবারের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। সিপিএম প্রার্থী দুর্বল হওয়ায় পদ্মে যাওয়া বাম ভোট এই কেন্দ্রে ফেরার আশা অনেক কম। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তৃণমূল-বিজেপির।
২০১৬ সালে তৃণমূল জমানাতেও কয়েকটি কেন্দ্রে বামেদের ভোটবাক্স ভরে গিয়েছিল। যেমন রানিগঞ্জ। আর জামুরিয়ায় দু'বারের বিধায়ক জাহানারা খানকে সবুজ ঝড়ও দমাতে পারেনি। সিপিএমকে হারিয়ে প্রথমবার তৃণমূল ক্ষমতা পায় ২০২১-এ। বামেরা প্রার্থী করেছিলেন জেএনইউ-র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ঐশি ঘোষকে। তাই বামেদের সংগঠনও এই কেন্দ্রে তৃণমূলের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। বামেদের ভোট (West Bengal Assembly Election) শতাংশ এখানে বেশি হলেও আপাতত জামুরিয়া তৃণমূলের হরেরাম সিংয়ের শক্ত ঘাঁটি। শ্রমিক স্বার্থ এবং সিঙ্গারণ নদীর দূষণ এখানকার মানুষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ।
দুর্গাপুর পশ্চিমে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক লক্ষণচন্দ্র ঘোরুইকেই আবারও প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। সেই কেন্দ্রে এবার প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। আসানসোল দক্ষিণে খুব সামান্য ভোটের জন্য ফিরে যেতে হয়েছিল সায়নী ঘোষকে। এবার সেখানে অগ্নিমিত্রা পলকে চ্যালেঞ্জ করছেন তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে অগ্নিমিত্রাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষোভ রয়েছে। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভও হয়েছে। এই ক্ষোভকেই কাজে লাগাতে পারে তৃণমূল। পানীয় জলের সমস্যা এবং দামোদরের উপর স্থায়ী সেতুর দাবি এখানে প্রধান নির্বাচনী ইস্যু। তবে আসানসোল উত্তর ঘাসফুলের শক্ত ঘাঁটি। পরপর তিনবারের ভোটে মলয় ঘটক অপরাজেয়। বিজেপি সেখানে অনেক পিছনে। তবে দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পরও সংগঠনকে চাঙ্গা রেখেছেন মলয় ঘটক। তাই হাওয়া আদৌ ঘুরবে কিনা, সময় বলবে।
নজরে যাঁরা
'বিধায়ক হওয়ার পর থেকে জিতেনকে এলাকায় দেখা যাইনি। এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে আমিই সর্বদা পাশে থাকি।' বলছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। আর আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলছেন, 'নরেনের চরম দুর্নীতি, উন্নয়নের নামে সরকারি টাকা লুঠ ও ভয়াবহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবার এককাট্টা হয়েছে পাণ্ডবেশ্বর। মানুষের ভোট এবার সব পদ্মে।' দুর্গাপুর পশ্চিমে তৃণমূলের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বনাম সিটুর জনপ্রিয় নেতা সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়ের লড়াইতে নজর থাকবে সবমহলের। অবশ্যই নজরে থাকবেন তৃণমূলের হেভিওয়েট মলয় ঘটক। কুলটিতে টিকিট পেয়েছেন তাঁর ভাই অভিজিৎ ঘটকও। অন্যদিকে, আসন ধরে রাখতে ময়দানে নেমে পড়েছেন আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল।
কয়লা কেলেঙ্কারি
এলাকায় মাফিয়া কারা? বোঝা মুশকিল। তবে বাসিন্দারা কেউ কেউ বলেন, পেশীশক্তি দেখাতে সব দলের নেতাদের সঙ্গে মাফিয়াদের ঘনিষ্ঠতা আছে। কেউ আবার বলেন, 'টাকা তো দেয় ওরাই। সবাই জানে।' এসব আসানসোলবাসীর কাছে জল-ভাত। তবে ২০২১-এর নির্বাচনের ঠিক আগে তৎপর হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কয়লা পাচার মামলায় শুরু হয় ধরপাকড়। সেই তদন্তের জের চলছে এখনও। পাচার-কাণ্ডের মূল পাণ্ডারা গ্রেপ্তার হয়েছেন আগেই। তবে মনে রাখা দরকার, কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে তৎপরতা শুরু হওয়ার অনেক আগেই পশ্চিম বর্ধমানে পদ্ম ফুটতে শুরু করে দিয়েছিল। বরং কয়লা কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর ২০২৪-এ বিজেপির হাতে থাকা দুই আসনই ঘাসফুলে ভরে যায়। এবারও কি সেই ট্রেন্ডই বজায় থাকবে?
- ফ্যাক্টর ১- দূষণ
জেলার একটা বড় অংশে নিশ্বাস নেওয়াই দায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলছেন, 'মাঝে মাঝে বড্ড কষ্ট হয়। সব জায়গায় বলা হয়েছে। কেউ কথাই শোনে না।' অনেক বিক্ষোভ-প্রতিবাদেও কোনও লাভ হচ্ছে না। আসানসোলে বছরে গড়ে ৬ থেকে ১০ শতাংশ হারে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে। আসানসোল পুর এলাকার মধ্যে জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, আসানসোল ও কল্যাণেশ্বরী–দেন্দুয়া এলাকায় দূষণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০০০ সালে যেখানে একিউআই ছিল ১০৬, সেটা গত বছর ১৫৭ তে পৌঁছেছে। কারখানাগুলির তরফ থেকে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠেছে বারবার। খোলা মুখ খনির দূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
- ফ্যাক্টর ২- আতঙ্কের খোলা-মুখ খনি
২০১৭-র অক্টোবর। জামুড়িয়ার শিবডাঙা খোলামুখ খনিতে পাথর কুড়োতে গিয়ে মৃত্যু হয় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের। পাথর চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তার। বাঁকশিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বেশ মনে করতে পারেন, বছর কয়েক আগে এক সকালে আচমকাই বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে তাঁর। বেরিয়ে দেখেন রাস্তায় ফাটল। গত বছর জামুরিয়ায় প্রায় ১২০ ফুট গভীরে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় এক যুবকের। কুলটি থেকে রানিগঞ্জ, বিপদের আশঙ্কায় প্রহর গোনেন বাসিন্দারা। ধস-ফাটল-মৃত্যুর ঘটনায় বারবার আঙুল ওঠে ইসিএলের দিকে। কিছু ঘটলে নেতারা ছুটে যান ঠিকই, তবে পরিস্থিতি পালটায় না। ধস প্রবণ এলাকায় পুনর্বাসন না হওয়ার ক্ষোভ রয়েছে।
- ফ্যাক্টর ৩- পাইপ আছে, জল নেই
'জল পাই কোথায়'! খনি এলাকায় এ যেন চিরন্তন প্রশ্ন। রানিগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায় জল-সমস্যা মেটাতে বহুবার রাস্তা অবরোধ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। পাণ্ডবেশ্বরের কেন্দ্রা ও বৈদ্যনাথপুর, কেন্দ্রা পঞ্চায়েত এলাকায় জলের সমস্যা আরও তীব্র। নদীর বালি খুঁড়ে জল সংগ্রহ করতে হয়, এমন অভিজ্ঞতাও রয়েছে বাসিন্দাদের। শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও গরম পড়লে এলেই পাণ্ডবেশ্বরের কেন্দ্রা, বৈদ্যনাথপুর বা কেন্দ্রা পঞ্চায়েত এলাকায় পানীয় জলের হাহাকার শুরু হয়। ইসিএলের পাইপ লাইন কিংবা জলাশয় থাকলেও, জল মেলে না বলে অভিযোগ। রাজ্য ও কেন্দ্রের জল প্রকল্পের সুবিধা কতটুকু মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে। তাই প্রার্থীদের কাছে একটা বড় প্রত্যাশা এই পানীয় জল।
এছাড়া ইস্পাত নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আবাসন লাইসেন্স নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ইতিমধ্যে ভোট প্রচারে এসে অমিত শাহ এই সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন। দুর্গাপুর পশ্চিমে ছোট বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি শিল্প সংস্থা রয়েছে। সেখানে বহিরাগতদের টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের চরম ক্ষোভ রয়েছে।
- ফ্যাক্টর ৪- জাতিগত ও ভাষাগত মেরুকরণ:
হিন্দিভাষী এবং আদিবাসী ভোটারদের সংখ্যা বেশি পাণ্ডবেশ্বরে। এছাড়াও এই জেলায় অন্যান্য জেলার তুলনায় হিন্দিভাষী ভোটারের আধিক্য রয়েছে। এই বড় ভোটব্যাঙ্ক যেদিকে ঝোঁকে, জয় সেদিকেই নিশ্চিত হয়। ২০২১-এ এই ভোটব্যাংকের একটা বড় অংশ বিজেপির দিকে থাকলেও ২০২৪-এ তৃণমূল তা পুনরুদ্ধারে সফল হয়েছে। পদ্মের হাওয়া যে এই জেলায় ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট। বিশেষত বিজেপির হাতে থাকা এলাকাগুলিতে যেভাবে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেই ফাঁকটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। এরই মধ্যে চাপ বাড়িয়েছে এসআইআর। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভায় প্রায় পাঁচ হাজার এবং আসানসোল উত্তর বিধানসভায় ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যা বিজেপির প্রতি ক্ষোভ এবং শাসকদলের প্রতি আস্থা বাড়াবে বলেই মত রাজনৈতিকমহলের।
